গোয়াইনঘাটে বালুবাহী নৌকার টোল আদায়ের ইজারায় অনিয়ম, সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎ

প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২৬

গোয়াইনঘাটে বালুবাহী নৌকার টোল আদায়ের ইজারায় অনিয়ম, সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎ

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলায় বালুবাহী নৌকা থেকে টোল আদায়ের ইজারা প্রদানে অনিয়ম ও সরকারি রাজস্ব আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে একাধিক ইউনিয়ন পরিষদের বিরুদ্ধে।

উপজেলার সীমান্তবর্তী নদীপথ দিয়ে চলাচলকারী শত শত বালুবাহী নৌকা থেকে নিয়মিত টোলের নামে অর্থ আদায় করা হলেও তার একটি বড় অংশ সরকারি কোষাগারে জমা পড়ছে না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিষয়টি অবগত করে বুধবার সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন মো. আবুল হোসেন নামের এক ব্যক্তি।

অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার একাধিক ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিটি বালুবাহী নৌকা থেকে ৭৫ পয়সা হারে টোল আদায়ের ইজারা দিয়েছে। এর মধ্যে ১নং রুস্তমপুর ইউনিয়ন পরিষদে ইজারাদার আলী আমজদ ১২ লাখ ৬১ হাজার টাকায়, ২নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন পরিষদে ইজারাদার এনাম উদ্দিন ৩০ লাখ টাকায়, গোয়াইনঘাট সদর ইউনিয়ন পরিষদে ইজারাদার মদরিস আলী ১৭ লাখ টাকায় এবং ১৩নং বিছনাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদে ইজারাদার আবুল কালাম ১৩ লাখ টাকায় ইজারা গ্রহণ করেন।

সবচেয়ে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ২নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন পরিষদকে ঘিরে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরে এই ইউনিয়নে আবুল হোসেন নামের এক ব্যক্তি ২০ লাখ টাকায় ইজারা নিয়ে নিয়মিতভাবে বালুবাহী নৌকা থেকে টোল আদায় করলেও আদায়কৃত অর্থের সিংহভাগ ইউনিয়ন পরিষদের তহবিলে জমা দেননি। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই আদায় প্রক্রিয়ায় সরকারি রাজস্ব সরাসরি আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে অভিযোগপত্রে।

অভিযোগে আইনি ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ২(১১) ধারায় টোল-ফি-শুল্ক ‘কর’-এর সংজ্ঞাভুক্ত এবং ৬৬ ধারা অনুযায়ী নির্ধারিত তফসিলের ভিত্তিতেই ইজারা দেওয়া যায়, যার আদায়কৃত অর্থ পরিষদের তহবিলে জমাদানের বাধ্যবাধকতা আইনেই নিহিত। অভিযোগকারীর দাবি, আদায়কৃত সরকারি অর্থ জমা না দেওয়া দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪০৬ ধারায় (বিশ্বাসভঙ্গজনিত অপরাধ/Criminal Breach of Trust) এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ৪২০ ধারায় (প্রতারণা) শাস্তিযোগ্য অপরাধ। পাশাপাশি বিষয়টি Prevention of Corruption Act, 1947-এর অধীন Criminal Misconduct হিসেবেও গণ্য হতে পারে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগকারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদগুলোর ইজারা প্রক্রিয়া ও আদায়কৃত অর্থের হিসাব তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বিশেষত ২নং পশ্চিম জাফলং ইউনিয়ন পরিষদের ইজারাদারের আদায়কৃত অর্থের প্রকৃত হিসাব যাচাই এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে অভিযোগপত্রে। প্রয়োজনে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনকেও (দুদক) অবহিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
নৌপথে ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক ইজারার বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়েছেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

July 2026
S S M T W T F
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
25262728293031

সর্বশেষ খবর

………………………..