সিলেট | |
প্রকাশিত: ১০:৫০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
সিলেট নগরের বালুচর এলাকার ঐতিহাসিক ‘করিমউল্লাহ টিলা’ অবৈধভাবে কাটার অভিযোগে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে শাহপরান (রহ.) থানায় একটি পরিবেশগত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. মামুনুর রশিদ বাদী হয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (২০১০ সংশোধিত)-এর অধীন মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বালুচরের সাদিপুর ১ম খণ্ড মৌজায় অবস্থিত এস.এ. ১৭২ নম্বর খতিয়ানের ৬৩ নম্বর দাগের টিলাটি স্থানীয়ভাবে ‘করিমউল্লাহ টিলা’ নামে পরিচিত। গত ২০ এপ্রিল পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো প্রকার ছাড়পত্র বা অনুমোদন ছাড়াই টিলাটির একাংশ কেটে মাটি অপসারণ করা হয়। মামলায় অভিযুক্ত ১১ জন আসামি হলেন— উত্তর বালুচরের জালাল উদ্দিন (৫৬), জাহাঙ্গীর মিয়া (৫৮), মোশারফ আলী (৫৫), শাকির আহমদ (৫৩), ইউসুফ আলী (৫৭), নাজমুল (৪১), শহীদুল আলম (৪৭), জাকির হোসেন (৪৪), জসিম উদ্দিন (৫৮), জামাল উদ্দিন (৪২) ও কামাল (৪১)।
ঘটনাক্রম ও আইনি ব্যবস্থার বিষয়ে জানা যায়, টিলা কাটার ঘটনার পর পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট জেলা কার্যালয় সরেজমিনে স্থানটি পরিদর্শন করে এবং ‘এনফোর্সমেন্ট মামলা (নং ৮৪/২০২৬)’ দায়ের করে। পরবর্তীতে গত মে মাসে অভিযুক্তদের দুটি শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার জন্য নোটিশ পাঠানো হলেও তারা উপস্থিত হননি। প্রশাসনিক শুনানিতে সাড়া না দেওয়ায় পরিবেশ অধিদপ্তর নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়েরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৬খ ধারা অনুযায়ী, সরকারি রেকর্ডে উল্লেখিত কোনো পাহাড় বা টিলা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ আইনের ১৫(১) ধারায় উল্লেখ রয়েছে— পাহাড় বা টিলা কাটার প্রথম অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা (অথবা উভয় দণ্ড) হতে পারে। পুনরায় একই অপরাধ করলে শাস্তির মেয়াদ বাড়িয়ে ২ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
শাহপরান (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মামলা রেকর্ড করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান।-বিজ্ঞপ্তি
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd