সিলেট | |
প্রকাশিত: ৯:৫০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে সুরমা নদী থেকে নিষিদ্ধ ড্রেজার মেশিন ও খনিজ বালিবোঝাই ট্রলারসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে বাংলাদেশ নৌ পুলিশ। গত মঙ্গলবার বিকেলে লালপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির চেকপোস্টে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। তবে এ ঘটনার পেছনে লালপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়ম ও মাসোহারা আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার নৌ পুলিশ সিলেট অঞ্চলের পুলিশ সুপার (এসপি) ফাল্গুনী পুরকায়স্থ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তরা যোগসাজশ করে সুরমা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পরিবেশ ধ্বংসকারী ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে খনিজ বালি উত্তোলন, ক্রয়-বিক্রয় ও পরিবহন করে আসছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার বিকেলে লালপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে দুটি ড্রেজার ও বালিবোঝাই ট্রলারসহ প্রায় পৌনে ১০ লাখ টাকার আলামত জব্দ করা হয়।
ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নেত্রকোনার খালিয়াজুরির ফতুয়া গ্রামের মস্তু মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়া এবং একই গ্রামের আজিদ মিয়ার ছেলে হৃদয় মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ বিষয়ে লালপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই আল ইমরান বিন রাজ্জাক বাদী হয়ে জামালগঞ্জ থানায় গ্রেপ্তারকৃত দুজন ও অপর এক পলাতক আসামির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
ফাঁড়ি ইনচার্জের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও মাসোহারার অভিযোগ:
ঘটনার ভিন্ন এক চিত্র ফুটে উঠেছে লালপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জের ভূমিকা নিয়ে। স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, ফাঁড়ির ইনচার্জ সজল কুমার কানু ঘটনার সময় ফাঁড়ির বাইরে অবস্থান করে গোপন সমঝোতার মাধ্যমে জব্দকৃত ড্রেজার, বালি বোঝাই ট্রলার ও গ্রেপ্তারকৃতদের ছেড়ে দেওয়ার নানামুখী কৌশল অবলম্বন করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নৌ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে দ্রুত জামালগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
শুধু তা-ই নয়, ওই ইনচার্জের বিরুদ্ধে নৌ পুলিশের নাম ভাঙিয়ে ব্যাপক চাঁদাবাজি ও মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে— জামালগঞ্জের একাধিক ভারতীয় বিড়ি চোরাকারবারি, আমানিপুরে নৌযান থেকে চাঁদাবাজিতে যুক্ত তৃতীয় লিঙ্গের সদস্য, সুরমা নদীতে নিষিদ্ধ কারেন্ট ও বের জাল দিয়ে মাছ ধরা জেলে, স্থানীয় গরুর হাট এবং রক্তি নদীর মোহনায় বিআইডব্লিউটিএর ইজারাস্থল থেকে প্রতি মাসে তিনি লাখ লাখ টাকা মাসোহারা আদায় করছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে লালপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সজল কুমার কানু সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি বর্তমানে ফাঁড়ির বাইরে আছি, এ বিষয়ে পরে কথা বলব।” এ সময় তিনি বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের সাথে তাঁর সুসম্পর্ক রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন।
বিষয়টি নিয়ে নৌ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd