এসআই বাবাকে আর্মি ক্যাপ্টেন মেয়ের স্যালুট

প্রকাশিত: ৫:০৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩, ২০২১

এসআই বাবাকে আর্মি ক্যাপ্টেন মেয়ের স্যালুট

Manual8 Ad Code

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : বাবা আব্দুস সালাম পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আর মেয়ে শাহনাজ পারভীন সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন। একটি ছবিতে হাস্যোজ্জ্বল চেহারায় একে অপরকে হাত উঁচিয়ে স্যালুট দিতে দেখা যাচ্ছে তাদের।

দেশ সেবায় নিয়োজিত দুই বাহিনীর এই দুই কর্মকর্তার স্যালুট দেয়ার এই ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। হাজারো মানুষের শুভেচ্ছা, ভালোবাসা আর অভিনন্দন বার্তায় সিক্ত হচ্ছেন তারা।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্যালুট দেয়ার এমন একটি ছবি ভাইরাল হয় ফেসবুকে। ছবিতে দেখা যায় পুলিশের এক নারী কর্মকর্তাকে স্যালুট ঠুকছেন বাহিনীরই আরেকজন।

এমন ঘটনা অহরহ ঘটলেও এই ছবি দৃষ্টি কাড়ে সবার। কারণ যাকে স্যালুট দেয়া হচ্ছে তার সঙ্গে লোকটির সম্পর্ক রক্তের। বাবার স্বপ্ন পূরণ করে মেয়ে হয়েছেন ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট (ডিএসপি)। কর্মক্ষেত্রে তার সঙ্গে দেখা হয়ে যায় পুলিশের ইন্সপেক্টর বাবার। তখনই নিয়ম মেনে মেয়েকে স্যালুট দেন বাবা।

Manual4 Ad Code

ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ পুলিশের পোস্ট করা ওই ছবির সঙ্গে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে রংপুরের পুলিশের উপপরিদর্শক আব্দুস সালামের পোস্ট করা ছবির। ছবিটি কোথায় তোলা সে সম্পর্কে না জানা গেলেও ধারণা করা হচ্ছে ছুটিতে বাবা-মেয়ের দেখা হলে একে অপরকে স্যালুট দেন।

পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুস সালামের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার ফুলবাড়ি উপজেলায়। ১৯৯০ সালে পুলিশে কনস্টেবল পদে চাকরি নেন তিনি। পদোন্নতি পেয়ে বর্তমানে তিনি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই)। কর্মরত আছেন রংপুরের গঙ্গাচড়া মডেল থানায়।

ব্যক্তিজীবনে আব্দুস সালাম তিন কন্যাসন্তানের জনক। ক্যাপ্টেন ডা. শাহনাজ পারভীন তার প্রথম কন্যা। মেজো মেয়ে উম্মে সালমা একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী। তিনি পড়ছেন তৃতীয় বর্ষে। সবার ছোট স্মৃতিমনি মীম এবার এসএসসি দেবে।

Manual2 Ad Code

আব্দুস সালাম জানান, শাহনাজ ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। ফুলবাড়ী পাইলট বালিকা বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেন ২০১০ সালে। উত্তীর্ণ হন জিপিএ-৫ পেয়ে। এরপর ভর্তি হন ফুলবাড়ী ডিগ্রি কলেজে। ২০১২ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায়ও ভালো ফল করেন। রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন ২০১৩-১৪ সেশনে।

সফলতার সঙ্গে এমবিবিএস পাস করার পর এ বছরই সেনাবাহিনীর আর্মি মেডিক্যাল কোরে সরাসরি ক্যাপ্টেন পদে আবেদন করেন। মেধা আর যোগ্যতায় চাকরি হয় সেনাবাহিনীতে।

Manual4 Ad Code

তিনি বলেন, ‘দুদিন আগে আমরা ছবিটি তুলি। রোববার ছবিটি আমি ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করি। কিছুক্ষণের মধ্যে ছবিটি ভাইরাল হয়। ছবিটি সবাই শেয়ার করছেন, দোয়া করছেন। আমার খুব ভালো লাগছে।’

তিনি বলেন, ‘আমি চাই আমার তিন কন্যাই আদর্শ মানুষ হোক। বড় মেয়ের সেনাবাহিনীতে চাকরি হওয়ায় আমি নিজেই গর্বিত।’

বাবা-মেয়ের ছবিটি রংপুর জেলা পুলিশের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজেও আপলোড করা হয়। সেখানে হাজার হাজার কমেন্টস পড়েছে। শেয়ারও হয়েছে অনেক।

ছবির ক্যাপশনে লেখা হয়, সন্তানের কাছে ধৈর্য, কষ্টসহিষ্ণু ও নৈতিক আদর্শের প্রতীক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে পারলেই কেবল এই ধরনের অসাধারণ মুহূর্তের উদ্ভব হয়। জেলা পুলিশ রংপুরের পক্ষ থেকে পিতা ও কন্যাকে আন্তরিক অভিনন্দন!

সেরাফুল ইসলাম হিমেল নামের একজন লেখেন, অস্থির পরিস্থিতির মাঝে এই ছবি শান্তির পরশ বুলিয়ে দেয়। শুভ কামনা রইল দুইজনের প্রতি।

সৈয়দ মোহাম্মদ ইয়াসীর লেখেন, অনেক অনেক দোয়া ও শুভ কামনা রইল বাবা-মেয়ের জন্য।

পরিমল মজুমদার মুকুল লেখেন, বাবাকে স্যালুট করছে কন্যা! নাকি বাবা-কন্যাকে। যেটাই হোক ছবিটা বুকভরা ভালোবাসার আনন্দের। এমন দৃশ্য সিনেমায় দেখি কিন্তু বাস্তবে আজ দেখলাম।

মনির হায়দার নামের একজন লেখেন, বাহ! অনন্য সাধারণ।

নাজমুল হুদা নামের একজন লেখেন, গর্বিত পিতার গর্বিত সন্তান।

মহাবুব চয়ন নামের একজন লেখেন, অসাধারণ! মুখে কোনো ভাষা নেই আমার। সম্মানিত পিতার সম্মানিত কন্যা, আমার অভিবাদন গ্রহণ করো।

বাবা-মেয়ের স্যালুট দেয়া হাস্যোজ্জ্বল ছবিটি পুলিশের সদস্যরাও শেয়ার দিচ্ছেন। সহকর্মীর সন্তানের সেনাবাহিনীতে উচ্চ পদে চাকরিপ্রাপ্তির সংবাদে আনন্দিত তারা।

Manual1 Ad Code

গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুশান্ত কুমার সরকার জানান, ‘প্রতিটি বাবাই চায় তাদের সন্তান আদর্শ মানুষ হোক। ডা. শাহনাজ পারভীনের এমন সফলতায় আমরাও খুশি। তার মঙ্গল কামনা করি আমরা।’

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..