ছাতকে সাম্মাম ও রকমেলন চাষে তিন তরুনের বাজিমাত

প্রকাশিত: ৪:৪১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৬, ২০২০

ছাতকে সাম্মাম ও রকমেলন চাষে তিন তরুনের বাজিমাত

শামীম আহমদ তালুকদার, সুনামগঞ্জ :: সুনামগঞ্জের ছাতকে চাষ হচ্ছে বিদেশি ফল সাম্মাম ও রকমেলন। সৌদি আরবসহ মরুপ্রধান দেশে সাম্মাম বেশ জনপ্রিয় ফল। ফলটি সাধারণত দুই ধরনের হয়। হলুদ মসৃণ আবৃত খোসার ফলটির ভেতরের অংশ আমাদের দেশের বাঙ্গীর মতো। অন্যটি খোসার অংশ খসখসে ও ভেতরে অংশে হালকা হলুদ এবং বাদামি বর্ণের।
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসীদের মাধ্যমে পরিচিত এ ফলটির চাষাবাদ এখন হচ্ছে উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের রাজাপুর এরাকায়। কালারুকা গ্রামের সৌখিন চাষি প্রবাসি রিয়াজ উদ্দিন, চানপুর গ্রামের বুরহান উদ্দিন ও রাজাপুর গ্রামের এনামসহ তিনজন মিলে ৪ বিঘা জমিতে এবার সাম্মাম ও রকমেলনের চাষ করেছেন। জানা যায়, গত ২০ ফেব্রুয়ারী তারা চাষ শুরু করেন। এবার ফলনও ভালো হয়েছে।
তাই পাইকারি বিক্রির পাশাপাশি তারা এই ফল খুচরা বাজারে বিক্রি করার হতে পারে। ৮ রমজানের পর ফলগুলি বাজারজাত করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন বুরহান ইদ্দন। উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে তার ছোট পরিসরে পরিক্ষামুলক ভাবে শুরু করেছেন। তবে আগামী বৃহৎ আকারে চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। তিনি আরো বলেন, চাষাবাদে বিঘাপ্রতি খরছ হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার টাকা। এই ফলের বর্তমান পাইকারী বাজার ধর কেজি প্রতি প্রায় ৬০ টাকা। সাম্মামের সাথে চাষ করা হয়েছে রকমেলন নামে আরো একটি বিদেশি ফল। রকমেলনের জন্য মাচা তৈরি করাও জরুরি। মাটি থেকে আনুমানিক ৫ ফুট উঁচুতে মাচা তৈরি করতে হয়। রকমেলন আবাদে রোদও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষামূলকভাবে আবাদে রকমেলন গাছে ফলন দেখে তারা খুবই খুশি জানান বুরহান উদ্দিন।
রিয়াজ উদ্দিন, বুরহান উদ্দিন ও এনাম চাষাবাদে বিশেষ করে সবজি ও ফল চাষে দীর্ঘদিনের আগ্রহ তাদের। এবার বিদেশি জাতের ফল উৎপাদন করে বেশ আলোচনায় রয়েছেন তারা। তাদের এ কর্মকান্ড দেখে উৎসাহিত হয়ে অনেক সৌখিন চাষিও নতুন নতুন জাতের ফল উৎপাদনে ঝুঁকছেন।
এনাম জানান, রাজাপুর এলাকায় ৪ বিঘা জমিতে সাম্মাম ও রকমেলন জাতের ফল আমরা চাষ করেছি। ফলন ভাল হয়েছে। তবে চাষাবাদেও পর বেশি আগ্রহ দেখা নিয়ে প্রতিনিয়ত লোকজন ক্ষেত দেখতে যাচ্ছেন।
রিয়াজ বলেন, সাম্মাম ফলের রোগবালাই তেমন নেই বললেই চলে, গাছে খুব সামান্য সার ও কীটনাশক দিতে হয়। আর এ ফল গাছের সঠিকভাবে চাষাবাদ এবং নিয়মিত ফুলের পরাগায়ন ভালো মতো হলে একেকটি গাছ থেকে বেশ কয়েকটি ফল উৎপাদন করা সম্ভব। তবে ফলের ওজনে লতা ছিঁড়ে পড়ার ভয়ে একটু বড় হওয়ার পরপরই ফলগুলো ব্যাগিং করতে হয়। তিনি আরো বলেন, সাম্মাম পাকা ফ্রুটি বা বাঙ্গির ঘ্রাণ সংবলিত ফলটির স্বাদ অত্যন্ত মিষ্টি। ভেতরের রং পাকা পেঁপের মতো। হলুদ রঙের এ ফলটি দেখতে ভিন্নরকম হওয়ায় এবং খেতে খুবই মিষ্টি।
এ বিষয়ে ছাতক উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, সাধারণ তরমুজের চেয়ে এর স্বাদ অনেক ভালো, মিষ্টিও বেশি। মালচিং পদ্বতিতে ইয়েলো কিং ও সাগর কিং এই দুটি জাতের ফল চাষ করা হয়েছে। সাধারণত ৬০ দিনেই এ ফসল বাজারজাত করা যায়। তিনি আরো বলেন, এই ফলে ক্যালসিয়াম, লৌহ, বিঠামিন এ সমৃদ্ভ একটি ফল। শতকরা ৯৫ ভাগ জলীয় অংশ থাকায় এটি মানব দেহের পুষ্টি টাহিদা মিঠায় ও শরীর শীতল রাখে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হােসেন খাঁন বলেন সাম্মাম চাষ এ অঞ্চলে এটাই প্রথম। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নিরাপদ ফসল উৎপাদন (আইপিএম) সমন্নিত বালাই ব্যবস্থাপনা মাধ্যমে এটি শতভাগ নিরাপদ ফল হিসবে উচ্চ মুল্যের ফল চাষের একটি অংশ। কৃষি বিভাগের নিয়মিত পরামর্শ আর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় লক্ষমাত্রার চেয়ে ফলন দ্বীগুন বেশি ফলন হয়েছে। আগামীতে নতুনরাও আগ্রহী হবে।
উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান বলেন, আমি কয়েকবার বাগানে গিয়ে উদ্যোগক্তাদের পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়েছি। উপজেলা কৃষি বিভাগ সবসময় পরামর্শ ও সহযোগীতা দিয়ে আসছে। ফলনও ভালো হয়েছে। আরো অনেক তরুনরা ফল চাষে উৎসাহিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..