সিলেট | |
প্রকাশিত: ১:৩১ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়ন ৫নং ওয়ার্ডে সরকারি গুচ্ছগ্রামের বরাদ্দকৃত একটি ঘর অবৈধভাবে দখলে রেখে প্রকৃত উপকারভোগীকে বঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইউপি সদস্যসহ তিনজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রাফিয়া খাতুন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক কার্যালয় এবং এয়ারপোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ প্রদান করেছেন।
অভিযোগে রাফিয়া খাতুন উল্লেখ করেন, তিনি একজন ভূমিহীন নারী। ২০২২ সালের ২৪ এপ্রিল সরকারের গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের আওতায় সিলেট সদর উপজেলার খাদিমনগর ইউনিয়নে একটি সরকারি ঘর তার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়। তার দাবি, একই বছরের ভয়াবহ বন্যার সময় স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন ইমরান মানবিক কারণে কয়েকদিনের জন্য একটি অসহায় পরিবারকে আশ্রয় দেওয়ার কথা বলে তার বরাদ্দকৃত ঘরের চাবি নিয়ে যান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কথায় বিশ্বাস করে তিনি চাবি হস্তান্তর করেন। কিন্তু পরবর্তীতে বারবার ঘরটি ফেরত চাইলে ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন ইমরান নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৪ জুন ২০২৬ইং তারিখে তিনি নিজের বরাদ্দকৃত ঘরে গিয়ে সেখানে অবস্থানরত নিজাম উদ্দিন ও তার স্ত্রী লুবনা বেগমকে ঘর ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন। এ সময় তারা ঘরটি নিজেদের দাবি করেন এবং জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে তারা ঘরটির বরাদ্দ পেয়েছেন এবং ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন ইমরান তাদের কাছে ঘরটি বুঝিয়ে দিয়েছেন। এ সময় অভিযুক্তরা তাকে গালিগালাজ ও প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিরকর হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাফিয়া খাতুন আরও জানান, পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি কোনো সমাধান দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আর যোগাযোগ না করার পরামর্শ দেন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে একাধিকবার বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে তিনি অভিযোগ দায়ের করেন। ভুক্তভোগী তার সরকারি বরাদ্দকৃত ঘর উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও ঘরটি পাইয়ে দিতে ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন ইমরান, রাফিয়া খাতুনের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।
সরেজমিনে আশ্রয়ণ প্রকল্পে গিয়ে লোভনা বেগমের সঙ্গে কথা হলে, তিনি ঘর দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে ঘরটিতে বসবাসের পক্ষে সরকারি কোনো আদেশ বা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। তার দাবি, সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মৌখিক নির্দেশে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করছেন। এছাড়া, গত মাসের ৯ তারিখ তিনি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ওই ঘরটি বরাদ্দের জন্য বর্তমান ইউএনও বরাবর একটি আবেদন করেছেন।
ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন ইমরান গুচ্ছগ্রামের ঘর দখল ও ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে ঘর পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, রাফিয়া বেগম প্রতারণার মাধ্যমে ঘরটি পেয়েছেন। তার ভাষ্য, সাবেক ইউএনও’র সময় নিজাম উদ্দিন ও লুভনা বেগমের নামে ঘরটি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে কোনো বৈধ অনুমোদন রয়েছে কি না, তা তার জানা নেই। তিনি আরও বলেন, গুচ্ছগ্রামের ঘর বরাদ্দের সিদ্ধান্ত ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিয়ে থাকেন; এ ক্ষেত্রে ইউপি সদস্যদের কোনো কর্তৃত্ব নেই।
এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুর রহমান বলেন, গুচ্ছগ্রামের ঘর দখল ও এ-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয় তাঁর জানা নেই। তবে তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াত রাফিয়া খাতুনের অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গুচ্ছগ্রামের ঘর নিয়ে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তাঁর কার্যালয়ে জমা পড়েছে। তিনি জানান, বর্তমান বসবাসকারী পরিবারটি প্রায় তিন বছর ধরে ওই ঘরে বসবাস করছে। তাই উভয় পক্ষের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে উল্লেখ করেন।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd