সিলেট ৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ১০ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি
প্রকাশিত: ৪:৩৮ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ৩০, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সুনামগঞ্জের ছাতকে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ২০০৫ সালের ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় আন্তর্জাতিক আদালতে অবশেষে বাংলাদেশের পক্ষে রায় এসেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস (ইকসিড) কানাডিয়ান কম্পানি নাইকোকে চার কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে) এর পরিমাণ প্রায় ৫১৬ কোটি টাকা।
পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজানুর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার ইকসিডের এই রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, রায়ে টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে প্রায় আট বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পুড়ে যাওয়ার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৪০ মিলিয়ন ডলার এবং পরিবেশসহ অন্যান্য ক্ষতির জন্য আরো দুই মিলিয়ন ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রটি ১৯৫৯ সালে আবিষ্কৃত হয়। পরের বছর কূপ খননের মাধ্যমে এক হাজার ৯০ থেকে এক হাজার ৯৭৫ মিটার গভীরতায় ৯টি গ্যাস স্তর শনাক্ত করা হয়। এখান থেকে উত্তোলিত গ্যাস ছাতক সিমেন্ট ও পেপার মিলের জন্য সরবরাহ করা হতো।
প্রায় ২৬.৪৬ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের পর কূপে পানি উঠে আসায় সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ২০০৩ সালে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য গ্যাসক্ষেত্রটি নাইকোর কাছে হস্তান্তর করা হয়। খননকাজ শুরুর পর ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন সেখানে পর পর দুটি মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটে। এতে গ্যাসক্ষেত্রের মজুদ গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের স্থাপনা ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়।
এই ঘটনার জন্য পেট্রোবাংলা নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করলেও প্রতিষ্ঠানটি তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ২০০৭ সালে পেট্রোবাংলা স্থানীয় নিম্ন আদালতে মামলা করে এবং নাইকোর ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস বিল পরিশোধ বন্ধ করে দেয়। হাইকোর্ট নাইকোর বাংলাদেশে থাকা সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত এবং সম্পাদিত চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেন। পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টেও বাংলাদেশের পক্ষেই রায় আসে।
এর পর আটকে রাখা গ্যাস বিল ও ক্ষতিপূরণ না দেওয়ার অভিযোগে নাইকো ২০১০ সালে ইকসিডে দুটি মামলা করে।
এর মধ্যে ২০১৪ সালের এক রায়ে ইকসিড পেট্রোবাংলাকে ফেনী গ্যাসক্ষেত্রের পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দেয়। পরে ২০১৬ সালে বাপেক্স নাইকোর বিরুদ্ধে প্রায় ৯ হাজার ২৫০ কোটি টাকা (প্রায় ১১৭ কোটি মার্কিন ডলার) ক্ষতিপূরণ দাবি করে ইকসিডে মামলা করে। সেই মামলার চূড়ান্ত আদেশেই এবার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ এলো। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল রায়ে উল্লেখ করেছেন, নাইকোর তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনাতেই খননকাজ পরিচালিত হচ্ছিল। আন্তর্জাতিক পেট্রোলিয়াম শিল্পের মানদণ্ড অনুসরণে ব্যর্থ হওয়া এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা না নেওয়ার কারণেই বিস্ফোরণ ঘটে। ফলে এসব ঘটনার জন্য নাইকো সরাসরি দায়ী।
টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রটি ছাতক পূর্ব ও ছাতক পশ্চিম (টেংরাটিলা) নামে দুটি অংশে বিভক্ত। বিস্ফোরণে ছাতক পশ্চিম অংশের একটি স্তরের গ্যাস পুড়ে গেলেও অন্য স্তরগুলো এবং ছাতক পূর্ব অংশের গ্যাস মজুদ অক্ষত রয়েছে। এই গ্যাসক্ষেত্রে সম্ভাব্য মজুদ দুই থেকে পাঁচ ট্রিলিয়ন ঘনফুট বলে বিবেচনা করা হয়। এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান রেজানুর রহমান বলেন, ছাতক গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খননের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত রয়েছে। ইকসিডের চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় ছিল পেট্রোবাংলা। এখন আইনজীবীদের মতামত নিয়ে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd