সিলেট ৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৭:১৬ অপরাহ্ণ, জুন ৬, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :: ডাক বিভাগের প্রতি সাধারণ মানুষের অগাধ আস্থা ও বিশ্বাস থাকে যে, একটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি বা নথি নির্দিষ্ট ঠিকানায় ঠিক সময়ে পৌঁছাবে। কিন্তু সেই ডাক বিভাগ যদি দায়িত্বে অবহেলার পরিবর্তে টাকার বিনিময়ে ব্যক্তিগত নথি গুম করে ফেলে, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? এমনই এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের আছিরনগর পোস্ট অফিসের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, টাকার বিনিময়ে এক গৃহবধূর ডিভোর্স লেটার প্রায় ৪ মাস আটকে রাখা হয়েছিল, যা ওই নারীর ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে এনেছে।
ভুক্তভোগী গৃহবধূ মোছাঃ কামরুন নাহার জানান, গত বছরের শুরুতে তার নামে আসা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিঠি আছিরনগর পোস্ট অফিসে পৌঁছালেও তা তাকে দেওয়া হয়নি। মাসের পর মাস পার হয়ে গেলেও চিঠি না পাওয়ায় তিনি স্থানীয় চেয়ারম্যানের শরণাপন্ন হন এবং পরে পোস্ট অফিস কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। দীর্ঘ ৪ মাস পর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তে সত্যতা মেলে যে, ডাক বিভাগের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অবহেলার কারণেই চিঠিটি ওই নারীর কাছে পৌঁছায়নি।
সিলেট বিভাগীয় ডাক বিভাগের উপ-পোস্টমাস্টার জেনারেলের কার্যালয় থেকে দেওয়া চিঠিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্তে পোস্ট অফিস পরিদর্শক, সুনামগঞ্জ উপ-বিভাগ দায়ীদের শনাক্ত করেছেন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ডাক বিভাগ কর্তৃপক্ষ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও, ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি-শুধুমাত্র দুঃখ প্রকাশ বা পিয়নকে দায়ী করলেই মূল হোতারা পার পেয়ে যাবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, “পোস্ট অফিসের এমন কর্মকাণ্ডে সমাজে ডিভোর্সের হার বাড়ছে এবং অনেক নিরপরাধ নারী মিথ্যা কলঙ্কের শিকার হচ্ছেন। টাকার বিনিময়ে পোস্টমাস্টারদের এমন অনৈতিক কারবার সাধারণ মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে।”
ভুক্তভোগী কামরুন নাহারের দাবি, পোস্টমাস্টার ইবনে জেরিনের যোগসাজশ ছাড়া এই নথিপত্র গুম করা সম্ভব ছিল না। এখন দায় এড়াতে পোস্ট অফিসের পিয়নকে ফাঁসিয়ে মূল হোতারা পার পাওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, “যদি সঠিক তদন্ত হয়, তবে পোস্টমাস্টার কেন স্বপদে বহাল থাকবেন?”
এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি রোধে এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে স্থানীয়রা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায়, সাধারণ মানুষ তাদের ব্যক্তিগত ও আইনি নথিপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd