সুনামগঞ্জে ৭ বছরের শিশু ধর্ষণের পর ১০ হাজার টাকায় ধর্ষকের দায় মুক্তি!

প্রকাশিত: ৪:৫৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৯, ২০১৮


Manual8 Ad Code

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :: প্রথম শ্রেণীতে পড়–য়া ৭ বছরের শিশু কন্যাকে ধর্ষণের ঘটনায় সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুরে গ্রাম্য সালিসের নামে মাত্র ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে ধর্ষককে দায় মুক্তি দেয়া হয়েছে।’

উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের পিরিজপুর গ্রামে শিশু ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাঁপা দিতে কথিত গ্রাম্য সালিসীদের দেয়া এ রায়ের বিষয়টি জানাজানির পর রোববার উপজেলার সর্বত্র তোলাপাড় শুরু হয়েছে।’

Manual4 Ad Code

ভিকটিমের পরিবার ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, উপজেলা পিরিজপুর গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের ৭ বছরের শিশু কন্যা স্থানীয় পিরিজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণীতে পড়–য়া শিশু শিক্ষার্থী গত শনিবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে বাড়ির উঠোনে খেলা করছিলো।’ ওই সময় একই গ্রামের প্রভাবশালী প্রতিবেশী উপানন্দ দাসের বখাটে ছেলে নয়ন দাস (২১) মুঠোফোনে ভিডিও গান দেখানোর প্রলোভন দেখিয়ে শিশু কন্যাকে গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে শ্রেণীকক্ষের দরজা বন্ধ ধর্ষণ করে।’ পরে শিশুটি বাড়ি এসে পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিকট ঘটনা খুলে বলে।’

এদিকে নয়নের পক্ষে ঘটনা ধামচাঁপা দিতে তার পরিবার ও স্বজনেরা গ্রামের একদল সালিসীদের দিয়ে রাতেই ওই শিশু কন্যার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা গ্রহন ও আইনি সহায়তা নিতে বাধা সৃষ্টি করে চিকিৎসার জন্য গ্রামের হোমিও প্যাথিক এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায়। গ্রামের চিকিৎসক অপারগতা প্রকাশ করলে সেখান থেকে রাতেই সুনামগঞ্জ শহরে একটি প্রাইভেট চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে শিশু কন্যাকে গোপনে চিকিৎসা করিয়ে বাড়ি নিয়ে আসা হয়।’

অপরদিকে, গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য ও পাখি বাবু, বোরহান উদ্দিন, নিরু দাস, নানির উদ্দিন, আজির উদ্দিন কথিত সালিসীগণ গত বুধবার রাতে (২৫ এপ্রিল) গ্রামের পিরিজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় গ্রাম্য মাতব্বর মন্টু ভট্রাচার্য্যরে সভাপতিত্বে সালিস বসেন।’ সালিশে ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল হেকিম, ভিকটিম, ভিকটিমের পরিবারর সহ গ্রামের শতাধিক লোকজনের উপস্থিত থাকলেও অভিযুক্ত নয়ন দাসকে উপস্থিত করা হয়নি।’ ওই সালিসে সালিশে শিশু কন্যা ধর্ষণের ঘটনায় নয়নকে দোষী সাবাস্থ্য করে ভিকটিমের পরিবারকে ১০ হাজার টাকা ‘ক্ষতিপূরণ’ দেয়ার রায় দেন সালিশীগণ।

Manual5 Ad Code

ভিকটিমির হত দরিদ্র পিতা-মাতা রোববার জানান, আমরা আমাদের শিশু কন্যার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ও থানায় আইনি ব্যবস্থা প্রস্তুতি নিলেও গ্রামের স্থানীয় ইউপি সদস্য সহ কয়েকজন গ্রাম্য মাতব্বর বারবার বাঁধা প্রদান করেছেন, আমরা গ্রাম্য সালিশীদের রায় প্রত্যাখ্যান করেছি,আমরা গরীব মানুষ জানিনা কোথায় গেলে ন্যায় বিচার পাব?।’

Manual8 Ad Code

উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৪নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুল হেকিমের নিকট এ ব্যাপারে জানতে চইলে তিনি রোববার বিকেলে বলেন, সালিসে সভাপতিত্ব করেন গ্রামের মন্টু ভট্রাচার্য, সালিসে গ্রামের অনেক লেকজনই ছিলেন কিন্তু নয়নকে সালিসে উপস্থিত করা হয়নি, আমি কোন ধরণের রায় প্রদান করিনি। ‘

উপজেলার ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান রনজিত চৌধুরী রাজন রোববার বিকেলে জানিয়েছেন ধর্ষণের মত ঘটনা আইন- আদালত ব্যতিত গ্রাম্য সালিসের এখতিয়ার ইউপি সদস্য তো দুরের কথা ইউনিয়ন পরিষদের হাতেও নেই।’
বিশ্বম্ভরপুর থানার ওসি (তদন্ত) নব গোপাল দাস রোববার বিকেলে বলেন, শুরুতে এ বিষয়টি থানা পুলিশকে কেউ অবহিত করেনি রোববার সকালে লোকমুখে শিশু ধর্ষণের ঘটনাটি জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে ভিকটিমকে আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।’

Manual5 Ad Code

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..