ধর্ষণের ‘বাজার’ যেনো রমরমা : নভেম্বরে ধর্ষণের ঘটনা – ১০৭টি

প্রকাশিত: ২:৩৭ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৯, ২০১৭

Sharing is caring!

ক্রাইম ডেস্ক : সমালোচনার গা ভাসিয়ে ধর্ষণের ‘বাজার’ যেনো রমরমা। পূর্বের ধারাবাহিকতায় ধর্ষণের মতো এই জঘন্যতম অপরাধের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে চলেছে। সেইসাথে যোগ হয়ছে অপরাধের ধরণে পৈশাচিকতার নানান সব নিকৃষ্টতা। ‘আইনের বৈষম্যতা ও সহিংসতা প্রতিরোধের অভাব’ বিষয়টিকে প্রাধান্যে রেখে নিজেদের মন্তব্য নিয়ে সমালোচিত হচ্ছেন নারীবাদী ও মানবধিকারকর্মীরা।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের দেয়া তথ্য মোতাবেক চলতি বছরের নভেম্বর মাসে ১০৭ টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। যার মধ্যে ধর্ষণের পর আবার হত্যা করা হয়েছে ২ জনকে। গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ১৩ জন এবং ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ১১ জনকে।
মহিলা পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে (নভেম্বর) ৪২৭ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বিভিন্ন কারণে ৪২ জন নারী ও কন্যাশিশুকে হত্যা করা হয়েছে। তার বাইরে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে ৪ জনকে এবং অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ২৩টি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইম্যান এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের এসোসিয়েট প্রফেসর একইসাথে মানবধিকার কর্মী তানিয়া হক বলেন, ‘সবকিছুই ফাইজলামির অংশ, জাস্ট ফাইজলামি। ধর্ষণ বেড়ে যাচ্ছে তার জন্য শুধুমাত্র দায়ী হল, ‘সমাজের ফাইজলামি, পুরুষের ফাইজলামি’। আর বোকা নারীদের অক্ষমতা, ব্যর্থতা। নারীদের উন্নয়ন দরকার, মানসিক-আর্থিক উভয়দিকেই। উন্নত মানসিকতার নারী কারোর দ্বারা লাঞ্ছিত হয়না, মুখ থুবরে পড়ে থাকেনা। নারীদের উন্নতির জন্য পরিবার থেকে সমাজ, গোটা বিশ্বের সহযোগিতা প্রয়োজন। নারীদের সীমাবদ্ধতার মধ্যে রেখে এই সমাজ যে ফাইজলামী করতেছে সে ফাইজলামী বন্ধ করতে হবে’।
চলতি বছরের নভেম্বর মাস নিয়ে, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের দেয়া বিজ্ঞপ্তিতে যে তথ্য দেয়া হয়েছে, তা বলছে: ‘যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হওয়া ২১ জনের মধ্যে ৯ জনকে হত্যা করা হয়েছে। উত্ত্যক্তের শিকার হয়েছেন ১৭ জন, যেখানে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন ৪ জন। ৬০টি বাল্যবিবাহের চেষ্টা প্রতিরোধ করা হয়েছে এবং বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছে চারজন। অন্যান্য কারণে মাসটিতে ৪৯ জন আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। ২৯ জনের রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মাসটিতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১৫ জন। বেআইনি ফতোয়ার ঘটনা ঘটেছে ৩টি এবং অ্যাসিডদগ্ধের শিকার ২ জনের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে’।
মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপপরিষদে সংরক্ষিত ১৪টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এ তথ্য দিয়েছে সংগঠনটি।
দীর্ঘদিন করে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করে আসা মানবধিকারকর্মী, এডভোকেট ইশতিয়ার তাহের জানান, ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন আইনের বৈষম্যতা্র কারণেই ধর্ষণ কিংবা নারীর প্রতি সহিংসতাগুলো বেড়ে চলেছে। আইনের মাধ্যমে সুবিচার পাওয়া ‘ভুক্তোভোগীর’ সংখ্যা আসলেই অপ্রতুল যা খুবই দুখজনক।
তিনি আরো বলেন, ‘এইতো কিছুদিন আগে শোনা যাচ্ছিলো বাসের মধ্যে একদল পশু নারীদের জামা কেটে দিচ্ছে। সামাজিক মাধ্যম থেকে কিছুটা, এর ওর থেকে কিছুটা শুনে বিষয়টা সম্পর্কে জানলামও। অথচ আইনী ব্যবস্থা নেয়ার আগেই ঘটনার পাথেয় খোঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা আর। লিখিত কোনো মামলাও না। যদিও শোনা যায়, কলাবাগান থানায় মিরপুরের একজন ভুক্তভোগী জিডি করেছেন বলে জানতে পেরেছিলাম। এভাবে আইনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে যদি অপরাধীরা বেঁচে যায় তবে আমি বলবো, ধর্ষণের বেড়ে যাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হলো আইনের ফোঁকর’।
এভাবে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধের অভাব, আইনের বৈষম্যতা এবং সচেতনতার অভাবের ফলেই ধর্ষণের আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন লোকচক্ষুকে ভাবিয়ে মারছে।

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

December 2017
S S M T W T F
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares