সিলেট | |
প্রকাশিত: ১:২৪ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৭, ২০২৬
বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি :: সিলেটের বিয়ানীবাজারে এক হিন্দু গৃহবধূকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং বাড়িতে থাকা মন্দিরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা পাবেল মাহমুদ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজি ও নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় গত ১৫ জানুয়ারি এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা যায়। এই ঘটনায় এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী সবিতা রানী কর বিয়ানীবাজারের সাবেক ব্যবসায়ী সমর মজুমদারের স্ত্রী। জানা যায়, প্রভাবশালী ব্যবসায়ী জাহিদ খানের প্রত্যক্ষ নির্দেশে পাবেল মাহমুদ দীর্ঘ দিন ধরে হিন্দু ব্যাবসায়ী সমর মজুমদারের কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে কয়েক বছর আগে সমর মজুমদার দেশ ছেড়ে কানাডায় পাড়ি জমান। কিন্তু তার অবর্তমানেও সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য কমেনি। সম্প্রতি পাবেল মাহমুদ তার ক্যাডার বাহিনী নিয়ে সবিতা রানীর পরিবারের কাছে কয়েক লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল।
ভুক্তভোগী সবিতা রানীর বর্ণনা মতে, গত ১৫ জানুয়ারি জাহিদ খানের ছেলে বাসিত ও যুবদল নেতা পাবেল কিছু মাদরাসা শিক্ষার্থী ও তাদের অনুসারী ক্যাডার বাহিনী নিয়ে সমর মজুমদারের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। সবিতা রানী আরও বলেন, পাবেল এসে ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে জিজ্ঞেস করে টাকা রেডি রেখেছে কি না। প্রতি উওরে তিনি বলেন এতো টাকা তার কাছে নেই। এই কথা শুনে পাবেল সবিতা রানীকে শ্লীলতা হানির চেষ্টা করে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে সবিতা রানির কাপড় ছিঁড়ে যায়। সবিতা রানীর চিৎকার শুনে শ্বশুর ও প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে আক্রমণকারীরা তাকে ছেড়ে দেয়। তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা পলায়নের সময় বাড়ির আঙিনায় থাকা মন্দিরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। যাওয়ার সময় তারা তাদেরকে হুমকি দিয়ে যায়। সবিতা রানির অভিযোগ এই ঘটনার পর পুলিশের কাছে গেলেও পুলিশ কোন সাহায্য করে নি।
ঘটনার সময় আর্তচিৎকার শুনে এগিয়ে আসা প্রতিবেশীরা পাবেল ও তার ক্যাডার বাহিনীর এমন তাণ্ডবে হতবাক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রতিবেশী জানান, আমরা চিৎকার শুনে দৌড়ে এসে দেখি সবিতা দিদি ধস্তাধস্তি করছেন আর তার কাপড় ছেঁড়া। পাবেল আর তার সাঙ্গোপাঙ্গরা তখন চিল্লাপাল্লা করছিল। আমরা বেশি মানুষ জড়ো হওয়াতে তারা মন্দিরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে এবং ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। এই এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে এমন ঘটনা আগে দেখিনি। আমরা এখন নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত।
তবে এই ঘটনায় বিয়ানীবাজার থানার ওসির সাথে সেল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি এই ঘটনায় কোন মন্তব্য করতে রাজি হন নি।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd