সিলেট | |
প্রকাশিত: ৪:৩৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৫, ২০২৬
নারীর শিক্ষা, নেতৃত্ব ও সামাজিক অংশগ্রহণে ইতিবাচক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পিতৃতান্ত্রিক, ধর্মীয় ও রক্ষণশীল মানসিকতাকে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন সিলেটের সচেতন নাগরিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও উন্নত সমাজ গঠনে নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
শনিবার সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে ‘আশার আলো’-র আয়োজনে এবং ‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ’ ও ‘বন্হিশিখা’-র সহযোগিতায় ‘পিতৃতান্ত্রিক, ধর্মীয় ও রক্ষণশীল বাঁধা: নারীর শিক্ষা, নেতৃত্ব ও সামাজিক অংশগ্রহণে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে অন্তরায়” শীর্ষক এক কমিউনিটি সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।
আশার আলোর সভাপতি মাহফুজ আলমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সংলাপে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, নারী নেত্রী, যুব প্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিতি ছিলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক মো. আব্দুর রফিক এবং মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহিনা আক্তার।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক রওশন আরা মুকুল, ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়ক মোহাম্মদ আরিফ, এইচআরএলএএস-এর অ্যাডভোকেসি অফিসার বিচিত্রা রায় ও কো-অর্ডিনেটর সত্যজিৎ কুমার দাস, চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের বিভাগীয় প্রধান অ্যাডভোকেট জয়শ্রী দাস জয়া, সন্ধি নারী সংঘের সভাপতি ফরিদা বেগম, এবং আদিবাসী নারী উন্নয়ন সংঘের সভাপতি বৃক্ষপালা পাত্র।
পুরোহিত ভূবনঞ্জয় চক্রবর্তী এবং সিলেট প্রেসবিটারিয়ান চার্চের রেভারেন্ড ডেভিড মনু দাস। অ্যাডভোকেট হেনা বেগম, অ্যাডভোকেট ফারজানা হাবিব চৌধুরী, সাংবাদিক লোকমান হাফিজ, সাংবাদিক মো. আব্দুল হোসেন, সাংবাদিক স্বপন মালাকর শিবা, এবং সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মোহাম্মদ মাসুক মিয়া।
এছাড়া বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, আরডব্লিউডিও, আরএইচস্টেপ, রহমানিয়া প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন, বিজেআইএস, বন্ধু, সিলেট লেখিকা সংঘ, আশার আলো এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও সংলাপে সক্রিয় অংশ নেন।
সংলাপে বক্তারা বলেন, নারীর শিক্ষা, নেতৃত্ব বিকাশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
বক্তারা উল্লেখ করেন, “ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে পারস্পরিক সম্মান, ন্যায়বিচার ও সহমর্মিতায় উদ্বুদ্ধ করে। তাই ধর্মকে বিভাজনের হাতিয়ার না বানিয়ে সাম্য, শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যম হিসেবে চর্চা করতে হবে। পরিবার থেকেই নারী-পুরুষের সমঅধিকার ও শ্রদ্ধাবোধের শিক্ষা দেওয়া জরুরি।”
সংলাপ থেকে পিতৃতান্ত্রিক ও রক্ষণশীল প্রতিবন্ধকতা দূর করে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। একই সাথে সচেতনতা বৃদ্ধি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা। বিজ্ঞপ্তি
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd