সিলেট | |
প্রকাশিত: ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৩, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :: যুক্তরাজ্যে (ইউকে) আকর্ষণীয় কর্মসংস্থান ও ওয়ার্ক পারমিট ভিসার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ঢাকার নামসর্বস্ব ‘ক্যানারি ভিসা কনসালটেন্সি’র মালিক দম্পতির আসল চেহারা উন্মোচিত হয়েছে। সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোঃ শরিফুল হকের নির্দেশে শাহপরাণ (রহঃ) থানা পুলিশের নিবিড় তদন্তে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসার পর, প্রতারক চক্রের অন্যতম মূল হোতা তাসলিমুল জান্নাত মালিহা আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালতের নির্দেশে তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে ঘটনার প্রধান অপরাধী তার স্বামী শুভা চৌধুরী ওরফে শহিদুল ইসলাম এখনো আত্মগোপনে রয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিযুক্ত শুভা চৌধুরী ওরফে শহিদুল ইসলাম (৩২), পিতা- স্বপন চৌধুরী, মাতা- ফেরদৌসী বেগম এবং তার স্ত্রী তাসলিমুল জান্নাত মালিহা (২৮), পিতা- মোঃ আতাউর রহমান, মাতা- আছমা ফেরদৌসী মূলত লক্ষ্মীপুর জেলার লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের আটিয়াতলী (জজ মৃধা চৌধুরী বাড়ি) এলাকার বাসিন্দা। তারা ঢাকার বনানীতে ‘ক্যানারি ভিসা কনসালটেন্সি’ (লেভেল-৩, বাড়ি নং ১৫৭, রোড নং ১২, ব্লক-ই, বনানী, ঢাকা-১২১৩) নামে একটি জাঁকজমকপূর্ণ অফিস খুলে ব্যবসা পরিচালনার আড়ালে সারা দেশে প্রতারণার জাল বিছায়।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ক্যানারি ভিসা কনসালটেন্সি চক্রটি প্রায় ২০ জন আবেদনকারীর কাছ থেকে সম্পূর্ণ ভুয়া ও জাল ‘কস’ (COS – Certificate of Sponsorship) সরবরাহ করে মোট ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। তারা বিদেশে চাকরি ও কর্মসংস্থানের কথা বলে এই বিপুল পরিমাণ টাকা নিলেও পরবর্তীতে প্রার্থীদের বিদেশে না পাঠিয়ে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করে। এরপর ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা তা দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং একপর্যায়ে তাদের সাথে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
পরবর্তীতে ক্যানারি ভিসা কনসালটেন্সির এই জালিয়াতি ও প্রতারণার বিষয়টি সিলেট উপশহরস্থ ‘নেক্সট কনসাল্টিং এজেন্সী লিমিটেড’-এর নজরে এলে তারা এর তীব্র বিরোধিতা ও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। নিজ গ্রাহকদের আমানত ও অধিকার রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে সত্য উদ্ঘাটন ও অর্থ উদ্ধারে তৎক্ষণাৎ যুক্তরাজ্যে যান নেক্সট কনসাল্টিং এজেন্সী লিমিটেডের কর্ণধার শাহ মোঃ ফজলুল কাদীর সিদ্দিকী (পারভেজ)। সেখানে নেক্সট কনসাল্টিং কর্তৃপক্ষের কঠোর আইনি অবস্থানের মুখে পড়ে প্রতারক দম্পতি লন্ডন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে লুকিয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী প্রার্থীদের অর্থ উদ্ধার ও আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নেক্সট কনসাল্টিং এজেন্সী লিমিটেডের কর্ণধার শাহ মোঃ ফজলুল কাদীর সিদ্দিকী (পারভেজ)-এর পক্ষে প্রতিষ্ঠানের অফিস ইনচার্জ মোঃ হাসমত আলী লিমন বাদী হয়ে গত ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা (সিআর ২৪/২০২৬, ধারা: ৪০৬/৪২০/৫০৬(II)/৩৪) দায়ের করেন। এরপর গত ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোঃ শরিফুল হকের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত ও প্রতিবেদনের জন্য শাহপরাণ (রহঃ) থানায় পাঠানো হয়।
পুলিশ নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে আদালতে ক্যানারি ভিসা কনসালটেন্সির প্রতারণার সত্যতা প্রমাণ করে প্রতিবেদন দাখিল করে। উক্ত তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তীতে আসামিপক্ষ তাসলিমুল জান্নাত মালিহা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন জানালে বিজ্ঞ আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
বর্তমানে ভুক্তভোগীদের সম্পূর্ণ অর্থ উদ্ধার এবং পলাতক প্রধান আসামি শুভা চৌধুরীকে আইনের আওতায় আনতে নেক্সট কনসাল্টিং এজেন্সী লিমিটেডের পক্ষ থেকে বাদীপক্ষ হিসেবে আইনি লড়াই ও কঠোর তদারকি অব্যাহত রয়েছে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd