সিলেট ২২শে মার্চ, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই চৈত্র, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ | ২১শে রমজান, ১৪৪৬ হিজরি
প্রকাশিত: ৩:৩৪ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৭
দিরাই-শাল্লা (সুনামগঞ্জ) সংবাদাদাতা :
আর মাত্র দেড় মাস পর এসএসসি পরীক্ষা। এজন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে সন্ধ্যার পর নিজ বাসার পড়ার টেবিলে পড়ছিল হুমায়রা আক্তার মুন্নি। কিন্তু প্রেমিক দাবিদার বখাটে এক ছেলের ছুরিকাঘাতে প্রাণই গেল তার।
মুন্নি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার নগদীপুর গ্রামের ইতালী প্রবাসী হিফজুর রহমানের মেয়ে ও দিরাই উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী। শনিবার রাত ৮টার দিকে বাসার দ্বিতীয় তলায় মুন্নির পড়ার ঘরে প্রবেশ করে উপর্যপুরি ছুরিকাঘাতে খুন করে বখাটে ইয়াহিয়া (২২)।
মুন্নির চিৎকার শুনে অন্য কক্ষ থেকে তার মা রাহেলা খাতুন মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায় ঘাতক। বখাটে ঘাতকের বাড়ি উপজেলার সাকিতপুর গ্রামে। তার পিতার নাম জামাল সরদার। ঘটনার সময় ঘাতকের সাথে থাকা চার সহযোগী দুই মটর সাইকেল নিয়ে নিচ তলায় অবস্থান করছিল। আশপাশের লোকজন খবর পেয়ে এগিয়ে এলে ঘাতক ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়। বখাটে ঘাতক ইয়াহিয়া সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সোহেল মিয়ার হয়ে মিছিল মিটিংয়ে সম্পৃক্ত থেকে সক্রিয়ভাবে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত রয়েছে জানা যায়।
মর্মান্তিক হত্যার খবর পেয়ে দিরাই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দিরাই ’থানা পুলিশ ও নিহত মুন্নির পারিবারিক সুত্রে জানা যায় ,ইতালী প্রবাসী হিফজুর রহমানের স্ত্রী রাহেলা বেগম স্কুল পড়ুয়া মেয়ে মুন্নী এবং তার ছোট ছেলেকে নিয়ে পৌর শহরের আনোয়ারপুর মাদানী মহল্লায় পিতার বাসার ২য় তলায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। সাকিতপুর গ্রামের বখাটে ইয়াহিয়া কিছু দিন ধরে মেধাবী ছাত্রী মুন্নিকে বিদ্যালয়ে যাওয়া আসার পথে ইভটিজিং করে আসছিল। এ নিয়ে মুন্নির মা রাহেলা বেগম সুনামগঞ্জ র্যাব-৯ ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বরাবরে একটি লিখিত আবেদন করেন।
এ প্রেক্ষাপটে গত ২৬ অক্টোবর দিরাই উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাফর ইকবাল ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভপাতি আব্দুল হক ও পৌর এলাকার সুজানগর গ্রামের তোফাজ্জুল হোসেন চৌধুরীর মাধ্যমে একটি আপস মীমাংসায় লিখিত মুচলেকা দেয় বখাটে ইয়াহিয়া। গত ৪/৫ দিন আগে বাসার সামনে গিয়ে নিজের হাত কেটে রক্ত মাখে বখাটে ইয়াহিয়া।
নিহত মুন্নির ফুফোতো ভাই সৌরভ মিয়া জানান, প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখান করায় বখাটে ইয়াহিয়া মুন্নির ইতালি প্রবাসী পিতাকে ইমো নাম্বারে বিভিন্ন ধরনের অপ্রীতিকর ছবি পাঠিয়ে বিভ্রান্ত করতো। শনিবার রাত ৮টার দিকে সহযোগীদের নিয়ে পৌর শহরের আনোয়ারপুরে নানার বাসায় থাকা মুন্নিকে বুকের নিচে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে করে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় মুন্নীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে আশংকাজনক অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাক্তার পিয়াস দেব তাকে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সিলেট যাওয়ার পথে কিছু দূর যাওয়ার পর মুন্নী মৃত্যর কোলে ঢলে পড়ে।
এদিকে মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যার ঘটনায় এলাকায় প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। খবর পেয়ে রোববার দুপুরে সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার বরকত উল্ল্যাহ খানসহ বিভিন্ন আইন শৃংখলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন। তিনি নিহত মুন্নির বিদ্যাপীঠ দিরাই উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে গিয়েও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলেন।
বরকত উল্লাহ খান খুনি ইয়াহিয়াকে গ্রেফতারের ব্যাপারে গণমাধ্যম কর্মীদের কে জানান,অবিলম্বে ঘাতক ও তার সহযোগীদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। পুলিশের সকল বাহিনী ঘাতককে গ্রেফতারে মাঠে কাজ করছে। মেধাবী ছাত্রী মুন্নির হত্যাকারীদের ছাড় দেয়া হবে না। ইতোমধ্যে সব জায়গায় ম্যাসেজ পাঠানো হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক জাফর ইকবাল জানান, গত অক্টোবর মাসে নির্বাচনী পরীক্ষার আগে মুন্নীকে উত্যক্ত করার অভিযোগ করেন তার মা রাহেলা বেগম, বিষয়টি নিয়ে প্রধান শিক্ষক ও কমিটির সভাপতি শালিশ বৈঠকে তফাজ্জল হোসেনের মধ্যস্থতায় আর কোনো দিন এ ধরনের কাজ করবেন না বলে লিখিত মুচলেকা নেয়া হয়।
ঘাতক ইয়াহিয়ার ছাত্রলীগের রাজনীতির সম্পৃক্ততা বিষয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক সোহেল মিয়া বলেন, সে মাঝে মধ্যে আমাদের সাথে মিছিল মিটিংয়ে আসতো, কিন্তু ছাত্রলীগের কোনো পদধারী নেতা ও সক্রিয় কর্মী নয়।
প্রায় একই রকম বক্তব্য দিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক উজ্জল মিয়া বলেন, আমার জানামতে ইয়াহিয়া উপজেলা বা কলেজ ছাত্রলীগের কোনো কমিটির সদস্য নয়, তবে মাঝেমাঝে মিছিলে দেখা যেত।
দিরাই থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বললেন, লাশ উদ্ধার করে রাতেই সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। ঘাতক ইয়াহিয়াকে গ্রেফতারে পুলিশি চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
Sharing is caring!
………………………..
Design and developed by best-bd