প্রচ্ছদ

ওসমানী হাসপাতা‌লের মূর্তিমান আতংক স্টাফ নার্স রেখা বণিকের বদলী

২২ জানুয়ারি ২০১৯, ১৯:১৭

crimesylhet.com

Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার :: সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিতর্কিত সিনিয়র স্টাফ নার্স রেখা রানী বণিককে অবশেষে বদলি করা হয়েছে। মঙ্গলবার নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক তন্দ্রা শিকদার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে বদলি করা হয়।

রেখা বণিককে ওসমানী হাসপাতাল থেকে মৌলভীবাবাজারে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অফিস আদেশ প্রাপ্তির ৩ কর্মদিবসের মধ্যে ছাড়পত্র গ্রহণ করতে বলা হয়েছে রেখা বণিককে। অন্যথায় ৪র্থ দিন তিনি সরাসরি অব্যাহতি নিয়েছেন বলে গণ্য করা হবে।

অভিযোগ রয়েছে, রেখা রানী বণিক দীর্ঘদিন ধরে ওসমানী হাসপাতালে থেকে নিজস্ব সিন্ডিকেট গড়ে তুলেন। তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অন্যান্য নার্সদের সাথে দুর্ব্যবহার, রোগী ও তাদের আত্মীয়স্বজনদের সাথে খারাপ আচরণ, নিয়মনীতি লঙ্ঘন করাসহ অসংখ্য অভিযোগ ছিল। বিভিন্ন সময় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন অনেকে। নিজের বদলি ঠেকাতে তিনি নানা কৌশলের আশ্রয় নিতেন বলেও অভিযোগ আছে। তবে অগুনতি অভিযোগের পর অবশেষে তাকে বদলি করা হলো।

ওসমানী মেডিকল কলেজ হাসপাতালের মূর্তিমান আতংকের নাম ছিল স্টাফ নার্স রেখা বণিক। নানা অনিয়ম ও কর্তব্যে অবহেলা করলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়না স্টাফ নার্স রেখা বণিকের বিরুদ্ধে। তার নির্যাতন চাঁদাবাজি ও নিপীড়নের কারণে ভেঙ্গে পড়েছে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা। বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখার কমিটির বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা করে ওই স্টাফ নার্স রেখা।
রেখা বনিকের খুঁটির জোর এতো বেশী যে, তিনি একাধারে স্টাফনার্স, সুপাভাইজার,সেবা ততত্বাবধায়ক এমনকি পরিচালক সব কিছুই। যথেচ্ছভাবে সেবিকাদের পরিচালনা, নির্যাতন চাঁদাবাজি, ঘুষবানিজ্য সহ নানা অপকর্ম চালিয়ে গেলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কেউই ছিল না। সবকিছুরই যেন ব্যবস্থাপক তিনি নিজেই। রেখার বিরুদ্ধে ক্রাইম সিলেট পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় রেখা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাকার নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর। গত (৬ জানুয়ারি) সিলেটে সরেজমিন তদন্তে আসে ওই তদন্ত টিম। সিলেটের ওসমানী হাসপাতালের প্রায় ৩ শ নার্স একজন নার্সের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। অভিযুক্ত এই নার্সের নাম রেখা রানী বণিক। তিনি ওসমানী হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে সকল নার্সের দায়িত্ব বন্টন করে দেন। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে টাকা ছাড়া নার্সদের বদলির ছাড়পত্র না দেওয়া, নার্সদের কাছ থেকে অযৌক্তিক চাঁদার টাকা তুলে আত্মসাৎ, ঘুষ নিয়ে নার্সদের ডিউটি ফাঁকি দেওয়ানোসহ নানা অভিযোগ।

সিলেট ওসমানী মেডিকল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফনার্স রেখা বণিকের সুনির্দিষ্ট যে অভিযোগসমূহ রয়েছে তা’হচ্ছে, বিভিন্ন সময়ে অলিখিত (সাদা) কাগজে নার্সদের স্বাক্ষর সংগ্রহ , ইউনিফর্ম বাবদ চাঁদা আদায়,রোহিঙ্গা সহায়তা চেয়ে চাঁদা সংগ্রহ, পুজা, ইফতারীর নামে চাঁদাবাজি, লটারি বানিজ্য,ডিউটি বন্টন বাবদ চাঁদা আদায়, চার্জনার্সদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায়, ট্রান্সফার বানিজ্য,দরখাস্ত ফরোয়ার্ড বানিজ, নাইট ডিউটি মাফ বানিজ, ছুটি, সাপ্তাহিক ডে-অফ ইত্যাদি পাইয়ে দেয়ার বানিজ্য, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে কমিশন বানিজ, সাধারণ নার্সদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন উপহার আদায়, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অফিস অথোরিটিকে ইনফ্লুয়েন্স করা, সাধারন নার্সদের বাহিরের মাস্তান দিয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি ধমকি, ডিউটির নামে শুধু আসা-যাওয়া, ডিউটি ফাঁকি, ভিআইপি ও স্টাফ কেবিন ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার, প্রতিষ্ঠানের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে তার সিন্ডিকেটের সদস্যদের আত্বীয়-স্বজনদের ব্যবহার। ভিআইপি কেবিন অসামাজিকত্য়া ভিআইপি কেবিন ব্যবহার, সরকারী কমিশন বা ইউজার ফি ক্ষেত্রগুলোতে সিন্ডিকেট সদস্যদের নিয়োগ এবং অসৎ সুবিধা পাইয়ে দিতে ও নিতে সহযোগিতা, সিটের অপ্রতুলতা থাকা সত্ত্বেও পূজোর নামে সারাবছর সরকারী হোস্টেলের রুম দখল রাখা। ইউনিফর্ম কোডের দোহাই তুলে হিজাব পরে আসা-যাওয়ার জন্য মুসলিম নার্সদের নাজেহাল, ওড়না ব্যবহারে অমসুলিম নার্সদের গালিগালাজ ইত্যাদি রেখা বণিকের নৈমিত্তিক কাজ। রেখা বণিক সিন্ডিকেটের প্রতি রাজনৈতিক হোমড়া-চোমড়ার আশ্রয়-আশীর্বাদের কারণে অনেক ক্ষেত্রে খোদ পারিচালকই অসহায়ত্ব বোধ করে থাকেন । রাজনৈতিক নেতা বা বড়কর্তার ছায়ায় থেকে রেখা বনিক যেন ওসমানীতে প্যারালাল আরেক অথোরিটি । মাঝে তার অপকর্ম ও কুকীর্তির প্রতিবাদ করে দুর্নীতির লাগাম টানতে চেষ্টা করা হলেও বড় হাতের আশীর্বাদ ও ছায়াতলে থেকে বহাল তবিয়তেই আছেন তিনি । প্রতিকার না পেয়ে উল্টো প্রতিবাদকারীই হয়েছেন নির্বাসিত, চলে যেতে হয়েছে ডিও লেটার নিয়ে। তাই রেখা বণিক বর্তমানে চরম বেপরোয়া।

  •  
  •  
  •  

আর্কাইভ

shares