প্রচ্ছদ

কানাইঘাটে ইউএনও’র উপর কর্মরত সাংবাদিকদের ক্ষোভ

১৭ মার্চ ২০১৯, ২৩:৫৬

crimesylhet.com

Sharing is caring!

কানাইঘাট সংবাদদাতা :: কানাইঘাটে ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সোমবার ১৮ই মার্চ অনুষ্ঠিত হবে। কানাইঘাটের নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহের জন্য জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দের নিার্বচনী পাস কার্ড প্রদান করা হয়নি। এতে এতে কানাইঘাটে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা যায়, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহের জন্য সাংবাদিকদের পাস কার্ড প্রদান করা প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন থেকে আদেশ জারি করা হয় গত ১২ মার্চ। তাই বিধি মোতাবেক কানাইঘাট উপজেলা প্রেসক্লাবের সকল সাংবাদিকবৃন্দ তাদের যাবতীয় কাগজপত্রাদি জমা প্রদান করেন কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানা বরাবরে। নির্বাচনী বিধি মোতাবেক ১৭ মার্চ রবিবার বিকাল ৫টার মধ্যে উপজেলা সহকারী রির্টানিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানিয়া সুলতানা সকল সাংবাদিকবৃন্দের কার্ড প্রদান করবেন। কিন্তু তা না করে তিনি গড়িমসি করে বিকাল ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত অপেক্ষা করান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কার্ড প্রদান না করে তিনি তার অফিস হইতে বেরিয়ে যান। পরে কার্ড পাওয়ার জন্য সাংবাদিকবৃন্দ যোগাযোগ করতে গেলে তিনি সাংবাদিকদের সাথে দুর্ব্যবহার করে গাড়ি যোগে বেরিয়ে যান।

এরপর অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কানাইঘাটে জাতীয় এবং স্থানীয় পত্রিকায় কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন কানাইঘাট উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আলিম উদ্দিন আলিম ও দপ্তর সম্পাদক মুফিজুর রহমান নাহিদের নামে নামে নির্বাচনী পাস কার্ড ইস্যু করা হয়। এতে কানাইঘাটে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা বিষয়টি কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানার কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন তার অফিসে যোগাযোগ করার জন্য। কিন্তু অফিসে যোগাযোগ করতে গেলে তার সহকারী পাপ্পু বলেন, জমা দেওয়া কানাইঘাট উপজেলা প্রেসক্লাবের আবেদনের মধ্যে উল্লেখিত দুইজনের নামে নির্বাচনী পাস কার্ড দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। অবশিষ্ট আবেদনকৃত সাংবাদিকদের পাস কার্ডগুলোর ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানার নির্দেশ মোতাবেক তিনি দুটি কার্ড দিতে পারবেন অবশিষ্ট কার্ড দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত নির্বাচনী পাস কার্ড না থাকায় তিনি দিতে পারবেন না।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানার কাছে বার বার যোগাযোগের চেষ্টার পর তিনি কল রিসিভ করলে নির্বাচনী সংবাদ সংগ্রহের পাস কার্ড প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি জানান, আবেদনকৃত ১১ জনের মধ্যে কর্মরত সাংবাদিক দুই জন ব্যতিত বাকী সকলের কার্ড ভূয়া এবং এদের কোন অস্তিত্ব নেই। উল্লেখ করা পত্রিকাগুলো মার্কেটে পাওয়া যায় না এবং আবেদনকৃত সাংবাদিকরা কার্ড বাণিজ্য করে তারা নির্বাচনী পাস কার্ড পাওয়ার জন্য আবেদন করেন। এতে সাংবাদিকের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এ ব্যাপারে রির্টানিং কর্মকর্তা ও সিলেটের জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সন্দীপ কুমার সিংহর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, নির্বাচনী পর্যাপ্ত পাস কার্ড সাংবাদিকদের জন্য দেওয়া হয়েছে। এবং উপজেলায় কর্মরত সকল সাংবাদিকদের পাস কার্ড প্রদানের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমি দ্’ুবার ফোন করে নিবার্হী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানাকে বলে দিয়েছি। তারপরেও কেন তিনি নির্বাচনী পাস কার্ড প্রদান করছেন না আমি বুঝতে পারছিনা।

সিলেটের জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল ইসলাম বলেন, কানাইঘাটে কর্মরত সাংবাদিকদের নির্বাচনী পাস কার্ড না পাওয়ার অভিযোগ শুনেছি। এতে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানাকে নির্দেশ দিয়েছি কানাইঘাট উপজেলায় কর্মরত জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার সকল সাংবাদিকদের নির্বাচনী পাস কার্ড প্রদান করার জন্য। তিনি বলেন, কেন কি কারনে কার ইন্ধনে কানাইঘাটে কর্মরত সাংবাদিকদের পাস কার্ড দেওয়া হলোনা তা খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে কানাইঘাট উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আলিম উদ্দিন আলিম বলেন, কানাইঘাটে কর্মরত সাংবাদিকদের পত্রিকার কার্ড ও আইডি কার্ড যাচাই বাছাই করে কানাইঘাট উপজেলা প্রেসক্লাবের পক্ষথেকে উপজেলা প্রেসক্লাবের বিভিন্ন দায়িত্বপ্রাপ্তদের মধ্যে এগারো জনের নিবাচনী পাস কার্ড প্রদানের জন্য আবেদন করি। কিন্তু একটি কুচক্রী মহলের পরামর্শে ও তাদের সাথে আতাঁত করে উপজেলা প্রেসক্লাবের ১১ জনের মধ্যে আমাকে ও দপ্তর সম্পাদক মুফিজুর রহমান নাহিদকে নির্বাচনী পাস কার্ড প্রদান করার জন্য ইস্যু করা হয়। তিনি বলেন, উপজেলা প্রেসক্লাবের সকল সাংবাদিকদের নির্বাচনী পাস কার্ড প্রদান না করায় তিনি উল্লেখিত দুটি কার্ড গ্রহণ করেননি।

এদিকে কানাইঘাট প্রেসক্লাবের এক জরুরি সভা রবিবার রাত ১০টায় উপজেলা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে কানাইঘাট উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক আমাদের নতুন সময় এবং সিলেটের দৈনিক শুভ প্রতিদিনের কানাইঘাট প্রতিনিধি আলিম উদ্দিন আলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। কানাইঘাট উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক সিলেটের দিনকাল পত্রিকার কানাইঘাট প্রতিনিধি জয়নাল আবদীন আজাদের পরিচালনায় উক্ত সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক ও দৈনিক তৃতীয় মাত্রার কানাইঘাট প্রতিনিধি মুফিজুর রহমান নাহিদ, প্রচার সম্পাদক ও দৈনিক রুদ্র বাংলা পত্রিকার কানাইঘাট প্রতিনিধি ওহিদুল ইসলাম, ক্রীড়া সম্পাদক ও দৈনিক স্বাধীন বাংলার কানাইঘাট প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান রায়হান, কোষাধ্যক্ষ ও দৈনিক আমাদের অর্থনীতির কানাইঘাট প্রতিনিধি আবুল হাসনাত, উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য দৈনিক মানবাধিকার প্রতিদিনের কানাইঘাট প্রতিনিধি শাহেদুল করিম চৌধুরী, উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারের কানাইঘাট প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান, উপজেলা প্রেসক্লাবের সদস্য দৈনিক প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার কানাইঘাট প্রতিনিধি ফয়ছল কাদির প্রমূখ।

সভায় বক্তারা কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানার এহেন কর্মকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এবং অভিলম্ভে কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানাকে কানাইঘাট থেকে প্রত্যাহারের দাবী জানান। এছাড়া উল্লেখিত অভিযোগটি লিখিতভাবে সরকারের উর্র্র্দ্বতন কর্তপক্ষের কাছে অবহিত করারও সিদ্বান্ত গৃহিত হয়। এবং কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া সুলতানার সকল সংবাদ বর্জন করারও সিদ্বান্ত গ্রহণ করা হয়।

  •  
  •  
  •  

আর্কাইভ

shares