সিলেট | |
প্রকাশিত: ১১:৪৯ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০২৬
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার কাইতকোনা গ্রামে মোঃ জুবেদ হোসেনের বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা এনামুল হক ও হেফাজতে ইসলাম নেতা মাওলানা ইব্রাহিম খুরশিদির বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় জুবেদ হোসেন স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে ঘরের ভেতরে ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাতে হঠাৎ বাড়ির এক পাশ থেকে ধোঁয়া ও আগুন দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। বের হওয়ার চেষ্টা করলে প্রধান দরজাটি বাইরে থেকে আটকানো দেখতে পান তাঁরা। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে দরজা খুলে পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও বাড়ির একাংশ, আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল পুড়ে যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “চিৎকার শুনে আমরা ছুটে গিয়ে দেখি বাড়ির এক পাশে আগুন জ্বলছে। দরজাটিও বাইরে থেকে আটকানো ছিল। আমরা দ্রুত তাঁদের বের করে আনি। একটু দেরি হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।”
জুবেদ হোসেনের অভিযোগ, এটি পরিকল্পিত হামলা। তাঁর ভাষ্য, গত ৩ ফেব্রুয়ারি এনামুল হক ও মাওলানা ইব্রাহিম খুরশিদি কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে তাঁর বাড়িতে যান। তাঁরা তাঁর বোন বিউটি বেগমকে কানাডা থেকে দেশে ফিরিয়ে আনা, এনামুলের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার এবং আট লাখ টাকা পরিশোধের দাবি জানান। দাবি না মানলে বাড়িতে আগুন দেওয়া ও পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
স্থানীয় এক প্রতিবেশী বলেন, “পরিবারটিকে দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি ও চাপের মধ্যে রাখা হচ্ছে। কিছুদিন আগে জুবেদকে মারধর করা হয়েছিল। এখন বাড়িতে আগুনের ঘটনায় পরিবারটি আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।”
স্থানীয় সূত্র জানায়, এনামুল হক জাউয়া বাজার ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল হকের ছোট ভাই। আগে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে চলাফেরা করতেন। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপি ও যুবদল নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলেন এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি ছাতক উপজেলা যুবদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। অন্যদিকে, মাওলানা ইব্রাহিম খুরশিদি এলাকায় হেফাজতে ইসলামের স্থানীয় নেতা হিসেবে পরিচিত।
জাউয়াবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামাল উদ্দিন বলেন, এনামুল হক ‘হক টেইলার্স’ এবং বিউটি বেগম একই বাজারে ‘সাজন টেইলার্স’ পরিচালনা করতেন। তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিউটি বেগম এনামুলের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও হামলার অভিযোগ করার পর তিনি গ্রেপ্তার হন এবং পরে জামিনে মুক্তি পান। এরপর বিউটি ও তাঁর পরিবারের ওপর হয়রানি আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে নিরাপত্তাহীনতার কারণে বিউটি বেগম দেশ ছেড়ে কানাডায় চলে যেতে বাধ্য হন।
কামাল উদ্দিন আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক ও পারিবারিক প্রভাব ব্যবহার করে এনামুল হক বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ভয়ভীতি, হয়রানি ও নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
অগ্নিকাণ্ডের পরদিন জুবেদ হোসেন ছাতক থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি বলে তাঁর দাবি। এ বিষয়ে ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
অভিযোগের বিষয়ে এনামুল হক ও মাওলানা ইব্রাহিম খুরশিদির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁরাও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd