সিলেট | |
প্রকাশিত: ৩:৩৮ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৬
আনোয়ার হোসেন রনি, সুনামগঞ্জ :: সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও সুনামগঞ্জের ১২০ প্রার্থীর নিয়োগ আটকে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই ও ডিএসবি পুলিশের ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনের কারণে এসব প্রার্থীর নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
দীর্ঘ আট মাসের অপেক্ষা শেষে নিয়োগের দ্বারপ্রান্তে এসে এমন অনিশ্চয়তায় হতাশা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ভুক্তভোগীদের মধ্যে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জেলার ৬৩৫টি সহকারী শিক্ষক পদের বিপরীতে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া চললেও ১২০ জনকে আপাতত নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না। এতে প্রশ্ন উঠেছে—লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেধার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর শেষ মুহূর্তে ঠিক কী কারণে এতজন প্রার্থী নিয়োগ থেকে বাদ পড়ছেন?
গত শনিবার বঞ্চিত প্রার্থীরা জেলা প্রশাসকের বাংলোর সামনে অবস্থান নেন। তারা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুনঃতদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য যাচাই করে দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানান।
তাহিরপুর উপজেলার কাউকান্দি গ্রামের আমিরুল হাসান ২০২১ সালে এমসি কলেজ থেকে গণিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তিনি বলেন, চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পর গত আট মাস ধরে নিয়োগের আশায় ছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত নিয়োগপত্রে নিজের নাম না দেখে তিনি হতাশ হয়ে পড়েছেন।
তার দাবি, কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই এবং থানায় তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরিও নেই।
একই গ্রামের মহসিন মিয়া সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে অনার্স শেষ করেছেন। পিতামাতাহীন মহসিন টিউশনি করে পরিবার চালান। তিনি বলেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে নাম বাদ পড়ার কথা শুনে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।
শান্তিগঞ্জের ফতেহপুর গ্রামের সামন্ত কুমার দাস বলেন, উপজেলায় মেধাতালিকায় তার অবস্থান ছিল নবম। দীর্ঘ অপেক্ষার পর নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু চূড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকায় তিনি হতবাক। তার ভাষ্য, কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত নন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস বলেন, জেলায় মোট ৬৩৫ জন শিক্ষক পদের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আপাতত ১২০ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দু-এক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত এলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান বলেন, সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্য থেকে অনেকে বাদ পড়ার বিষয়টি তারা অবগত হয়েছেন। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়েও বিষয়টি জানানো হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের ন্যায়সংগত অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনি সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
এদিকে ভুক্তভোগীদের প্রশ্ন—মেধা, লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা ও চূড়ান্ত সুপারিশের সব ধাপ পেরিয়েও যদি শেষ মুহূর্তে নিয়োগ আটকে যায়, তাহলে সেই ভেরিফিকেশনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে? এখন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছেন বঞ্চিত ১২০ প্রার্থী ও তাদের পরিবার।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd