সিলেট ১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৪শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ১২:০২ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে লালঘাট সীমান্ত গ্রামে ছেলের সহযোহিতায় এবার পুত্রবধুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক মাদকাসক্ত গুণধর শ্বশুড়ের বিরুদ্ধে।
বুধবার সকালে চিকিৎসাসেবার জন্য ধর্ষিতাকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি দুই শিশু সন্তানের জননী।
এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন, তাহিরপুর উপজেলার উওর শ্রীপুর ইউনিয়নের সীমান্ত গ্রাম লালঘাট পশ্চিম পাড়ার মৃত জবর আলীর ছেলে ধর্ষিতার শ^শুড় আব্দুল আলী (৫৮) ওরফে আব্দুল আলী ভান্ডারী, তার ছেলে ধর্ষিতার স্বামী হযরত আলী (২৮)।
বুধবার উপজেলার সীমান্ত গ্রাম লালঘাট গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দা ভিকটিমের পিতা অভিযোগ করেন,মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বাপ ছেলে মাদকসেবন করার পর ছেলের সহযোগিতায় বসতঘরে ডুকে পুত্রবধুকে ( ছেলের স্ত্রী)কে বরাবরের মত কু প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বাপ-ছেলে মিলে পুত্রবধুকে বেধরকভাবে মারপিট করে। এক পর্যায়ে ছেলের প্রহারা ও সহযোগিতায় পুত্রবধুকে ধর্ষণ করেন গুণধর মাদকাসক্ত শ^শুড় আব্দুল আলী ভান্ডারি।
এর ফের ধর্ষণ করতে চাইলে ওই পুত্রবধু নিজের দুই শিশু সন্তান শশুড় বাড়ি রেখে বসতঘরের পেছন দিয়ে পালিয়ে লালঘাট সীমান্ত সড়কে এসে চিৎকার ও কান্নাকাটি করতে থাকেন। বিষয়টি জানাজানির পর মঙ্গলবার রাতেই ভিকটিমকে থানায় আইনি সহায়তা পেতে ও চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তির জন্য তাহিরপুর নিয়ে যাওয়া হয়।
ধর্ষিতা ভিকটিমের পিতা অভিযোগ করেন, গেল চার বছর পুর্বে ১ লাখ টাকার আসবাবপত্র দিয়ে উভয় পরিবারের সম্মতিতে আব্দুল আলীর ছেলে হযরতের নিকট বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের পর দম্পতির কোল জুড়ে আসে দুই সন্তান। এরপর বাপ-ছেলে মিলে মাদক কারবার ও সেবন জড়িয়ে পড়ে। দু,লাখ টাকা যৌতুক নিয়ে দেবার জন্য প্রায়শই আমার মেয়েকে শারিরীক,মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশী আপক্তিকর প্রস্তাব দিতো মেয়ের শ^শুড় নিজেই।
এসব জানার পর দুই শিশু সন্তানের ভবিষ্যত চিন্তায় স্বামীর সংসাওে নির্যাতন সয়ে পড়ে থাকতো মেয়ে আমার।
তিনি আরো বলেন,ধর্ষণের রাতের পুর্বে ১০দিন মেয়ে আমার বাড়িতে ছিলো আশ্রয়ে। গ্রামের লোকজন নিয়ে এসে মঙ্গলবার সকালে এসে ভবিষ্যতে যৌতুক দাবি, নির্যাতন করবে না আশ্বাস দিয়ে মেয়েকে স্বামীর বাড়ি নিয়ে যায় সকালে আর রাতেই ঘটনায় মারপিঠ ও ধর্ষণের ঘটনা।
বুধবার উপজেলার সীমান্তগ্রাম লালঘাট পশ্চিমপাড়ার আব্দুল আলীর নিকট তিনি ও তার ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, আমার ছেলে একবার বিদেশি মদ সহ ধরা পড়ে মামলায় জেল-হাজতে ছিলো এখন জামিনে আছে। ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মেয়েটি (পুত্রবধু) বাড়িতে ঝগড়াঝাটি করে রাতে কিছুটা মারপিট করে শাসন করেছি, বাকীটা আমার ছেলে বলতে পারবে।
তাহিরপুর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন,এমন একটি অভিযোগ পেয়েছি, ভিকটিমকে চিকিৎসাসেবা গ্রহন ও সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে গিয়ে ওয়ান ষ্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) গিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করানোর পরাশর্ম দেয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান ওসি।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd