সিলেট | |
প্রকাশিত: ১:২৬ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটে নিজের স্ত্রীকে নির্যাতন করে এক সাথে দুই প্রেমিকাকে নিয়ে হোটেলে রাত কাটানোর অভিযোগ উঠেছে টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর উপজেলার গাড়ালিয়া গ্রামের মো. কেরামত আলীর পুত্র মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। চাকুরী সূত্রে নগরীর সুবহানীঘাট এলাকার বাসিন্দা মনিরুজ্জামান পাতাবাহার কয়েল এর সিলেট অঞ্চলে সেলস ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেছেন। স্ত্রী সন্তান রেখে এমন কাণ্ডে হোটেলে লঙ্কাকাণ্ড ঘটিয়েছেন মনিরের স্ত্রী মকসিনা বেগম।
বৃহস্পতিবার দিনভার নগরীর দরগাহ গেইট এলাকায় হোটেল মাসুক মিয়া আবাসিকে সাম্প্রতিক সময়ে দুই প্রেমিকাকে একসাথে নিয়ে অবস্থান নেয়ার সিটিটিভি ফুটেজ পেতে হোটেল কর্তৃপক্ষের সাথে বাকবিতন্ডা করেছে।
খবর পেয়ে সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে হোটেল কর্তৃপক্ষ সিসিটিভি ফুটেজ সাংবাদিকদের দেখালেও মনিরের স্ত্রীকে সেটি প্রদান করেন নি।
পাতাবাহার কয়েল এর সিলেট অঞ্চলে সেলস ম্যানেজার মনিরুজ্জামানের স্ত্রী মকসিনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে স্বামীর হাতে তাকে মারধর, গালিগালাজ ও মানসিক হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। পারিবারিক কোনো বিষয়ে কথা বলতে গেলে মনিরুজ্জামান তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠতেন। তাকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের করা হচ্ছে। নিজের স্ত্রীকে নির্যাতন করলেও পরনারীতে আশক্ত মনির বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে মেয়েদের নিয়ে ফুর্তি করেন । সর্বশেষ গত ২৬ আগষ্ট দরগাহ গেইট এলাকায় হোটেল মাসুক মিয়া আবাসিকে সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলা দুই নারীকে একসাথে নিয়ে হোটেলে রাত কাটিয়েছেন। তাই তিনি এই বিষয়ে মামলা করার জন্য হোটেল থেকে তথ্য প্রমাণ নিতে আসলেও হোটেল কর্তৃপক্ষ অসহযোগিতা করেছে।
মকসিনা বেগমের দাবি করেছেন, মনিরুজ্জামান বিভিন্ন সময়ে ওই হোটেলে বিভিন্ন নারীকে সঙ্গে নিয়ে অবস্থান করেছেন। হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ ও রেজিস্টারে এ-সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে। কখনো কখনো হোটেলের রেজিস্টারে সঙ্গে থাকা নারীকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে কক্ষ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি সামাজিকভাবে বিব্রত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
তার ভাষ্য, প্রতিবাদ করলে কখনো কখনো শারীরিক নির্যাতনেরও শিকার হতে হয় তাকে। সংসার টিকিয়ে রাখার আশায় দীর্ঘদিন এসব বিষয় সহ্য করেছেন বলেও জানান তিনি। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ তার।
মকসিনা বেগম আরও বলেন, স্বামীর আচরণের কারণে তিনি সবসময় আতঙ্ক ও মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন। পারিবারিক ছোটখাটো বিষয় নিয়েও তাকে অপমান করা হয়। তার চলাফেরা, যোগাযোগ এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, স্বামীর সঙ্গে স্বাভাবিক ও নিরাপদ পারিবারিক জীবন কাটানোর প্রত্যাশা থাকলেও সময়ের সঙ্গে মনিরুজ্জামানের আচরণ বদলে যায়। একপর্যায়ে অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং আবাসিক হোটেলে তাদের নিয়ে অবস্থানের অভিযোগ তুলতে বাধ্য হন তিনি।
এদিকে, দরগাহ এলাকার হোটেল মাসুক মিয়া আবাসিকের সিসিটিভি ফুটেজের বিষয়টিও অভিযোগের অংশ হিসেবে সামনে এসেছে। মকসিনা বেগমের দাবি, ফুটেজে বিভিন্ন সময়ে মনিরুজ্জামানকে বিভিন্ন নারীর সঙ্গে হোটেলে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
তার অভিযোগ, এসব ঘটনায় শুধু তার ব্যক্তিগত জীবনই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে না, সামাজিকভাবেও তাকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিষয়টি বিভিন্ন মানুষের মধ্যে জানাজানি হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন বলেও জানান।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযোক্ত পাতাবাহার কয়েল এর সিলেট অঞ্চলে সেলস ম্যানেজার মনিরুজ্জামানের সঙ্গে বার বার কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd