ছাতকে প্রকল্পে কাজ না হওয়ায় ৬৮ মে.টন চাল ফেরত : উপজেলা জুড়ে উত্তেজনা

প্রকাশিত: ৯:৪৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০১৮

ছাতকে প্রকল্পে কাজ না হওয়ায় ৬৮ মে.টন চাল ফেরত : উপজেলা জুড়ে উত্তেজনা

ছাতক প্রতিনিধি :: ছাতকে কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) ও কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা)’র বিশেষ বরাদ্দের ২৬ লাখ ৭৮ হাজার ৪১৮ টাকা মূল্যের ৬৮ টন সরকারি চাল ফেরত দেয়া হয়েছে। ফলে গ্রামীণ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের সাধারন মানুষ। এঘটনায় উপজেলা জুড়ে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও জন প্রতিনিধিদের সমন্বয়হীনতার কারনে এ ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করেন। এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্য থেকে পাওয়া গেছে পরষ্পর বিরোধী বক্তব্য। উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের একটি প্রকল্পের চেয়ারম্যান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউপি সদস্য জানান, পিআইও কে কমিশন না দিলে প্রকল্পের চাল (টাকা) ছাড় দেয়া হয়না । বিভিন্ন ইউনিয়নের একাধিক প্রকল্প চেয়ারম্যান জানান, প্রকল্প না দেখেই তিনি কাজ হয়নি বলে বরাদ্দ অনুযায়ী কমিশন দাবি করেন । দাবি পুরন না হলে অর্থ বা চাল ছাড় দেননি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। ছাতক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলাম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন নির্ধারিত স্থানে প্রকল্প অনুযায়ী কাজ না হওয়ায় প্রকল্প সরজমিন প্ররির্দশন করে অর্থ ও চাল ফেরত নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট একটি সুত্র জানায় , ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ছাতক উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে কাবিখা প্রকল্পে ৯০ মে.টন সরকারি চাল (বিশেষ) বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে দক্ষিণ খুরমা ইউনয়নে ৮ টনের মধ্যে ৬ টন, চরমহল্লা ইউনিয়নে ১৬ টনের মধ্যে ৮ টন, উত্তর খুরমা ইউনিয়নে ১৬ টনের মধ্যে ১২ টন, ছৈলা আফজালাবাদ ইউনিয়নে ৮ টন, দোলারবাজার ইউনিয়নে ৮ টনের মধ্যে ৪ টন, ছাতক সদর ইউনিয়নের ৮ টনের মধ্যে ২ টন ও সিংচাপইড় ইউনিয়নে ৮ টন সরকারি চালের বরাদ্দ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ছাড় দেয়া হয়নি। এছাড়া সাধারণ কাবিটা প্রকল্পে উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের ১২ টন, ছাতক সদর ইউনিয়নের ১১ টন, উত্তর খুরমা ইউনিয়নে ৪ টন, ইসলামপুর ইউনিয়নে ৬ টন, চরমহল্লা ইউনিয়নে ৪ টন, কালারুকা ইউনিয়নে ৫.৭৫০ টন, ছৈলা আফজালাবাদ ইউনিয়নে ৫ টন, সিংচাপইড় ইউনিয়নে ৪.৫০০ টন, দোলার বাজার ইউনিয়নের ৬ টন সরকারি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসবের মধ্য জাউয়ায় ৬ টনের মধ্যে সাড়ে ৪ টন, ভাতগাঁওয়ে ৬.২৫০ টন, নোয়ারাইয়ে ৭ টনের মধ্যে ৫.২৫০ টন ও দক্ষিণ খুরমায় সাড়ে ৪ টন সরকারি বরাদ্দের চাল ছাড় দেয়া হয়নি। বিশেষ বরাদ্দের চাল ৪টি ইউনিয়নে বরাদ্দ দেয়া হয়নি। প্রকল্পের কাজ ও চাল (টাকা) নিয়ে জনপ্রতিনিধি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের মধ্যে মতবিরোধের কারনে সরকারি কোষাগারে বরাদ্দের চাল ফেরত দেয়া হয়েছে। এর আগেও প্রকৌশল বিভাগের একই অর্থবছরে জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়হীনতার কারনে বরাদ্দের প্রায় পৌণে ১কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের সহকারি প্রকৌশলীসহ জনপ্রতিনিধিরা মুখ খুলতে নারাজ। জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তাদের সাথে এসব বিষয়ে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি বিভিন্ন ভাবে এড়িয়ে যাচ্ছেন। সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাসির উল্লাহ খাঁন এ বিষয়ে জানিয়েছিলেন, প্রকল্প তৈরি করে জমা না দেয়ায় এসব টাকা ফেরত চলে গেছে। ছাতক উপজেলা চেয়ারম্যান অলিউর রহমান চৌধুরী বকুল এব্যাপারে জানান, প্রকৌশল বিভাগের টাকা ফেরত গেছে সংসদ সদস্যের কারনে তিনি চেয়ারম্যানদের অবহিত না করেই বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রকল্প দিয়েছেন। ফলে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানরা ক্ষোদ্ধ হয়ে তারাও কোন প্রকল্প দাখিল করেননি। কাবিখা ও কাবিটার চাল ফেরত দেয়া হয়েছে জেনেছি। দাখিলকৃত প্রকল্পের কাজ অধিকাংশ না করিয়েই ভূয়া মাষ্টার রোলের মাধ্যমে অনেক প্রকল্প চেয়ারম্যান বরাদ্দের অতিরিক্ত চাল উত্তোলন করেছেন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সরজমিনে কাজ দেখেই চাল (টাকা) ছাড় ও ফেরত দিয়েছেন।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..