ভোগান্তির আরেক নাম দক্ষিন সুরমা সুলতানপুর জালালপুর সড়ক

প্রকাশিত: ৫:১২ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৮

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের দক্ষিন সুরমার চন্ডীপুল পয়েন্ট হতে জালালপুর ও বালাগঞ্জের একাংশ পর্যন্ত সড়কের বেহাল অবস্থা। মেরামতের অভাবে সুলতানপুর বাজার হইতে চন্ডীপুল পয়েন্ট পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার রাস্তার বিভিন্ন স্থানে খানা খন্দের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই প্রচন্ড জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় সড়কটিতে। এরই মধ্যে ভেঙে ছোটখাট কুয়ায় পরিণত হয়েছে সড়কটির বেশ কয়েকটি অংশ। ফলে এর বেশ কিছু অংশই এখন চলাচলের উপযোগী নয়। সড়কটি এখন যেন মরণফাঁদ। রাস্তার অনেক জায়গায় কার্পেটিং উঠে গিয়ে ছোট-খাটো গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহনগুলোকে চলতে হচ্ছে হেলেদুলে।

Manual6 Ad Code

এরাস্তা দিয়ে প্রতিদিন প্রায় হাজার হাজার রিকশা, ট্রাক, প্রাইভেট কার, সিএনজি, টেম্পু, মোটরসাইকেল, ভ্যান, সাইকেল, বিভিন্ন কোম্পানীর মালবাহী গাড়িসহ অফিসিয়াল যানবাহন চলাচল করে। রাস্তা ভাঙ্গার কারণে প্রায় প্রতিদিনই লোকজন বিভিন্ন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। বিকল্প সড়ক না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন শহরে আসতে হয় কয়েক হাজার যাত্রী। কর্তপক্ষের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে ইট-বালু- দিয়ে মেরামত করা হলেও ৭/৮ দিন পর আবার পূর্বের অবস্থার সৃষ্টি হয়। অতিদ্রুত রাস্তাটি পুনর্র্নিমাণ বা সংস্কার করার দাবি এলাকাবাসীর।

Manual5 Ad Code

দক্ষিন সুরমা উপজেলার এই রাস্তাটি দিয়ে উপজেলায় যাতায়াত করতে হয় এবং উক্ত রাস্তাদিয়ে কয়েকটি ইউনিয়নে যেতে হয়। রাস্তার উপর নির্ভরশীল কয়েকটি স্কুল ও কয়েক হাজার শিক্ষার্থী, ফলে চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন উক্ত এলাকার কয়েক হাজার জনগন।
সরেজমিন দেখা গেছে, উক্ত রাস্তার বেশ কয়েকটি বড়বড় গর্ত হয়ে পুকুরে রূপ নিয়েছে। বৃষ্টি হলেই গর্তসহ পুরো সড়কটির তলিয়ে যায়। পানি জমে থাকলে অনেকেই গর্তের গভীরতা বুঝে উঠতে পারেন না। ফলে হরহামেশাই এসব গর্তে পড়ে নাস্তানাবুদ হতে হচ্ছে গাড়ি চালকদের। যানবাহন চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রাস্তার এবং গর্ত ও পানি সমান হওয়ায় কোনটা গর্ত আর কোনটা রাস্তাা বুঝার উপায় নেই।
সিএনজি চালক রাজিব বলেন রাস্তার এ বেহাল অবস্থার কারনে যাত্রীরা গাড়ীতে উঠতেই চায় না। ফলে আয় রোজগার কমে গেছে। সংসার নিয়ে খুব কষ্টে আছি। রাজিব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ১০ বছর ধরে এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন সিএনজি দিয়ে যাত্রী আনা-নেয়া করছি। রাস্তায় সমস্যা থাকার কারনে সিএনজির বডি নিচ থেকে ভেঙে এখন ইঞ্জিনের ভিতরে পানি আসে।
ভাই ভাই ওয়াকর্সপ সত্বাধীকারী মো. বাবলু মিয়া বলেন, রাস্তায় একটু বৃষ্টি হলেই হাটু পরিমান পানি জমে। এছাড়া ড্রেন ব্যবহার না থাকায় দুই পাশের বাসা বাড়ির পানি জমে এখানে বড় বড় গর্ত হয়ে গেছে। প্রতিদিন শতশত গাড়ি চলাচল করে এরাস্তা দিয়ে এবং প্রতিদিন গাড়ি নষ্ট হয়, যাত্রী আহত হয়। এ সড়কের গর্তগুলোতে গড়ে প্রতিদিনই পাঁচ-দশটি দুর্ঘটনা ঘটছে। গত এক সপ্তাহে কম হলেও অর্ধশত গাড়ি গর্তে পড়েছে। গর্তে পড়লে ওই গাড়িকে অন্য গাড়ির সাহায্য নিয়েই উঠাতে হয়। তিনি আরও বলেন, রাস্তাটির বেহাল অবস্থার কারনে আশে পাশের ব্যবসায় বাণিজ্য অচলাবস্থা।

এরাস্তা দিয়ে যাতায়াতকারী স্থানীয় শিক্ষক তারেকুর রহমান ফেইসবুকে একটি পোষ্ট করেন- “ অল্প বৃস্টিতে সিলেট- সুলতান পুর সড়কের যে অবস্থা তৈরী হয়েছে বর্ষায় তা কতটুকু কস্টকর হবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা,এই কি ছিলো আমাদের কপালে ??? আর কত এই এভাবে ঝুড়িতে মাছ দোয়া হয়ে আমাদেরকে চলতে হবে, এর থেকে কি আমরা রেহাই পাবনা ???”

Manual1 Ad Code

উনার সাথে সাক্ষাত করিলে আরো বলেন, প্রতিদিন স্কুল কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াত নিরাপত্তা চরমভাবে উপেক্ষিত। বিশেষ করে ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে স্কুলে দেওয়া নেওয়ার মধ্যে যে কোন সময় বিপদ হতে পারে এই আশংকায় অনেক মাস ধরে জীবন যাপনের স্বাচ্ছন্দ বিঘিœত হচ্ছে।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, অনেক বছর, মনে হয় অনেক কাল ধরে সমস্যায়, ভোগান্তিতে নাগরিক জীবন দূর্বিসহ। স্বাধীনতা গণতন্ত্র একান্তই কিছু শ্রেণীর মুখের কথা। সাধারণ মানুষ তার দাবী, সমস্যা, অধিকারের কথা বলতে গেলেই রাজনৈতিক দলের কাছে পক্ষ পাতে পড়তে হয়। মনে হয় আমাদের সমাজ নেতৃত্বশূন্য, কেউ নেই শোনার দেখার। তবুও ফেস্টুন, ব্যানার, পোষ্টারে শোভা পায় বর্তমান ও ভবিষ্যতের নেতাদের ছবি। এসব দেখে মনে হয় সমস্যার জঞ্জালের আর্বতের সাথে নেতা নামক জঞ্জালদের সমাজ থেকে চির উৎপাটন করা উচিৎ।

জনগন বলতেছে এলাকার এমপি’র নজরে মনে হয় এ রাস্তা সংস্কারের কোন চিন্তাই নেই। বিগত ৪ বছর ধরে রাস্তার এ অবস্থায় চরম দুর্ভোগের কারনে মানুষ মুখের ভাষা খারাপ করে জনপ্রতিনিধিদের গালাগালী করিতেছে। আর তাও বলছেন কখন যে এ বিষাদময় পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাবো আল্লাহ জানেন।

Manual1 Ad Code

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

February 2018
S S M T W T F
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
2425262728  

সর্বশেষ খবর

………………………..