মৌলভীবাজারে ডাক্তারের অবহেলায় শিশুর মৃত্যু : মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক

প্রকাশিত: ৬:৫৬ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৩, ২০১৯

মৌলভীবাজারে ডাক্তারের অবহেলায় শিশুর মৃত্যু : মায়ের অবস্থা আশঙ্কাজনক

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : মৌলভীবাজার নোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চুক্তিভিত্তিক প্রসৃতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ নিবাস চন্দ্র পালের চিকিৎসা অবহেলায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। চরম অবহেলায় মাশুল দিতে গিয়ে মায়ের গর্ভের ভেতরেই মারা গেল শিশুটি।

এ মৃত্যু নিয়ে সংশয় ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে সংশি¬ষ্ট মহলে। জনাগেছে- জেলা সদরের একাটুনা ইউনিয়নস্থিত মল্লিকসরাই গ্রামের লিটন মিয়ার স্ত্রী সাবানা বেগম (৩৬) গর্ভবতী হওয়ার পর থেকে শ্রীমঙ্গল দীপশিখা ইনকাটিলিস্ট কেয়ার অ্যান্ড কাউন্সিলিং সেন্টার এর মালিক ও শ্রীমঙ্গল সড়কস্থ শহরের নোভা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ডাঃ নিবাস চন্দ্র পালের চিকিৎসাসেবা গ্রহন করে আসছেন।

গত ২৮ ডিসেম্বর সকালে মৌলভী ক্লিনিকে তিনি ডাক্তার নিবাস চন্দ্র পালের অধিনে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি ভর্তি হওয়ার পর ক্লিনিকের ম্যানেজার ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করলে ডাক্তার মোবাইল ফোনে ডিউটিরত ডাক্তারকে চিকিৎসার ব্যবস্থাা পত্র বলে দেন। এবং আল্টাসনোগ্রাফি করার পরামর্শ দেন।

আল্টাসনোগ্রাফি করার পর ক্লিনিকের ডিউটিরত ডাক্তার মোবাইল ফোনে কথা বলে রাতে সিজারের জন্য সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখেন। হাসপাতাল কর্তপক্ষ রাতে ডাক্তারকে ফোন দিলে তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি। রোগীর অবস্থাা অবনতির দিকে গেলে সে সময় অন্য রোগী দেখতে আসা ডা: ইসমত জাহানকে ক্লিনিকের কর্তব্যরত ডাক্তার রোগীকে দেখান।

সে সময় ডা: ইসমত জাহান রোগী দেখে বলেন ডাক্তার নিবাস চন্দ্র পাল অনুমতি দিলে তিনি সিজার করতে পারবেন। নতুবা তিনি রোগীর সিজার করতে পারবেন না। এ অবস্থাায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ডাক্তার নিবাসচন্দ্র পালের সাথে মোবাইল ফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু ডাক্তার নিবাস চন্দ্র পাল ফোন রিসিভ করেননি। এই সময় রোগী আতœীয় স্বজনরাও বারবার মোবাইল ফোনে ডাক্তারের সাথে যেগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নাই। সকালে আল্টাসনোগ্রাফি করার পর দেখা যায় নবজাতক ছেলে সন্তান গর্ভের মধ্যে মারা গেছে। পরে ডা: ইসমত জাহান সিজার করে মৃত বাচ্ছাটি পেটের ভিতর থেকে বাহির করে আনেন।

পরবর্তীতে ডাক্তার নিবাস চন্দ্র পাল সকাল সাড়ে ১১টায় মোবাইল ফোন রিসিভ করে জানান- তিনি তার গ্রামের বাড়ি চুনারুঘাটে আছেন। রোগীর ভাই সিতার আহমদ জানান- নোভা ডায়গনস্টিক সেন্টারের চুক্তিভিত্তিক ডাঃ নিবাস চন্দ্র পালের চিকিৎসা অবহেলার কারনেই মায়ের গর্ভের ভেতরে শিশুটি অনেক আগেই মারা গেছে।

একই ভাবে গত ৪ সেপ্টেম্বর নোভা ডায়গনস্টিক সেন্টারে ডাঃ নিবাস চন্দ্র পালের ভুল চিকিৎসায় আমার ভাবী রুহেনা আক্তার ও তার গর্ভের সন্তান মারা গেছে। ভুল চিকিৎসা, ক্ষতিকর ঔষধ প্রয়োগ, অবহেলা, উদাসীন কার্যকলাপ, রোগীকে জিম্মি করে টাকা উপার্জনের অপকৌশলের কারণেই শিশুটি মারা গেছে।

শিশুটির মায়ের অবস্থাও আশংকাজনক। অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী ডাক্তারের সঠিক বিচার ও দৃষ্টান্তমৃলক শাস্তির দাবীতে মামলা দায়ের করব। এব্যাপারে ডাক্তার নিবাস চন্দ্র পালের সাথে বার বার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..