সিলেট | |
প্রকাশিত: ৫:০৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ :: বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যারা দলটির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন কিংবা বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘ইনফরমার বা তথ্যদাতা হিসেবে কাজ করেছেন, তাদের কাউকেই বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিএনপির সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ। গতকাল মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরপয়েন্টে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই কড়া বার্তা দেন।
সমাবেশে উপস্থিত হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ জনতার উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এমপি মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ বলেন, যারা দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের ‘দালালি করেছেন, দলটির অগণতান্ত্রিক ও নিপীড়নমূলক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন অথবা আওয়ামী লীগের হয়ে সাধারণ মানুষ ও বিরোধী মতের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে তথ্যদাতা হিসেবে কাজ করে এলাকাকে নরকে পরিণত করেছিলেন, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অভিযুক্ত ব্যক্তির কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব, সামাজিক পরিচয় বা বর্তমান অবস্থানকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়ার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি স্থানীয় বিএনপি কর্মী সৈয়দ তাহমিদ আহমেদের দেওয়া একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের প্রসঙ্গ জনসমক্ষে তুলে ধরেন। এমপি মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ জানান, এলাকায় পাপলু চন্দ নামে এক ব্যক্তি ছিলেন যিনি বিগত সরকারের আমলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক নিপীড়ন চালাতে সাহায্য করেছেন এবং পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সে বর্তমানে আত্মগোপনে বা পলাতক রয়েছেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওই ব্যক্তিকে দ্রুত খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
এ সময় উপস্থিত বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের সতর্ক ও সজাগ থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান মোহাম্মদ কয়ছর আহমদ। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে এবং যারা বিগত দিনে জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে এমন কোনো ব্যক্তি যেন কোনোভাবেই মামলা বা আইনি প্রক্রিয়া থেকে ফসকে যেতে না পারে। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িতদের বিষয়ে সঠিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করে তা অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তুলে দেওয়ারও নির্দেশ দেন তিনি।
তবে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার কথা বললেও ব্যক্তিগত আক্রোশের বিষয়েও নিজ দলের নেতাকর্মীদের বিশেষভাবে সতর্ক করে দেন এমপি কয়ছর। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ব্যক্তিগত বিরোধ বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে যেন কোনো নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা না হয় বা মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। কেউ যদি দলের নাম ভাঙিয়ে বিশৃঙ্খলা বা অবিচার করার চেষ্টা করে তবে তার বিরুদ্ধেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, এমপি মোহাম্মদ কয়ছর আহমদের বক্তব্যে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত পাপলু চন্দ বা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে স্থানীয় প্রশাসন ও দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে। মঙ্গলবারের এই সমাবেশ ও সংসদ সদস্যের কড়া হুঁশিয়ারির পর জগন্নাথপুর পৌর এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও রাজনৈতিক উত্তাপ বিরাজ করছে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd