অপরাধীদের গুপ্তচর সিলেট কোতোয়ালীর ক্যাশিয়ার কনেষ্টবল রুবেল

প্রকাশিত: ১০:৫২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২০, ২০১৮

অপরাধীদের গুপ্তচর সিলেট কোতোয়ালীর ক্যাশিয়ার কনেষ্টবল রুবেল

Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার :: নাম তার রুবেল কাম তার ক্যাশিয়ারী। মো. রুবেল সিলেট কোতায়ালি থানায় অবস্থানরত পুলিশের এক কনেষ্টবল। বর্তমানে থানা পুলিশের অবৈধ আয়ের ক্যাশিয়ার ও ক্যান্টিন ব্যসায়ী। পুলিশের অবৈধ আয়ের ক্যাশিয়ারী ছাড়া আর কোন দায়িত্ব পালনের কাজ করছে না তিনি। দীর্ঘপ্রায় ১৪ বছর ধরে বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ফাড়ির ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব ছাড়া আপর কোন কাজ নেই তার। আত থেকে কয়েকবছর আগে এসএমপি’র মোগলাবাজার থানায় ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করেন। এসময় জুয়ার,আসর মদের আসর ও পতিতাবৃত্তি প্রভৃতি অবৈধ আস্তানা থেকে মাসোহারা ও বখরা আদায়ই ছিল তার কাজ। পরবর্তীতে মোটা অংকের টাকা দিয়ে পুলিশের উর্বরস্থান কোতোয়ালীর বন্দরবাজার ফাঁড়িতে এসেও এই সেই ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব রুবেলের। একজন দক্ষ ক্যাশিয়ার ও অবৈধ আয় অর্জনকারী হিসেবে পুলিশের মধ্যে তার জুড়ি নেই। তাই যেখানেই রুবেল সেখানেই সে ক্যাশিয়ার।

বর্তমানে রুবেল এসএমপি’র কোতেয়ালি থানার ক্যাশিয়ার ও কেন্টিন ব্যবসায়ী। দীর্ঘমেয়াদী ক্যাশিয়ার হওয়ার সুবাদে রুবেল এখন জিরো থেকে হিরো। দেশের বাড়ি কুমিল্লায় গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। গাড়ি বাড়ি জয়গা জমি সবই করেছেন তিনি। তার অভাবনীয় সম্পদে অবাক তার নিজ এলাকার মানুষ। তাদের বক্তব্য রুবেল কনেষ্টবলের চাকরি কররেও থাকেন দ্বিতীয় লন্ডন সিলেটে। সিলেট নগরীর সব অবৈধ গেরেজ, জুয়া ও তীর খেলার আসর, পতিতাহোটেলে, সংঘবদ্ধ চোর-ডাকাত ছিনতাইকারী, পকেটমার সকল অপরাধীদের প্রিয় ও আস্তাভাজন পুলিশ সদস্য একমাত্র কনেষ্টবল রুওবেল। কোতোয়ালি থানার ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পাওয়ার সুবাদে থানার ওসি থেকে শুরু করে অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাদের মানি মিডিয়ার দায়িত্বও পালন করেন রুবেল। অন্যায়ভাবে গ্রেফতার ও আসামী ছাড়িয়ে নেয়ার তদবীরসহ সব তদবীরই করে থাকেন রুবেল। কোতোয়ালি থানার ক্যাশিয়ার হওয়ায় তার সুযোগ সুবিধেও অনেক। যেমন সিলেট নগরীতে ব্যাটারী চালিত টমটম নিষিদ্ধ হলেও সে নিষেধাজ্ঞা রুবেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সুরমা পয়েন্ট হয়ে ঘাসিটুলা বেতের বাজার পর্যন্ত চলাচল করে রুবেলের মালিকানা ৩টি টমটম যার নাম অন্তর পরিবহন। কোতোয়ালি থানার ক্যন্টিন সবসময় ভাড়া দেয়া হতো বাইরের লোকদের। কিন্তু রুবেল থানার ক্যাশিয়ার হওয়ায় অতি অল্প টাকার বিনিময়ে ক্যান্টিন ভাড়া নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন রমরমা ব্যবসা। তার বখরাবাজি ও চাঁদাবাজির ফলে নগরীর সুরমা মার্কেট, বন্দরবাজার, লালবাজার তালতলা, কাজলশাহ, দরগা প্রভৃতি এলাকায় হোটেল নামে গড়ে ওঠেছে বহু মিনি পতিতালয়। এসব মিনি পতিতালয়থেকে নিয়মিত বখরা ও মাসোহারা নিয়ে থাকেন রুবেল।

রুবেলের কারণে সিলেট নগরীতে অপরাধ প্রবনতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। অপরাধ ও অপরাধী দমনে পুলিশের উর্ধতন কর্তপক্ষের সকল উদ্যোগ ও পদক্ষেপ ভেস্তে যায় কনেষ্টবল রুবেলের কারণে। কারণ রুওবেল শুধু পুলিশের কনেষ্টবল নন, তিনি অপরাধীদের গোয়েন্দা ও গুপ্তচর বটে।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares