সিলেট | |
প্রকাশিত: ১:২৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৫, ২০২৬
গোয়াইনঘাট প্রতিনিধি: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট’ (এআরডি) নামের একটি সরকার অনুমোদিত ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী এনজিওর শাখা কার্যালয় থেকে ১৭৮ জন গ্রাহকের সঞ্চয় ও ঋণের মোট ৬৪ লাখ ৬১ হাজার ৩৬৫ টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।
এ ঘটনায় সংস্থার গুরুপত্বপূর্ণ নথিপত্র চুরির অভিযোগ এবং টাকা ফেরতের তাগিদ দেওয়ায় অডিট কর্মকর্তাদের ‘পেশাদার খুনি দিয়ে হত্যার হুমকি’ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাখাটির সাবেক ব্যবস্থাপক মোঃ কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে।
ঘটনার বিবরণ ও গোয়াইনঘাট থানায় দাখিলকৃত লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, এআরডি-এর জাফলং শাখায় (আলামনগর গ্রামস্থ কার্যালয়) সম্প্রতি হিসাব সংক্রান্ত ব্যাপক গণ্ডগোল ও গরমিল ধরা পড়ে। এর প্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে অডিট দল সরেজমিনে পরিদর্শন করে হিসাব পরীক্ষা শুরু করে।
নিরীক্ষায় দেখা যায়, জাফলং শাখার তৎকালীন ব্যবস্থাপক মোঃ কামাল হোসেন (৪৬) এবং সাবেক কো-অর্ডিনেটর খন্দকার মাহমুদুল আলম (৫৮) যোগসাজশ করে ১৭৮ জন গ্রাহকের নিকট থেকে আদায়কৃত ঋণ ও সঞ্চয়ের বিশাল অংকের টাকা ব্যাংকে বা সংস্থার তহবিলে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।
মোট আত্মসাৎকৃত ৬৪ লাখ ৬১ হাজার ৩৬৫ টাকার মধ্যে- ঋণ আদায় ও সঞ্চয় তহবিল: ৫১,০৯,৯৮০/- টাকা। গ্রাহকদের ঝুঁকি তহবিল (বীমা): ১১,০০,৩৪৫/- টাকা। ক্যাশবুকে উল্লেখিত নগদ ঘাটতি: ২,৫১,০৪০/- টাকা।
১৬ মে দুপুর ১২টায় অডিট দলের জেরার মুখে অভিযুক্ত সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মোঃ কামাল হোসেন টাকা আত্মসাতের কথা স্বীকার করেন। পাওনা টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি হিসেবে তিনি পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের নিজ নামীয় হিসাবের (হিসাব নং- ১২৫০১০১১৮২১৯৪) ৪০ লাখ এবং ২৪ লাখ ৬১ হাজার ৩৬৫ টাকার দুটি চেক প্রদান করেন। এছাড়া ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে অপরাধ স্বীকার করে অঙ্গীকারনামা সম্পাদন করে দেন।
তবে গত ২৩ মে সকালে কামাল হোসেন অফিস থেকে কাউকে না জানিয়ে গোপনে কেটে পড়েন। যাওয়ার সময় তিনি অফিসের মূল ক্যাশবুক, জেনারেল লেজার (জিএল) এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক ফাইলপত্র চুরি করে নিয়ে যান। পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অডিট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং অফিসে ফিরে আসার তাগিদ দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, “টাকার জন্য আর ফোন দিলে পেশাদার খুনি ভাড়া করে তোদের সবাইকে হত্যা করব।” এরপর থেকেই তিনি মোবাইল ফোন বন্ধ করে গা ঢাকা দেন।
এ ঘটনায় এআরডি জাফলং শাখার বর্তমান ব্যবস্থাপক মোঃ আইন উদ্দিন বাদী হয়ে গোয়াইনঘাট থানায় অভিযুক্ত মোঃ কামাল হোসেন, খন্দকার মাহমুদুল আলমসহ অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ, চুরি ও প্রাণনাশের হুমকির অপরাধে আইনানুগ বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং জড়ো হওয়া তথ্যাদির ভিত্তিতে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd