কুমারগাঁও-তেমুখি-বাদাঘাট সড়কের দশা আরো বেহাল

প্রকাশিত: ১:০৯ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০১৮

কুমারগাঁও-তেমুখি-বাদাঘাট সড়কের দশা আরো বেহাল

Sharing is caring!

রেজা রুবেল,অথিতি প্রতিবেদক :: সিলেট শহরতলীর জনগুরুত্বপূর্ণ তেমুখি-বাদাঘাট সড়কের সংস্কার ইস্যুতে কারো ‘কথা’ই ঠিক থাকছে না। এক সপ্তাহের মধ্যে সংস্কার কাজ শুরু হবে এমন আশ্বাস দিয়েছিল সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সওজ কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে পরিদর্শন করে সংস্কার কাজ শুরুর আশ্বাস দিয়েছিলেন। শ্রমিক নেতৃবৃন্দ দাবি করছেন ‘ আশ্বাস- আশ্বাসেই থেকে গেছে’। ‘সওজ বা জনপ্রতিনিধি কেউই কথা রাখেননি’। অন্যদিকে গত দুই দিনের বৃষ্টিতে যাত্রী দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এলজিইডি ও সওজ কর্তৃপক্ষের ঠেলা ঠেলির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। এমনিতেই ভাঙ্গাচোরা বেহাল রাস্তা দিয়ে চলতে গিয়ে যন্ত্রণায় কাতর সিলেট সদর উপজেলার টুকেরবাজার (একাংশ), খাদিমনগর (একাংশ), কান্দিগাঁও (একাংশ) ও হাটখোলা-জালালাবাদ ইউনিয়নের বাসিন্দারা। এর মধ্যে বর্ষা আগমনী জানান দিয়েছে দুই দফা বৃষ্টিতে। এই দুই দিনের বৃষ্টিতেই কুমারগাঁও-তেমুখি-বাদাঘাট সড়কের বিশাল বিশাল গর্তে পানি জমেছে। কাদা মাটিতে যান চলাচলে অনুপযোগী হয়ে গেছে সড়কটি।
তেমুখি-বাদাঘাট-বাইশটিলা বাইপাস বা শিবেরবাজার সড়ক নামে পরিচিত ওই সড়কের ভেঙ্গে যাওয়া অংশের পরিমাণ ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার। এই সড়কটি বর্তমানে সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ সড়কের চেয়েও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। তেমুখি থেকে বাদাঘাট পর্যন্ত সড়ক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। চলতি মৌসুমে এই সড়কে যান চলাচল তো দূরের কথা, পথচারীদের হাঁটারও উপায় নেই। বৃষ্টি দিলেই বড় বড় গর্তে কাদা আর পানিতে যেনো চাষাবাদের জমিতে পরিণত হয় সড়কটি। অথচ কিছুদিনের মধ্যে বাদাঘাটে নির্মিত সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার উদ্বোধনের কথা রয়েছে। আর তা উদ্বোধনের পর এই সড়ক দিয়েই কয়েদী-হাজতিদের নিয়ে যাতায়াত করতে হবে কারা কর্তৃপক্ষের। এমন অবস্থায় এই সড়কের মাত্র ৫/৬ কিলোমিটার অংশ সংস্কারের জন্য ম্লান হতে চলছে বাদাঘাট এলাকায় মেরিন একাডেমি, কারাগার স্থাপনসহ সরকারের উন্নয়ন সাফল্য।
অপরদিকে, সড়কটিকে ৬ লেনে উন্নীত করা হবে এমন দোহাই দিয়ে ভুক্তভোগী ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করে আসছিলেন স্থানীয় জন প্রতিনিধিরা। তবে এলাকার শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বার বার দাবি করে আসছেন ‘ ৬ লেন চাই না, আগে সংস্কার চাই’। সংস্কারের দাবিতে সিএনজি অটোরিক্সা ও ট্রাক শ্রমিকরা আন্দোলনেরও ডাক দেন। গত ১৮ ফ্রেব্রুয়ারী অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটেরও ডাক দিয়েছিলেন তারা। একদিন পালনের পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। ঐ সময় এক মাসের মধ্যে সংস্কার কাজ শুরুর আশ্বাস দেন সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আশফাক আহমদ। এরপর এক মাস পুরো হওয়ার ঠিক ২/৩ দিন আগে গত ১৩ মার্চ সওজের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী চন্দন কুমার বসাককে নিয়ে সড়ক পরিদর্শনে যান আশফাক আহমদ। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সংস্কার কাজ শুরু হবে বলে তখন উপস্থিত শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যমকর্মীদের জানান। এরপর ১৮ দিন পেরিয়ে গেছে কোন সংস্কার কাজ শুরু হয়নি বলে দাবি করছেন সিএনজি অটোরিক্স্রা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
সিলেট জেলা সিএনজি-অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়ন তেমুখি-আম্বরখানা-লামাকাজি-শিবেরবাজার শাখার সভাপতি আব্দুল খালিক জানান, এই সড়ক সংস্কার নিয়ে কেবল নাটক চলছে। এর মধ্যে প্রতিদিন দুর্ঘটনা ঘটছে। গাড়িতে সন্তান প্রসবেরও ঘটনা ঘটছে। এরপরেও টনক নড়ছে না কর্তৃপক্ষের। আব্দুল খালিক দাবি করেন সড়কে কোন সংস্কার হয়নি। খালি বর্ষায় গাড়ি চালানো বন্ধ করে ঘরে বসে থাকতে হবে।
ফারুক আহমদ নামের এক যাত্রী বলেন, আমাদের জনপ্রতিনিধিদের কথা শুনে হাসব না কাঁদব বুঝে উঠতে পারছি না। তবে এটা সত্য সব আশ্বাস বাস্তবায়ন হয় না। এই সড়কের ভবিষ্যত আমরা আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়েছি ।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী উৎপল সামন্তের সাথে যোগাযোগ করা হলে বাদাঘাট রাস্তা সংস্কার প্রসঙ্গ শুনে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ ব্যাপারে সিলেট সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি আলহাজ্ব আশফাক আহমদ বলেন, ‘কিছু কাজ হয়েছে, বৃষ্টি উঠলে আরো কিছু হবে।’ কারা করছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সওজ করছে। তবে সওজ এর কর্মকর্তা এ বিষয়ে কিছু বলতে চাননি বললে আশফাক বলেন, সওজ আনঅফিসিয়েলি কাজ করছে।’

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares