ছাতকে সিএনজি রাখা নিয়ে দুই গ্রামের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: পুলিশসহ আহত শতাধিক

প্রকাশিত: ৬:১২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৯, ২০২৬

ছাতকে সিএনজি রাখা নিয়ে দুই গ্রামের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: পুলিশসহ আহত শতাধিক

ছাতক প্রতিনিধি :: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা রাখা নিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দফায় দফায় এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাত সাড়ে ৮টা থেকে শুরু হওয়া প্রায় তিন ঘণ্টার এই রণক্ষেত্রে পুলিশ ও পথচারীসহ অন্তত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে গোবিন্দগঞ্জ-ছাতক রোডের দিঘলী খোজার পাড়ার জাবেদ মিয়ার গ্যারেজে সিএনজি রাখতে যান চালক ছাদিক মিয়া। সেখানে গাড়ি রাখাকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এই তুচ্ছ ঘটনাটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে দীঘলী ও তকিপুর গ্রামের শত শত মানুষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্টে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে ছাতক থানা, জাউয়া তদন্ত কেন্দ্র এবং জয়কলস হাইওয়ে থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে, পুলিশ ১০ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়েও দুই পক্ষকে দমাতে হিমশিম খায়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এই ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় ১০ জন পুলিশ সদস্যসহ শতাধিক লোক আহত হন।

গুরুতর আহত অন্তত ২০ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

সংঘর্ষের ফলে সিলেট-সুনামগঞ্জ এবং ছাতক রোডে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রাস্তার দুই পাশে আটকা পড়ে শত শত যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্স। বিশেষ করে বিদেশগামী যাত্রী ও রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এছাড়া স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দোকানপাটে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। বাবলু দাশের ওয়ার্কশপে থাকা ৭টি সিএনজি ও ১টি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের শিকার হয়েছে।

পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে রাত ১২টার দিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেনাসদস্যদের কঠোর হস্তক্ষেপে উভয় পক্ষ ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় এবং পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়। এরপর দীর্ঘ সময় আটকে থাকা যানবাহন চলাচল শুরু করে।

ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, “সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে আমাদের এসআইসহ অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। নতুন করে কোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও টহল জোরদার করা হয়েছে।”

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

April 2026
S S M T W T F
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  

সর্বশেষ খবর

………………………..