দক্ষিণ সুরমায় মুক্তিযোদ্ধা হাসপাতাল স্থাপন ও বুড়িগঙ্গা খাল খননের জোর দাবী

প্রকাশিত: ৫:৫৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৯, ২০১৮

Sharing is caring!

সিলেট :: দক্ষিণ সুরমা উপজেলার লালাবাজার ইউনিয়নের বলদার হাওরে মুক্তিযোদ্ধা হাসপাতাল স্থাপন এবং বুড়িগঙ্গা খাল খননের জোর দাবী জানিয়েছেন এলাকার সর্বস্থরের জনসাধারণ। ইতিমধ্যে মুক্তিযোদ্ধা হাসপাতাল এবং খাল খননের দাবীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ শতাধিক লোক স্বাক্ষরিত আবেদননামা স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর বরাবরে প্রেরন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় প্রেরিত আদেশের প্রেক্ষিতে সিলেট জেলা প্রশাসক এবং সিভিল সার্জন লালাবাজার ইউনিয়নের প্রস্থাবিত মুক্তিযোদ্ধা হাসপাতালের স্থান পরির্দশন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরন করেছেন।
আবেদনপত্র মারফতে জানা যায় উপজেলার খতিরা মৌজার জে, এল নং- ১৬১ অন্তর্গত বিবিদইল মোল্লারবন্দ, খতিরা কইকুড়ি, বাগের খলা ও খাগদিয়র এবং রায়খাইল এলাকার জনগনের স্বাস্থ্য সুবিধা গ্রহনের জন্য লালাবাজার-জালালপুর সড়কের পাশ্বস্থিত বলদার হাওড়ে এ হাসপাতাল নির্মান করার জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ ইরশাদ আলী স্থানীয়দের সহযোগিতা নিয়ে এ আবেদন করেন। এতে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সুপারিশ নিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে প্রেরন করেন। তৎকালীন জেলা প্রশাসক জয়নাল আবেদীন স্মারকলিপিট গ্রহন করে সরেজমিনে সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বরাবরে প্রেরন করেন। অনুরুপ ভাবে ইউপি সদস্য ইরশাদ আলী ৬নং লালাবাজার ইউপির অর্ন্তগত বুড়িগঙ্গা খাল খননের দাবীতে স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সুপারিশ নিয়ে গত ৭ জুন ২০১৭ তারিখে সিলেটের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে একটি স্মারকলিপি অর্থমন্ত্রী এবং কৃষি মন্ত্রী বরাবরে প্রেরন করেন।
স্মারকলিপি সূত্রে জানা যায়, সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমার উপজেলাধীন ৬নং লালাবাজার ইউপির অর্ন্তগত এবং পার্শ্ববর্তী উপজেলা ইউনিয়ন ও গ্রামের বুড়িগঙ্গা খাল, বাগরখলা, হকিয়ারচর, বিবিদইল, খাজাখালু, জাফরাবাদ, ঝাজর, তাতীকোনা, কুরুয়া, চকরুহিনী হাওর, রায়খাইল, কাদিপুর ও খতিরা প্রভৃতি গ্রামের পার্শ্ব দিয়ে বয়ে গেছে বুড়িগঙ্গা নদীটি যা বড়ভাগায় গিয়ে মিলিত হয়। বি, আর,ডি,সি শেখঘাট কর্তৃক কিছু অংশ খনন করা হয়েছে। খালের মধ্যে কিছু লোক মাটি ফেলে ভরাট করতেছে। এরা যাতে মাটি ফেলে খাল ভরাট না করতে পারে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া একান্ত জরুরী। খালের সীমানা প্রায় ১০০ ফুট প্রস্ত এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ মাইলের মতো রয়েছে। এই ২০ মাইল কাজ অত্যান্ত জরুরী ভিত্তিতে হওয়া দরকার। এটির সঠিক সীমানা নির্ধারন হওয়া অতীব জরুরী। এতে করে বর্ষাকালে বৃষ্টির পানিতে ঘরবাড়ি ডুবে যায়। মাটি ভরাটের ফলে পানি চলাচলে বিঘœ ঘটে এবং কৃষি কাজ ব্যাহত হয়। খাল খনন সম্ভব হলে কৃষি উৎপাদন বেড়ে যাবে। জনস্বার্থে এবং এলাকার কৃষকের স্বার্থে নীতিমালার ভিত্তিতে খাল খনন করে জনদূর্ভোগ লাগবে এলাকাবাসী কর্তৃপক্ষের নিকট এ আবেদন জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সিলেট আগমনকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে উৎসাহ উদ্দিপনা বিরাজ করছে। তাদের দাবী গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনা এলাকাবাসীর ন্যায্য দাবীর প্রতি একাত্বতা পোষণ করে দক্ষিণ সুরমায় মুক্তিযোদ্ধা হাসপাতাল স্থাপন, বুড়িগঙ্গা খাল খনন সহ অসমাপ্ত অন্যান্য জনকল্যাণমুলক কর্মকান্ড সম্পূর্ণ করতে এগিয়ে আসবেন।
ইউপি সদস্য (সাবেক) ইরশাদ আলী বলেন, দক্ষিণ সুরমাবাসীর প্রাণের দাবী মুক্তিযোদ্ধা হাসপাতাল স্থাপন, বুড়িগঙ্গা খাল খনন। জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এলাকার জনরায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে ন্যায্য দাবী পূরন করবেন।

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..

shares