দখলবাজদের হাত থেকে স্বামী-সম্পদ রক্ষা করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

প্রকাশিত: ৬:৪১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৯, ২০১৮

দখলবাজদের হাত থেকে স্বামী-সম্পদ রক্ষা করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : কানাইঘাটে প্রতারক, জাল দলিল সৃজন করে ভূমি দখলকারী চাঁদাবাজদের কবল থেকে স্বামী-সম্পদ রক্ষা করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্ত্রী রুমি আক্তার লাকি।
তিনি গত ৫ ডিসেম্বর বুধবার উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) ও সিলেট পুলিশ সুপার বরাবরে পৃথক দুটি আবেদন করেছেন কানাইঘাটের মিকিরপাড় গ্রামের মৃত হাছন রাজার পুত্র আব্দুছ ছালামের স্ত্রী লাকি। তিনি বলেন, তার স্বামী আব্দুছ সালাম বাদী হয়ে দলখবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত ৪ অক্টোবর জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১ম আদালত, সিলেটে একটি মামলা দায়ের করেন।

কানাইঘাট সি.আর মামলা নং- ৩১০/২০১৮। মামলায় তিনি উপজেলার বড়খেওড় গ্রামের মৃত সালেহ আহমদের পুত্র গিয়াস উদ্দিন আহমদ, মিকিরপাড়া গ্রামের হাছন রাজার পুত্র আবুল কালাম ও আব্দুস শহীদকে আসামী করেন।
মামলার উলে­খিত আসামীরা এলাকার চিহ্নিত প্রতারক, ধান্দাবাজ, ভূমিখেকো ও জাল দলিল সৃষ্টিকারী, প্রতারক। মামলার ২য় আসামী আবুল কালাম ও ৩য় আসামী আব্দুস শহীদ দীর্ঘ দিন থেকে আব্দুছ সালামের সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা করে আসছেন। এ অবস্থায় কোন উপায়ান্তর না পেয়ে আব্দুছ সালাম মামলার প্রধান আসামী গিয়াস উদ্দিনের কাছে বিচারপ্রার্থী হন। তখন এলাকার সালিশ ব্যক্তিত্ব (মামলার স্বাক্ষীবৃন্দ) দের নিয়ে একটি সালিশ কমিটি গঠন করা হয়।

মামলার স্বাক্ষীগণ সালিশবোর্ড সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয় মামলার প্রধান আসামী প্রতারক গিয়াস উদ্দিন আহমদকে। চতুর গিয়াস উদ্দিন বিচারপ্রার্থী আব্দুস সালামের সম্পদ জবর দখল করতে সালিশ কমিটির সম্মতি নিয়ে গত ২৩ জুন একশ টাকার ৩টি সাদা নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে আব্দুস সালামের স্বাক্ষর নেয়। আব্দুছ সালামও বিচারের স্বার্থে ও তার জমি রক্ষার্থে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দেন। আব্দুছ সালামের সরলতাকে পুঁজি করে দলখবাজরা জমি দখলে আরো এক ধাপ এগিয়ে যায়। স্বাক্ষরকৃত ৩টি স্ট্যাম্প গিয়াস উদ্দিনের কাছে আমানত রাখা হয়। এরপর কয়েক দফা সালিশ বৈঠকে বসলেও এ সমস্যার কোন সমাধান হয়নি।

সর্বশেষ গত ৭ সেপ্টেম্বর সালিশ বসলেও সালিশ কমিটির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন আহমদ ও প্রতিপক্ষ আবুল কালাম, আব্দুস শহীদ উপস্থিত হয়নি। সালিশ কমিটির সদস্যরা (মামলার স্বাক্ষীগণ) তাদেরকে ফোনে যোগাযোগ করলে তারা সালিশ বিচারে আসতে অসম্মতি জানায়। এসময় সালিশ সদস্যরা স্বাক্ষরকারী তিনটি সাদা স্ট্যাম্প ফেরত দিতে গিয়াস উদ্দিনকে বলেন। কিন্তু গিয়াস উদ্দিন তার কাছে স্ট্যাম্পগুলো নেই বলে জানিয়ে দেন। এরপর গত ৭ সেপ্টেম্বর গিয়াস উদ্দিন, আবুল কালাম ও আব্দুশ শহীদ জোরপূর্বক আব্দুছ সালামের জমি দখল করতে যায়। তাদেরকে জমি দখলে বাধা দিলে দখলকারীরা জানায়- আব্দুস সালাম নিজে স্বাক্ষর করে তাদেরকে জমি হস্তান্তর করেছেন। দখলবাজরা প্রতারণার মাধ্যমে বিগত সময়ে বিচারের স্বার্থে স্বাক্ষরকৃত স্ট্যামগুলো ব্যবহার করে জোরপূর্বক অসহায় আব্দুছ সালামের জমি দখল করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

এরপর মামলার আসামীরা আব্দুছ সালামের কাছে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। অন্যথায় তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণে জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট ১ম আদালত, সিলেটে একটি মামলা দায়ের করেন। কানাইঘাট সি.আর মামলা নং- ৩১০/২০১৮। উক্ত মামলার প্রেক্ষিতে গত ১১ নভেম্বর তারিখের মধ্যে বিজ্ঞ আদালত কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। কিন্তু কানাইঘাট থানা আদালতের এই আদেশ কার্যকর না করায় এবং মামলার বাদী আব্দুছ সালাম ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তার পক্ষে গত ৫ ডিসেম্বর বুধবার উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) ও সিলেট পুলিশ সুপার বরাবরে পৃথক দুটি আবেদন রুমি আক্তার লাকি উলে­খ করেন, আসামীগণের বর্ষিভূত হয়ে বিজ্ঞ আদালতের আদেশ-নির্দেশ অমান্য করত এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছেন। আবেদনে তিনি তার স্বামী আব্দুছ সালামের দায়েরকৃত কানাইঘাট সি.আর মামলা নং- ৩১০/২০১৮- এর আলোকে এফআইআর করার জোর দাবি জানান।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..