সিলেট | |
প্রকাশিত: ৩:২৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১, ২০২৬
বিশেষ প্রতিবেদক: জনগণের সেবার পবিত্র স্থান ইউনিয়ন পরিষদকে নিজেদের পেশিশক্তি ও হীন রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার আখড়ায় পরিণত করেছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। সিলেটের সদর উপজেলাধীন ৪নং খাদিমপাড়া ইউনিয়নে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই নৈরাজ্যে শুধু দাপ্তরিক কার্যক্রমই জোরপূর্বক বন্ধ করা হয়নি, বরং সেবা নিতে আসা এক নিরীহ নাগরিকের ওপর চালানো হয়েছে বর্বরোচিত হামলা। প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি ও আসবাবপত্র ভাঙচুরের মতো সন্ত্রাসী মহড়ায় বর্তমানে চরম আতঙ্কে দিন পার করছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৯ সেপ্টেম্বর। ইউপি চেয়ারম্যান বদরুল ইসলাম আজাদ পবিত্র ওমরাহ পালনে যাওয়ার প্রাক্কালে নিয়ম মেনে বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান জুবের আহমদকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব অর্পণ করেন। কিন্তু এই নিয়মতান্ত্রিক ও আইনি সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অবসরপ্রাপ্ত আর্মি জাবেদ আলীর নেতৃত্বে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নামধারী নেতা ও তাদের অনুসারীরা গায়ের জোরে পরিষদের সমস্ত কার্যক্রম অচল করে দেয়।
এই অরাজকতার চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে গত বুধবার, যখন সৈয়দ রুহুল আমিন নামের এক সাধারণ নাগরিক ট্রেড লাইসেন্স ও সনদের জন্য পরিষদে যান। পরিষদের কার্যক্রম বন্ধ পেয়ে তিনি বারান্দায় অপেক্ষমাণ সাবেক মেম্বার জাকেল ও অবসরপ্রাপ্ত আর্মি জাবেদ আলীসহ উপস্থিত অন্যান্য ইউপি সদস্যদের (মুসব্বির, আলামিন আহমদ, নজরুল ইসলাম, জামাল উদ্দিন, ফরিদ উদ্দিন এবং শাহজান) কাছে সেবা বন্ধ না করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের বিনীত অনুরোধ করেন। সাধারণ একজন নাগরিকের এই যৌক্তিক আহ্বানেই চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে জাবেদ আলীর নেতৃত্বাধীন গুন্ডাবাহিনী।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই জাবেদ আলী এবং ৮নং ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতির ভাই ও পীরের বাজারের পান বিক্রেতা কালামসহ ১০-১২ জন সন্ত্রাসী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। উন্মত্ত জাবেদ আলী একপর্যায়ে ইউনিয়ন অফিসের চেয়ার তুলে তাকে আঘাতের চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগী সরে গেলে ক্ষিপ্ত জাবেদ আলী চেয়ারটি আছড়ে ভেঙে ফেলেন এবং সবার সামনে তাকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেন। সবচেয়ে ন্যক্কারজনক বিষয় হলো, নির্বাচিত বর্তমান ও সাবেক জনপ্রতিনিধিদের সামনে এমন নগ্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটলেও তারা তা প্রতিহত করার ন্যূনতম চেষ্টাও করেননি বরং অভিযোগ উঠেছে তাদের প্রচ্ছন্ন মদদেই এই হামলা সংঘটিত হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী রুহুল আমিন আক্ষেপের সুরে জানান, দেশে শান্তি-শৃঙ্খলার আশায় তিনি নিজেও ধানের শীষে ভোট দিয়েছিলেন। অথচ আজ তাকেই এই গুন্ডামির শিকার হতে হলো। তিনি তার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন এবং মুরুব্বিয়ান ও সাধারণ জনগণের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে খাদিমপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জুবের আহমদ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “আমি সম্পূর্ণ আইন মেনে এবং ইউনিয়ন পরিষদ আইন-২০১৮ অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। কিন্তু তারা গায়ের জোরে ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার কার্যালয়ে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে, চেয়ার থেকে সরিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে এবং কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার মতো বেআইনি তৎপরতা চালাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এই কুচক্রী মহলের হীনম্মন্য আচরণের কারণে প্রতিদিন সেবা নিতে আসা শত শত সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
জনগণের প্রতিষ্ঠানকে অবরুদ্ধ করে এমন নগ্ন সন্ত্রাসী মহড়ায় খাদিমপাড়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। যারা জনগণের সেবক হওয়ার কথা, তারাই যদি পরিষদের ভেতর সেবাপ্রত্যাশীদের পিটিয়ে হত্যার হুমকি দেয়, তবে সাধারণ মানুষের যাওয়ার জায়গা কোথায়? এমন প্রশ্ন এখন সর্বত্র। অবিলম্বে এই নৈরাজ্যের অবসান ঘটিয়ে জনদুর্ভোগ লাঘব এবং দোষী সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর ও কার্যকরী হস্তক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
Sharing is caring!

| S | S | M | T | W | T | F |
|---|---|---|---|---|---|---|
| 1 | 2 | |||||
| 3 | 4 | 5 | 6 | 7 | 8 | 9 |
| 10 | 11 | 12 | 13 | 14 | 15 | 16 |
| 17 | 18 | 19 | 20 | 21 | 22 | 23 |
| 24 | 25 | 26 | 27 | 28 | 29 | 30 |
| 31 | ||||||

………………………..

Design and developed by best-bd