সিলেট | |
প্রকাশিত: ২:০৬ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :: চিকিৎসাসেবা আজ মহান পেশা থেকে রূপ নিয়েছে এক লাভজনক বাণিজ্যে। উন্নত চিকিৎসার আশায় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা ও দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসা অসহায় রোগীদের জিম্মি করে চলছে রমরমা প্রাইভেট চেম্বার ব্যবসা। নগরীর বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে গভীর রাত পর্যন্ত রোগী দেখার নামে চিকিৎসকদের সীমাহীন দৌরাত্ম্য এবং অপ্রয়োজনীয় টেস্টের চড়া বিল আদায়ের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সিলেট নগরীর বিভিন্ন অভিজাত ও আনাচে-কানাচে গড়ে ওঠা প্রাইভেট চেম্বারগুলোতে রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত রোগী দেখা যেন একটি নিয়মে পরিণত হয়েছে। অথচ প্রশ্ন উঠেছে, গভীর রাতে চেম্বার শেষ করে বাড়ি বা গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার সময় এসব রোগীর কোনো নিরাপত্তার দায়িত্ব কি চিকিৎসকরা নেন?
বিশেষ করে গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, বিশ্বনাথসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা সাধারণ রোগীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েন। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা এসব মানুষ দিনের বেলায় শহরে পৌঁছালেও ডাক্তার দেখাতে দীর্ঘক্ষণ সিরিয়ালে অপেক্ষা করতে করতে রাত গভীর হয়ে যায়। পরবর্তীতে মধ্যরাতে চেম্বার থেকে বের হয়ে ভাঙাচোরা রাস্তা, যানবাহন সংকট এবং ছিনতাইয়ের আতঙ্কের মধ্যে তাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
নগরীর অনেক চিকিৎসকই বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়োজিত রয়েছেন। জনমনে বড় প্রশ্ন হলো— দিনের কর্মঘণ্টায় হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের পর, গভীর রাত পর্যন্ত প্রাইভেট চেম্বারে শত শত রোগী দেখে এই চিকিৎসকরা পরদিন সকালে আবার হাসপাতালে কীভাবে নিয়মিত ডিউটি করেন? ২৪ ঘণ্টার এই ক্লান্তিকর চক্রে রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসাসেবা দেওয়া কতটা সম্ভব, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, অনলাইন পোর্টাল এবং নগরীর বিভিন্ন মোড়ে ব্যানার-পোস্টার সাঁটিয়ে নিজেদের প্রচার চালান অনেক চিকিৎসক। তাদের এসব আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপনের চটকদার ভাষা দেখে বিভাগের বিভিন্ন প্রান্তের সহজ-সরল মানুষ ভালো সেবার আশায় সর্বস্বান্ত হতে আসেন। চেম্বারে ঢোকার আগেই ১ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ভিজিট পরিশোধ করতে হয় রোগীদের।
চেম্বারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে চিকিৎসকের দেখা পাওয়ার পর শুরু হয় আসল হয়রানি। নামমাত্র ৩ থেকে ৫ মিনিট সময় দিয়ে রোগীদের প্রেসক্রিপশনে লিখে দেওয়া হয় একের পর এক ব্যয়বহুল টেস্ট। অভিযোগ রয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কমিশন বা পার্সেন্টেজের লোভে অপ্রয়োজনীয় ল্যাব টেস্ট ও ইমেজিং করাতে বাধ্য করা হয় রোগীদের।
এরপর এই হাজার হাজার টাকার টেস্টের রিপোর্টগুলো নিয়ে চিকিৎসকের কাছে दोबारा (পুনরায়) রিপোর্ট দেখাতে গিয়ে পড়তে হয় আরও বড় বিপাকে। বহু ক্ষেত্রে রিপোর্ট দেখাতে গেলেও আবারও নতুন করে ফি প্রদান কিংবা দীর্ঘ লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।
চিকিৎসক সমাজের একটি অংশের এমন বাণিজ্যিক মনোভাবের কারণে আজ চিকিৎসাসেবার ওপর থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা কমতে শুরু করেছে। ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল অবিলম্বে স্বাস্থ্য বিভাগ ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)-এর কঠোর নজরদারি দাবি করেছেন। একই সঙ্গে প্রাইভেট চেম্বারের সময়সীমা নির্ধারণ, ফি এবং অপ্রয়োজনীয় টেস্ট বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়েছে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd