সিলেট | |
প্রকাশিত: ২:৫০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট নগরীর রায়নগর রাজবাড়ি আবাসিক এলাকায় ঘটে যাওয়া আলোচিত নির্মম ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় পুলিশি তদন্তের অগ্রগতি এবং উদ্ধার করা তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নগরবাসীর মনে তীব্র ক্ষোভ ও গভীর সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও সচেতন নাগরিকদের মতে, গ্রেপ্তারকৃত আসামির স্বীকারোক্তি ও উদ্ধার করা আলামতের সাথে অপরাধবিজ্ঞানের স্বাভাবিক সূত্রের কোনো মিল নেই। এটি সাধারণ কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড বা পরকীয়াঘটিত সংঘাত নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত ও গভীর চক্রান্ত বলে দাবি করছেন স্থানীয়রা।
ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং গৃহকর্মী তাহমিনা বেগম হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেওয়া ব্যাখ্যা নিয়ে সচেতন নাগরিকরা কয়েকটি বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন।
অবাস্তব সময়ের দাবি: সকাল সাড়ে ৯টার মতো একটি ব্যস্ত ও জনবহুল সময়ে শারীরিক সম্পর্ক বা প্রেমের উদ্দেশ্যে আসার যে দাবি করা হচ্ছে, তা মোটেও বাস্তবসম্মত নয়।
ধারালো অস্ত্রের উপস্থিতি: প্রেমের উদ্দেশ্যে এলে সাথে আগে থেকেই রক্তপাত ও খুন করার উপযোগী ধারালো ছুরি বহন করার কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
আলামত ফেলার বৈপরীত্য: অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটানোর পর রক্তের দাগ যুক্ত ছুরিটি বাসার ঠিক পাশের খালি জায়গায় ফেলে রেখে যাওয়া কোনো ‘ঠান্ডা মাথার খুনি’র আচরণের সাথে মেলে না।
ঘটনার পরও এলাকায় অবস্থান: ট্রিপল মার্ডারের মতো এত বড় অপরাধ সংঘটিত করার পরও গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত আসামি একই পাড়া বা মহল্লায় নিশ্চিন্তে অবস্থান করাটা অত্যন্ত রহস্যজনক।
সহজ স্বীকারোক্তি: আটক হওয়ার পরপরই এত বড় নৃশংসতার গল্প পুলিশের কাছে অবলীলায় হুবহু বলে দেওয়া কোনো পেশাদার অপরাধীর মানসিকতার সাথে মানানসই নয়।
দলিল গায়েবের রহস্য: সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে যে, আগামী সপ্তাহে ওই দম্পতির জমিজমা সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় হওয়ার কথা ছিল। ঠিক এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই সেই মামলার মূল দলিল ও কাগজপত্র কিভাবে ঘর থেকে হাওয়া হয়ে গেল?
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো বাস্তব হত্যাকাণ্ডের চিত্র সিনেমার ফাইট দৃশ্যের মতো সাজানো হয় না—যেখানে একের পর এক মানুষ সামনে আসবে আর খুন হবে। একটি সুপরিকল্পিত অপরাধকে আড়াল করতে এটিকে ‘পরকীয়াঘটিত সংঘাত’ বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে মূল অপরাধীরা অধরাই থেকে যাবে।
সিলেটের সচেতন জনগণ জোরালো দাবি জানিয়েছেন, কোনো সাজানো নাটকের ওপর ভিত্তি করে যেন তাড়াহুড়ো করে তদন্ত শেষ করা না হয়। জমিজমা ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল গায়েবের মতো বিষয়গুলোকে মূল ক্লু হিসেবে ধরে নিবিড় ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত মাস্টারমাইন্ডদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানাচ্ছেন নগরবাসী।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd