মশা নিধনে ব্যর্থ সিসিক, যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ নগরবাসী

প্রকাশিত: ৪:০৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৬, ২০১৯

মশা নিধনে ব্যর্থ সিসিক, যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ নগরবাসী

Manual2 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক :: গরম আর বৃষ্টি শুরু হতেই সিলেটে বেড়েছে মশার উপদ্রব। সিলেট নগরের প্রায় সবকটি ওয়ার্ডেই বেড়েছে মশার উৎপাত। মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছেন নগরবাসী। মশার উপদ্রব বাড়লেও এখন পর্যন্ত মশা নিধন কার্যক্রম শুরু করেনি সিলেট সিটি করপোরেশন।

সিলেট সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, মশক নিধনে সিসিকের কোনো বাজেট নেই। তবে কিছু পরিমাণ মশার ওষুধ কেনা হয়েছে। ওষুধ ছিটানোর আগে মশার আবাসস্থল ধ্বংস করার জন্য নগরের সবকটি ওয়ার্ডের নালা, নর্দমা, ছড়ায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। তারপর মশার ওষুধ ছিটানোসহ মাসব্যাপী ওয়ার্ড ভিত্তিক মশক নিধন বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

Manual5 Ad Code

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী বলেন, ‘মশক নিধন কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। তবে ইতোমধ্যে কিছু পরিমাণ মশার ওষুধ কেনা হয়েছে। মশক নিধন কার্যক্রমের জন্য আমাদের তেমন কোনো বাজেট নেই। তারপরও মশক নিধনের জন্য শীঘ্রই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাসহ মাসব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনা করবো।’

Manual5 Ad Code

নগরের জালালাবাদ এলাকার গৃহিণী লাভলী আক্তার বলেন, ‘বেশ কয়েকদিন যাবত মশার উৎপাত বেড়েছে। আগে কয়েল জ্বালালে কাজ হত এখন তাও হয় না। সন্ধ্যার সময় মশারি টানিয়ে বাচ্চাদের পড়তে বসাই।’

উপশহর এলাকার ফয়সল আহমেদ বলেন, ‘মশা এই পরিমাণ বেড়েছে যে কয়েল দিয়েও কাজ হয় না। কদিন পর এইচএসসি পরীক্ষা। বিকাল বেলায়ই মশারির নিচে পড়তে বসতে হয়। রাত বাড়ার সাথে সাথে মশার উপদ্রবও বাড়ে।’

সুবিদবাজার এলাকার বাসিন্দা পলি বেগম বলেন, ‘বহুতল ভবনে থেকেও মশার উৎপাত থেকে রেহাই পাচ্ছি না। আমরা ৭ তলায় থাকি। গতবছরও এখানে মশার তেমন উপদ্রব ছিল না কিন্তু এবছর বর্ষাকাল আসার আগেই মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘কয়েলের ধোঁয়ায় সমস্যা হয়। তাছাড়া কয়েল জ্বালিয়ে বা সব সময় মশারি টানিয়েও থাকা যায় না। এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার।’

সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, মশা নিধনের জন্য সিসিকে ৬০টি ফগার মেশিন ও ৬০টি স্প্রে মেশিন রয়েছে। তবে স্প্রেম্যান আছেন মাত্র ২জন। তাই মশক নিধন অভিযানের সময় আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ২৭টি ওয়ার্ডের জন্য ১০০ কর্মী নেওয়া হবে।

সিসিকের ৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আফতাব হোসেন খান বলেন, ‘আমাদের এই ওয়ার্ডটি টিলাকেন্দ্রিক। তাই ঝোপঝাড় বেশি। সিসিকেরে গত ২১ মার্চের পরিষদের মিটিংয়ে আমি মশা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি উপস্থাপন করেছি। মশার ওষুধ কেনাসহ বিভিন্ন কাজ এখনও প্রক্রিয়াধীন আছে।’

তিনি বলেন, ‘মশার উৎপাত থেকে রক্ষা পেতে শুধু সরকার জনপ্রতিনিধি বা সিসিক একা কিছু করতে পারবে না। এক্ষেত্রে প্রতিটি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদেরও সচেতন হতে হবে। সকলকে তাদের বাড়ির আশপাশের নালা, নর্দমা পরিষ্কার রাখতে হবে। ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। এসব বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য শীঘ্রই আমার ওয়ার্ডের প্রতিটি এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম করার পরিকল্পনা আছে।’

Manual3 Ad Code

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘গত পরিষদের মিটিংয়ে মশক নিধনের ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। আসছে রোজার সময় যেন নগরবাসীকে মশার উৎপাত সহ্য করতে না হয় সেজন্য আমরা শীঘ্রই কাজ শুরু করবো। প্রথমে প্রতিটি ওয়ার্ডের নালা, নর্দমায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করে মশার আবাসস্থল ধ্বংস করবো। এরপর মশার ওষুধ ছিটানোর কাজ করা হবে। এতে করে দীর্ঘদিন মশার উপদ্রব থেকে রক্ষা পাবেন নগরবাসী।’

মশার ওষুধ ছিটানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমাদের ফগার মেশিন, স্প্রে মেশিন আছে। ফগার মেশিনে তাড়াতাড়ি মশা নিধন করা যায়। তবে বিগত বছরগুলোতে যখন আমরা নগরের বিভিন্ন এলাকায় ফগার মেশিন ব্যবহার করেছি তখন নগরবাসী বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। কারণ ফগার মেশিনের ধোঁয়া নিয়ে তাদের মনে ভুল ধারণা রয়েছে। নগরবাসী মনে করেন ফগার মেশিনের ধোঁয়া ক্ষতিকারক। আসলে এমন কিছুই না। তাই নগরবাসীর স্বস্তির জন্য এ বছর আমরা স্প্রে মেশিনের কার্যক্রম বেশি চালাবো।’

Manual2 Ad Code

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..