সিলেট ২৫শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ৫ই শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ২:৩৩ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৫, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক, গোয়াইনঘাট :: সিলেটের সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়কের ‘দামারী’ নামক স্থানে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল। শনিবার দিবাগত রাতে এই স্থানে একদল সশস্ত্র ডাকাতের হামলার শিকার হয়েছেন ব্যবসায়ী সুলতান মাহমুদ ও তার সঙ্গীরা। ডাকাতদের বর্বরোচিত হামলায় তাদের ব্যবহৃত নোহা গাড়িটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ভেতরে থাকা যাত্রীরা অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে ফিরেছেন।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাতে উপজেলার হাদারপার থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা করেন ব্যবসায়ী সুলতান মাহমুদ তার ব্যবহৃত নোহা গাড়ি যোগে সঙ্গীদের নিয়ে। পথিমধ্যে দামারী এলাকায় পৌঁছামাত্র আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র ডাকাত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাস্তার গতিরোধ করে। ডাকাতরা গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করে এবং একপর্যায়ে এলোপাথাড়ি হামলা চালায়। এতে গাড়ির গ্লাস ও বডি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে চালক সুবাসের সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে সক্ষম হওয়ায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন সুলতান মাহমুদের বন্ধু দেলোয়ার হোসেন। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, সালুটিকর-গোয়াইনঘাট সড়কের এই ‘দামারী’ স্থানটি দীর্ঘ দিন ধরেই অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। এর আগে ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ একই স্থানে ডাকাতির শিকার হয়েছিলেন গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী। দীর্ঘ সময় পার হলেও এই পয়েন্টে ডাকাতদের দৌরাত্ম্য বন্ধ না হওয়ায় সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
বর্তমানে এই সড়কে যাতায়াতকারী চালক ও যাত্রীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, “আমরা কোনো মতে প্রাণে বেঁচে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছি, কিন্তু এই সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আমরা খুবই শঙ্কিত।”
এলাকাবাসীর দাবি অবিলম্বে এই ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশের টহল জোরদার করতে হবে। অন্যথায় আবারও বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা ডাকাতির ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
সালুটিকর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জে মুঠোফোন যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
স্থানীয় সচেতন মহল এবং ভুক্তভোগীরা পুলিশ প্রশাসনের নিকট এই ঘটনার দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত এবং ডাকাতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd