ওসমানী হাসপাতালে আউটসোর্সিং কর্মচারীরা জিম্মি: সামছু-রূপসা দম্পতির বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত: ৬:৪১ অপরাহ্ণ, মে ১৭, ২০২৬

ওসমানী হাসপাতালে আউটসোর্সিং কর্মচারীরা জিম্মি: সামছু-রূপসা দম্পতির বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় নিয়োজিত সাধারণ কর্মচারীদের জিম্মি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে। অভিযুক্তরা হলেন- হাসপাতালে নিয়োজিত জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘সাউদিয়া সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড’-এর মালিক পক্ষ শামসুজ্জামান সামছু এবং তার স্ত্রী রূপসা, যিনি নিজেই হাসপাতালের একজন সরকারি স্টাফ।

ভুক্তভোগী কর্মচারীদের অভিযোগ, স্বামী-স্ত্রীর এই যুগল হাসপাতালের ভেতরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাউদিয়া সিকিউরিটির অধীনে কর্মরত শত শত আউটসোর্সিং কর্মী। চাকরি টিকিয়ে রাখা এবং নানা সুযোগ-সুবিধার নামে তাদের কাছ থেকে নিয়মিত ইচ্ছেমতো মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শামসুজ্জামান সামছু সাউদিয়া সিকিউরিটি সার্ভিসের মালিক পক্ষ হওয়ার সুবাদে কর্মচারীদের নিয়ন্ত্রণ করেন। অন্যদিকে, তার স্ত্রী রূপসা হাসপাতালের সরকারি স্টাফ হওয়ায় ভেতরে তার একচ্ছত্র প্রভাব রয়েছে। এই দ্বৈত ক্ষমতার অপব্যবহার করে তারা আউটসোর্সিং কর্মচারীদের ওপর ছড়ি ঘোরান।
অভিযোগ রয়েছে, নতুন নিয়োগ, ডিউটি বণ্টন, কিংবা বেতন ছাড় করানোর প্রতিটি ধাপে কর্মচারীদের গুনতে হয় নির্দিষ্ট অঙ্কের কমিশন। কোনো কর্মচারী তাদের দাবি করা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বা বিলম্ব করলে, তাকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সামছু ও রূপসা দম্পতির এই বেপরোয়া বাণিজ্যের পেছনে হাসপাতালেরই কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারী সরাসরি জড়িত রয়েছেন। হাসপাতালের ভেতরের একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থাকায় এই দম্পতি কাউকেই পরোয়া করেন না। অবৈধ আয়ের একটি বড় অংশ ওই চক্রের পকেটেও যায় বলে গুঞ্জন রয়েছে।
ভুক্তভোগী কর্মচারীরা অত্যন্ত দরিদ্র ও অসহায় পরিবার থেকে আসা। অনেক কষ্ট করে তারা এক থেকে দেড় লাখ টাকার বিনিময় এই আউটসোর্সিংয়ের চাকরিটি জোগাড় করেছেন। ফলে চাকরি হারানোর চরম ভয়ে কেউ এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলার বা প্রতিবাদ করার সাহস পান না। কর্মচারীদের এই নীরবতার সুযোগ নিয়ে সামছু ও রূপসা দম্পতি দীর্ঘদিন ধরে নির্বিঘ্নে এই ‘নিয়োগ ও চাঁদাবাজি বাণিজ্য’ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এক ভুক্তভোগী কর্মচারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা দিনরাত হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে যে বেতন পাই, সেখান থেকেও যদি বড় অংশ এদের পকেটে চলে যায়, তবে আমাদের পরিবার চলবে কীভাবে? আমরা এই জুলুম থেকে মুক্তি চাই।”

এই বিষয়ে সাউদিয়া সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড দায়িত্বরত উপ- ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবেল আহমেদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করিলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।

ওসমানী হাসপাতালের মতো একটি সংবেদনশীল সরকারি প্রতিষ্ঠানে এমন প্রকাশ্য চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট বাণিজ্যের কারণে হাসপাতালের সার্বিক শৃঙ্খলা ও সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই চক্রের হাত থেকে অসহায় আউটসোর্সিং কর্মচারীদের রক্ষা করতে এবং হাসপাতালের ভেতরের অসাধু কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও কঠোর তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

May 2026
S S M T W T F
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

সর্বশেষ খবর

………………………..