সিলেট | |
প্রকাশিত: ১:১৩ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১, ২০২৬
আনোয়ার হোসেন রনি, ছাতক :: নামে ‘মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি’, কিন্তু সভাপতি-সম্পাদকসহ অধিকাংশ সদস্যই প্রকৃত মৎস্যজীবী নন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জলমহাল ইজারা নেওয়া, ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে বিল শুকিয়ে মাছ ধরার প্রস্তুতি এবং মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে ছাতকের একটি সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় জালিয়া ও ছাতরপাই গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো মুহূর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের জালিয়া গ্রামের ‘সোনারতরী মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেড’-কে ঘিরে এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, গত ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে পাগনা বড়বিলসহ বিভিন্ন সরকারি জলমহাল ইজারা নিয়ে আসছে সোনারতরী সমিতি। সমিতির আসল সদস্যরা এর সুফল না পেলেও এর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে প্রভাবশালী কিছু নেতার হাতে।
এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ভাতগাঁও ইউনিয়নের পাগনা বড়বিল (বন্ধ) জলমহালটি ১৪৩৩ থেকে ১৪৩৫ বাংলা সন পর্যন্ত তিন বছরের জন্য ইজারা নেয় এই সমিতি। তবে ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে প্রথম বছর থেকেই মাছ ধরার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিলের পাড়ে জাল, দড়ি ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং গভীর রাতে বিলের পানি শুকিয়ে মাছ আহরণের পরিকল্পনা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
ছাতরপাই গ্রামের কৃষক ও মৎস্যজীবী আনছার মিয়া লিখিত অভিযোগে জানান, তিনি ও গ্রামের কয়েকজন অসহায় মানুষ মিলে প্রায় ১০ বছর ধরে নিজেদের মৌরসি ও দখলীয় জমিতে নেট দিয়ে ঘের তৈরি করে মাছ চাষ করে আসছিলেন।
গত ১৮ অক্টোবর সোনারতরী সমিতির সভাপতি মিরাস আলী, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা লুৎফুর রহমান এবং ছাতক উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আলী আসকরের নেতৃত্বে একদল লোক ওই ঘের আক্রমণ করে। এ সময় জোরপূর্বক ঘেরের নেট ও ঘাট তুলে নেওয়ায় প্রায় ১০ লাখ টাকার উৎপাদিত ও সংরক্ষিত মাছ এবং পোনা নষ্ট বা লুটপাট হয়। এতে তিনি ও তাঁর অংশীদাররা আজ সর্বস্বান্ত।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার হরিনগর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিনের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সোনারতরী সমিতির ইজারা পাওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট বিভাগে পিটিশন (নম্বর: ১১৫৬৩) দায়ের করা হয়। তথ্য গোপনের মামলার কারণে আদালত এই সমিতিকে ‘ডিফল্টার’ ঘোষণা করে ইজারা বাতিল ও নতুন দরপত্র আহ্বানের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
ডিফল্টার ঘোষিত হওয়ার পরও কীভাবে এই সমিতি পুনরায় দরপত্রে অংশ নিয়ে ইজারা পেল, তা নিয়ে জনমনে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০০৯ অনুযায়ী প্রথম ও দ্বিতীয় বছরে মাছ সংরক্ষণের নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।
এসব ঘটনার প্রতিকার, ক্ষতিপূরণ এবং অবৈধভাবে মাছ আহরণের প্রস্তুতি বন্ধের দাবিতে গত ২৯ অক্টোবর সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক, ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও ছাতক থানার ওসির কাছে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী আনছার মিয়া ও মিসবাহ উদ্দিন।
এ বিষয়ে ছাতক থানার ওসি কামাল হোসেন অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহি উদ্দিন জানান, অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক জানান, যেসব জলমহাল শুকিয়ে মাছ আহরণ করা হয়েছে, ইজারার শর্ত ভঙ্গের দায়ে সেসব ইজারাদারদের জামানত বাজেয়াপ্ত ও লিজ বাতিল করা হবে। বিল শুকিয়ে মাছ ধরার কোনো সুযোগ নেই।
সচেতন মহলের দাবি, জলমহাল কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির বা রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়। নামসর্বস্ব সমিতির আড়ালে দখলদারত্ব বন্ধ না হলে একদিকে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা নিঃস্ব হবেন, অন্যদিকে ধ্বংস হয়ে যাবে হাওরের ঐতিহ্যবাহী মৎস্যসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য।
Sharing is caring!

| S | S | M | T | W | T | F |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | 3 | 4 | 5 | 6 | |
| 7 | 8 | 9 | 10 | 11 | 12 | 13 |
| 14 | 15 | 16 | 17 | 18 | 19 | 20 |
| 21 | 22 | 23 | 24 | 25 | 26 | 27 |
| 28 | 29 | 30 | ||||

………………………..

Design and developed by best-bd