প্রচ্ছদ

ওসমানী বিমানবন্দরে ‘অনিয়মের সাম্রাজ্য’ গড়ে তুলেছেন হাফিজ

২৯ মার্চ ২০১৯, ১৭:৩৯

crimesylhet.com

Sharing is caring!

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : সরকারি চাকরি যারা করেন, তাদেরকে একস্থানে খুব বেশিদিন রাখা হয় না। দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ তিন বছর, এই সময়ের মধ্যেই তাদেরকে বদলি করা হয় নতুন কর্মস্থলে। অনেককেই আবার দুই বছরেরও কম সময়ে এক কর্মস্থল থেকে অন্য কর্মস্থলে বদলি করা হয়। সরকারি চাকরিতে নিয়মিত বদলি কিংবা পদোন্নতি পেয়ে বদলিই স্বাভাবিক নিয়ম। কিন্তু হাফিজ আহমদের ক্ষেত্রে এসব নিয়ম-নীতি যেন অকেজো! সেজন্যই কিনা একই কর্মস্থলে এক যুগেরও বেশি সময় কাটিয়ে দিয়েছেন তিনি।

সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপকের (স্টেশন ম্যানেজার) দায়িত্বে আছেন হাফিজ আহমদ। ২০০৮ সাল থেকে এই দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। একই কর্মস্থলে তিনি বছরের পর বছর ধরে কিভাবে থাকেন, তা নিয়ে ওঠছে নানা প্রশ্ন। অভিযোগ ওঠেছে, দীর্ঘ সময় ধরে ওসমানী বিমানবন্দরে থাকার ফলে ‘অনিয়মের সাম্রাজ্য’ গড়ে তুলেছেন হাফিজ আহমদ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাফিজ আহমদের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলায়। বিগত বিএনপি সরকারের আমলে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান ‘টাওয়ার কন্ট্রোলার’ পদে হাফিজকে নিয়ে আসেন ওসমানী বিমানবন্দরে। সাইফুর রহমানের বাড়িও মৌলভীবাজারে। তাঁর আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন হাফিজ।

২০০৮ সালের নভেম্বরে ওসমানী বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হিসেবে যোগদান করেন হাফিজ আহমদ। এরপর প্রায় ১১ বছর ধরে একই পদে একই বিমানবন্দরে বহাল তরিয়তে রয়েছেন তিনি।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে হাফিজ আহমদকে পদোন্নতি দিয়ে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বদলি করা হয়। আরো একাধিকবার তাকে বদলি করা হয় বলে জানা গেছে। তবে প্রত্যেকবারই উচ্চপর্যায়ে তদবির করে বদটি ঠেকিয়ে দেন হাফিজ, এমন জনশ্রুতি আছে।

এ প্রসঙ্গে ওসমানী বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ বলেন, গেল ১১ বছরের মধ্যে তার বদলির আদেশ এসেছিল কিনা, তা তিনি জানেন না।

জানা গেছে, কয়েক মাস আগে সিলেট সফর করেন বিমানসচিব। তখন তিনি হাফিজ আহমদকে জিজ্ঞেস করেন, কতোদিন ধরে এখানে আছেন? হাফিজ প্রায় এক যুগ ধরে এখানে আছেন শুনে বিস্ময় প্রকাশ করে বিমানসচিব তখন বলেন, ‘এতোদিন ধরে এখানে কিভাবে আছে!’

অভিযোগ রয়েছে, বছরের পর বছর ধরে ওসমানী বিমানবন্দরে থাকার ফলে হাফিজ আহমদ এখানে আধিপত্য গড়ে তুলেছেন। তার ইশারাতেই এ বিমানবন্দরের অনিয়ম-দুর্নীতির শক্ত সিন্ডিকেট চলছে বলেও জনশ্রুতি রয়েছে। হাফিজের কথামতোই চলতে হয় বিমানবন্দরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। একটু এদিক-ওদিক হলেই শুনতে কটু কথা। এমনকি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হাত তোলার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওসমানী বিমানবন্দরে কর্মরত এক ব্যক্তি বলেন, ‘হাফিজ আহমদের সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে ওসমানী বিমানবন্দর। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এখানে থেকে অনিয়মের পাহাড় গড়ে তুলেছেন তিনি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে দুর্ব্যবহার তো নিত্যদিনকার বিষয়। মূলত বিমানবন্দরের সব অনিয়ম তার ইশারাতেই চলে।’

ওসমানী বিমানবন্দর দিয়ে প্রতিদিন শত শত প্রবাসী যাতায়াত করেন। কিন্তু বিমানবন্দরে তাদেরকে পড়তে হয় হয়রানির কবলে। বিমানবন্দরে নামলেই এক শ্রেণির দালাল, কর্মচারী, আনসার সদস্যরা লাগেজ নিয়ে শুরু করে টানাটানি। সহযোগিতা করার কথা বলে লাগেজ বাইরে এনে দাবি করে মোটা অঙ্কের টাকা। কেউ টাকা দিতে রাজি না হলে তার সাথে করা হয় দুর্ব্যবহার; অবৈধভাবে আটকে রাখা হয় লাগেজ।

বিমানবন্দরের ভেতরে ডিউটি ফ্রি শপ থেকে অবাধে বাইরে আনা হয় মদ। ভিআইপি গেইট দিয়ে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ হলেও টাকা দিয়ে যে কেউ সে গেইট ব্যবহার করতে পারে। বিমানবন্দরের কনকোর্স হলের পিলারে এবং ফ্লাইটের জন্য যাত্রীদের অপেক্ষার কক্ষের পিলারে ব্যবহৃত বিজ্ঞাপনের টাকা কোথায় যায়, তা নিয়েও আছে প্রশ্ন।

ভিআইপি গেইট দিয়ে টাকা দিয়ে প্রবেশের বিষয়টি তার ‘জানা নেই’ বলে মন্তব্য করেন হাফিজ আহমদ।
অন্যদিকে ডিউটি ফ্রি শপ থেকে বাইরে মদ নিয়ে আসা প্রসঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হননি ওসমানী বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক।

  •  
  •  
  •  

আর্কাইভ

shares