মৌলভীবাজারে শিক্ষক-ছাত্রীর আলোচিত বিয়ে!

প্রকাশিত: ৪:৩২ পূর্বাহ্ণ, জুন ৭, ২০২৬

মৌলভীবাজারে শিক্ষক-ছাত্রীর আলোচিত বিয়ে!

নিজস্ব প্রতিবেদক :: মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের আমতৈল গ্রামে শিক্ষক ও ছাত্রীর বহুল আলোচিত বিয়ের ঘটনায় এবার প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক কায়সারুজ্জামানের প্রথম স্ত্রী। মহতোসিন আলী হাই স্কুল এন্ড কলেজের ওই শিক্ষকের এই কর্মকাণ্ডে তাঁর দীর্ঘ ১৩ বছরের সাজানো দাম্পত্য জীবন এখন পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয়ভাবে শোরগোল ফেলে দেওয়া এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ, মানসিক যন্ত্রণা ও অসহায়ত্ব প্রকাশ করে প্রথম স্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

গণমাধ্যমের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়ে কায়সারুজ্জামানের প্রথম স্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, “এই পরিস্থিতিতে আমার কী দোষ ছিল? আমি তো সংসার আর সন্তানদের আগলে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই কায়সারুজ্জামান ও তাঁর কলেজের শিক্ষার্থী এনি আক্তারের মধ্যকার বিশেষ সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন চলছিল। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কায়সারুজ্জামান এবং তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন বারবার ঘটনাটি অস্বীকার করেন এবং মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে তথ্য গোপন করার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব সত্য আড়াল করে এনি আক্তারকে বিয়ে করেন কায়সারুজ্জামান।

প্রথম স্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, এই ঘটনার পর সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং সামাজিক সম্মান ধূলিসাৎ হতে বসেছে। বড় সন্তান মাকে বারবার প্রশ্ন করছে কেন তাদের কাছে এতদিন এই সত্য লুকিয়ে রাখা হলো। সন্তানরা আজ সমাজের সামনে মুখ দেখাতে পারছে না।
অভিযোগ উঠেছে, বিয়ের খবর জানাজানির পর থেকে কায়সারুজ্জামান প্রথম স্ত্রীর সাথে সঠিক যোগাযোগ করছেন না। ফোন দিলে নানা বাহানা বা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।

প্রথম স্ত্রীর দাবি, বিয়ের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে কায়সারুজ্জামান তাঁর এক বোনের বাসায় অবস্থান করছেন। এদিকে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
উপায়ান্তর না দেখে অবশেষে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। ইতিমধ্যেই পুলিশ ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা যাচাই ও তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। শিক্ষক স্বামীর এই চরম প্রতারণার বিরুদ্ধে চুপ করে থাকবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন প্রথম স্ত্রী। তিনি বলেন, “যাঁরা বলছেন কিছুই হয়নি, তাঁরা সমাজকে বিভ্রান্ত করছেন। আমার কাছে সব প্রমাণ আছে। আমি এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেব এবং আমার সন্তানদের আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠা করব।”

এদিকে, একজন দায়িত্বশীল শিক্ষকের কাছ থেকে নিজের প্রতিষ্ঠানেরই সাবেক ছাত্রীকে এভাবে বিয়ের ঘটনাটি মহতোসিন আলী হাই স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং আমতৈল গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় তুলেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এমন ঘটনা শিক্ষকতার মতো একটি পবিত্র পেশার মর্যাদাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করে। তাঁরা এই বিষয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং সুষ্ঠু তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

June 2026
S S M T W T F
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  

সর্বশেষ খবর

………………………..