মৌলভীবাজার পাসপোর্ট অফিসের নমিতার বিরুদ্ধে গ্রাহক হেনস্তার অভিযোগ

প্রকাশিত: ২:১১ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২৬

মৌলভীবাজার পাসপোর্ট অফিসের নমিতার বিরুদ্ধে গ্রাহক হেনস্তার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদন, মৌলভীবাজার :: ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা, উল্টো মিলছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চরম দুর্ব্যবহার। দালালের দৌরাত্ম্য আর ঘুষের লেনদেন ছাড়া যেন ফাইলই নড়ে না এখানে। এমন এক বুকভরা ক্ষোভ আর অভিযোগ নিয়ে প্রতিদিন মৌলভীবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে ফিরে যাচ্ছেন শত শত সাধারণ মানুষ। ভুক্তভোগীদের মতে, এই অফিসটি এখন সেবা কেন্দ্রের বদলে সাধারণ মানুষের জন্য এক ‘ভোগান্তির নামান্তর’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গ্রাহকদের সবচেয়ে বড় অভিযোগ অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চরম অপেশাদার ও অমানবিক আচরণ নিয়ে। বিশেষ করে অফিসের অফিস সহকারী নমিতা দত্তের বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতাদের সাথে অত্যন্ত খারাপ আচরণের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে।
সম্প্রতি এক প্রতিনিধির চোখের সামনেই ঘটে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। দূর-দূরান্ত থেকে আসা এক সহজ-সরল সাধারণ মানুষ পাসপোর্ট করতে আসেন অফিসে। সব প্রক্রিয়া শেষ করে ছবি তোলার পর যখন তার স্বাক্ষর দেওয়ার পালা আসে, তখন কোনো কারণে কিছুটা বিলম্ব বা সমস্যা হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন নমিতা দত্ত। উপস্থিত সবার সামনে ওই সেবাগ্রহীতাকে অত্যন্ত কটূক্তি ও উপহাস করে তিনি বলে ওঠেন, “নাম লিখতে পারেন না, আবার আমাদের নামে অভিযোগ প্রধান করেন?”

একজন সরকারি কর্মচারীর মুখ থেকে সাধারণ ও নিরপরাধ গ্রাহকের প্রতি এমন অবমাননাকর মন্তব্য পাসপোর্ট অফিসের সামগ্রিক স্বেচ্ছাচারিতা ও ভেতরের অহংকারকেই জনসমক্ষে উন্মোচিত করে। তথ্যের জন্য সাধারণ মানুষ জিজ্ঞেস করলে বুঝিয়ে বলার পরিবর্তে দূরছাই করা এবং ধমক দেওয়া এখানকার নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে জেলা শহরের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে দেখা যায়, তীব্র গরমের মধ্যে ভবনের বাইরে ও ভেতরে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড়। দূর-দূরান্ত থেকে আসা বৃদ্ধ, নারী ও শিশুরা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন দীর্ঘ সময় ধরে।
মৌলভীবাজার প্রবাসী অধ্যুষিত অঞ্চল হওয়ায় প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বা তাদের স্বজনরা এখানে আসেন পাসপোর্ট নবায়ন বা নতুন পাসপোর্টের আবেদন করতে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, অতিরিক্ত অর্থ বা ‘ঘুষ’ না দিলে সাধারণ প্রক্রিয়ায় ফাইল সহজে ছাড়পত্র পায় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতি সচল রাখছে, আর নিজ দেশে এসে তাদের এভাবে হেনস্তা হতে হচ্ছে, এটা অত্যন্ত লজ্জাজনক।”

নমিতা দত্তর মতো মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের এমন অসদাচরণ এবং অফিসের ভেতরে দালাল চক্রের অবাধ যাতায়াতের কারণে সাধারণ মানুষ আজ অসহায়। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অবিলম্বে এই অফিসে আকস্মিক অভিযান চালানো উচিত। একই সাথে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে এবং নমিতা দত্তসহ জড়িত অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
এই চরম অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও দুর্ব্যবহারের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হয়ে মৌলভীবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসটি দ্রুত একটি জবাবদিহিতামূলক ও সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে-এমনটাই প্রত্যাশা জেলাবাসীর।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

June 2026
S S M T W T F
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
27282930  

সর্বশেষ খবর

………………………..