বিয়ানীবাজারে ফসলী জমি গর্ত করে মাটি ইটভাটায় বিক্রি : এসক্লেভেটর জব্দ

প্রকাশিত: ১১:৪১ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৮, ২০১৯

বিয়ানীবাজারে ফসলী জমি গর্ত করে মাটি ইটভাটায় বিক্রি : এসক্লেভেটর জব্দ

অথিতি প্রতিবেদক : বিয়ানীবাজার উপজেলায় একটি অসাধু চক্র বিভিন্ন স্থানে ফসলী জমি গর্ত করে মাটি বিক্রির জমজমাট ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে কৃষি জমির পরিমাণ যেমন কমছে তেমনিভাবে পরিবেশ বিপর্যয়েরও আশংকা রয়েছে। স্থানীয় পরিবেশবাদীরা এ নিয়ে তৎপর হলে পুলিশ একটি স্পটে অভিযান চালিয়ে ‘এসক্লেভেটর’ জব্দ করেছে। তবে অভিযুক্ত কাউকে এখনো গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।

জানা যায়, বিয়ানীবাজার উপজেলায় নতুন-পুরনো মিলে বেশকয়েকটি ইটভাটা গড়ে উঠেছে। এদের অনেকেরই পরিবেশের ছাড়পত্র কিংবা বৈধ কাগজপত্র নেই। তারপরও ইটভাটাগুলো নির্বিঘেœ ব্যবসা করে যাচ্ছে। সম্প্রতি কাকরদিয়া এলাকায় বড়পরিসরে একটি অটোমেটিক ব্রিক ফিল্ড কারখানা স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এসব ভাটার ইট তৈরির প্রধান উৎস ফসলী জমির মাটি। এজন্য উপজেলাজুড়ে গড়ে উঠেছে একটি অসাধু চক্র। তারা টাকার বিনিময়ে ফসলী জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট করে মাটি ইটভাটায় বিক্রি করছে। আবার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ‘এসক্লেভেটর’ ব্যবহার করে জমি ১০-১৫ ফুট গর্ত করা হচ্ছে। এতে স্থানীয় পরিবেশবাদীরা ভ‚মির শ্রেণি পরিবর্তনের পাশাপাশি পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা করছেন।

বিয়ানীবাজার পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আলম হৃদয় বলেন, মাটি বিক্রি করে গর্ত হওয়া জমি ভরাটের জন্য প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে কুশিয়ারা নদীর ডাইক ভেঙ্গে দেওয়া হয়। তখন নদীর পানির কারণে বিচ্ছিন্ন এলাকা প্লাবিত হয় এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

তিনি নেরাউদি, বৈরাগীবাজার, মুড়িয়া হাওরসহ সবক’টি অবৈধ মাটিকাটার স্পট অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন।

এদিকে সম্প্রতি বিয়ানীবাজারের কাকরদিয়া রুকনীবন্দ হাওরে ২০-২৫ একর ভ‚মি চিহ্নিত ঐ ব্যবসায়ী চক্র ১৫-১৬ ফুট গর্ত করে মাটি পাশর্^বর্তী অটোব্রিক ফিল্ডে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পাশের ফসলী জমিও গর্তে ভেঙ্গে পড়তে দেখা গেছে। এ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকগণ দুশ্চিন্তায় ভ‚গছেন। আবার ভ‚ক্তভোগীদের মধ্যে ঘুঙ্গাদিয়া গ্রামের আলী আহমদ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে গত বুধবার (২৭ মার্চ) মাটি ব্যবসায়ী ইকবাল হোসেনসহ কয়েকজনকে আসামী করে থানায় মামলা করেছেন। এজাহারে তিনি ৫ লক্ষ টাকার মাটি কেটে অন্যত্র বিক্রি এবং ২৫ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন।

এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার থানার পুলিশ ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জাহিদুল হক বলেন, আমরা সরেজমিন তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। এ সময় মাটিকাটার একটি যন্ত্র ‘এসক্লেভেটর’ জব্দ করেছি। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..