সিলেট | |
প্রকাশিত: ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৫, ২০২৬
বিশেষ প্রতিবেদক :: তৃণমূল থেকে গড়ে ওঠা রাজপথের পরীক্ষিত নেতৃত্বকে মুল্যায়ন করা হবে-এমনটাই প্রত্যাশা থাকে প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মীর। কিন্তু সিলেটের রাজনীতিতে ত্যাগ ও আনুগত্যের উপযুক্ত প্রতিদান পাওয়া তো দূরের কথা, অবমূল্যায়নের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠছে গোয়াইনঘাটের জনপ্রিয় নেতা, সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও বর্তমান উপদেষ্টা আবদুল হাকিম চৌধুরীকে ঘিরে। তৃণমূল কর্মীদের প্রশ্ন-দলের সর্বস্তরে ত্যাগী ও বঞ্চিত নেতাদের পুনর্বাসন ও মুল্যায়ন করা হলেও ‘চৌধুরী সাহেব’ খ্যাত আব্দুল হাকিম চৌধুরী কেন আজও বঞ্চিত?
আব্দুল হাকিম চৌধুরী কেবল কোনো সাধারণ পদধারী নেতা নন; তৃণমূল বিএনপি থেকে উঠে আসা একজন গণমানুষের প্রতিনিধি। তিনি ১৯৯২ থেকে ১৯৯৮ পর্যন্ত সফলতার সঙ্গে নন্দিরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। পরবর্তীতে সীমান্ত জনপদ গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের দুই দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যখন সারা দেশে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা হামলা-মামলা ও নির্যাতনে কোণঠাসা, সর্বত্র একচ্ছত্র আধিপত্য, তখনো বিপুল ভোটে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তিনি। তৎকালীন চরম প্রতিকূলতার মধ্যেও উপজেলা পরিষদ কার্যালয়কে বিরোধী দলের নিপীড়িত নেতাকর্মীদের ভরসাস্থল ও নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত করেছিলেন এই নেতা।
সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেট-৪ আসনে (গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর) বিএনপির শক্ত ও হেভিওয়েট মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন আব্দুল হাকিম চৌধুরী। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগ ও তৃণমূলের জনপ্রিয়তার কারণে আসনটিতে দলের দলীয় মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সমীকরণের রদবদলে আসনটিতে অন্য এলাকা থেকে প্রার্থী নিয়ে আসা হলে হাকিম চৌধুরীর মনোনয়ন হাতছাড়া হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ওই নির্বাচনে হাকিম চৌধুরী যদি স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়ে যেতেন, তবে ওই আসনে ভোটের চরম মেরুকরণ ঘটে দলের নিশ্চিত পরাজয় ঘটতো। কিন্তু তিনি নিজের পদ-পদবি বা ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে দলের শৃঙ্খলা ও ঐক্যকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সব কষ্ট বুকে চেপে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তকে মাথা পেতে মেনে নিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন এবং দলের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
বর্তমানে দলের দুঃসময়ের ত্যাগী ও বঞ্চিত নেতাকর্মীদের নানা পদে পদায়ন করে যথাযথ মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন করা হচ্ছে। কিন্তু যে নেতা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিটি রাজনৈতিক সংকটে দলকে পাহারা দিয়েছেন, নিজের সুনিশ্চিত সংসদীয় সম্ভাবনা বিসর্জন দিয়ে দলের অনুগত থেকেছেন, সেই আবদুল হাকিম চৌধুরী এখনো কেন উপেক্ষিত?
গোয়াইনঘাট ও সিলেটের স্থানীয় সাধারণ কর্মীরা মনে করছেন, রাজপথের এমন আত্মত্যাগী ও নিবেদিতপ্রাণ নেতৃত্বকে যথাযথ পদে অধিষ্ঠিত না করলে দলের প্রতি অনুগত থাকার যে শিক্ষা, তা ক্ষুণ্ণ হবে। বিএনপির হাইকমান্ড দ্রুত এ বিষয়ে দৃষ্টি দিয়ে চৌধুরী সাহেবের দীর্ঘ রাজনৈতিক ত্যাগের যোগ্য মূল্যায়ন করবে-এমনটাই এখন সিলেট জেলা ও গোয়াইনঘাট বিএনপির সর্বস্তরের তৃণমূল কর্মীদের প্রত্যাশা।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd