সুনামগঞ্জে ১১ মামলায় আসামী বিএনপির ৭০০ নেতাকর্মী

প্রকাশিত: ৮:২৭ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ৮, ২০২৩

সুনামগঞ্জে ১১ মামলায় আসামী বিএনপির ৭০০ নেতাকর্মী

ক্রাইম সিলেট ডেস্ক : সুনামগঞ্জে গত এক সপ্তাহে বিএনপির ৩৮ জন নেতা-কর্মী ও সমর্থক গ্রেপ্তার হয়েছেন। হরতাল-অবরোধের ৫ দিন শেষে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে জেলার ছয়টি থানায় মামলা হয়েছে ১১ টি।

এর আগের ৩ দিনের অবরোধ শেষে মামলা দায়ের হয়েছিল পাঁচটি থানায় ৮ টি। বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করা সবকয়টি মামলার বাদী পুলিশ। এসব মামলায় আসামির সংখ্যা পাঁচশো থেকে বেড়ে প্রায় ৭০০ জন। এর মধ্যে এজহারে নাম আছে ২২৪ জনের, বাকিরা অজ্ঞাত। একের পর এক মামলা ও গ্রেপ্তারে বিএনপির নেতাকর্মীরা বেকায়দায় পড়েছেন। ৩০ তারিখের হরতালে তেমন কিছু না হলেও ৩১ তারিখের অবরোধে শহর ও শহরতলির কোনো কোনো স্থানে যানবাহন চলাচলে বাধা ও ভাংচুরের কিছু ঘটনা ঘটে।

ওই দিন সকালে পুলিশ শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ডে অভিযান চালিয়ে বিএনপির ১০ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে। সুনামগঞ্জ শহরের বিএনপির সব কর্মসূচি মূলত পুরাতন বাসস্ট্যান্ড কেন্দ্রিক। এখানেই দলের অস্থায়ী কার্যালয়। এখান থেকে গ্রেপ্তারের পর নেতা-কর্মীরা আত্মগোপনে চলে যান। বিএনপি নেতাকর্মীদের এরপর থেকে আর তাদের কার্যালয়ে দেখা যায়নি। কার্যালয়টি তালাবদ্ধ আছে।

সুনামগঞ্জে এ পর্যন্তু গ্রেপ্তার হওয়া নেতাদের মধ্যে জেলা বিএনপির সহসভাপতি জেলা যুবদলের আহবায়ক আবুল মনসুর মো. শওকত, জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল মোতালেব খাঁন, জেলা বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক রাকাব উদ্দিন, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক নাসিম চৌধুরী, শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি রওশন খান সাগর আছেন।

এখনও গ্রেপ্তার এড়াতে নেতা-কর্মীদের অনেকেই বাড়ি ছাড়া। গত দুদিনের অবরোধে মাঠ অনেকটা খালি ছিল। বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঠে তেমন একটা দেখা যায়নি। তবে মাঠে তৎপর ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিএপির নেতাদের অভিযোগ,পুলিশ সবার বাড়ি বাড়ি যাচ্ছে, পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। যাকে পাচ্ছে তাকেই গ্রেপ্তার করছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের না পেলে পরিবারের লোকজন ধরে নিয়ে আসছেন। তারা বলছেন, তাঁরা মাঠে আছেন। যেকোনো মূল্যে তাঁরা কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালন করবেন। কোনো বাধাই তাদের আটকাতে পারবে না।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার মধ্যে অর্ধেকই সদর মডেল থানায়। ২৯ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত মামলা হয়েছে ৫ টি। গত রোববার রাতে দায়ের করা একটি মামলায় জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. নূরুল ইসলামসহ ৪০ জনের নামোল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি আছেন ২০-২৫ জন।

পুলিশ এই মামলার দুজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগে ৩১ অক্টোবর জেলা শহরে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এদের মধ্যে জেলা বিএনপির সহসভাপতি আবুল মনসুর মো. শওকত ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক রাকাব উদ্দিনও আছেন। পরে শান্তিগঞ্জ উপজেলায় গ্রেপ্তার হন জেলা কমিটির আরেক সহসভাপতি আনছার উদ্দিন।

সর্বশেষ সোমবার ছাতক থানায় ১০জনের নামোল্লেখ অজ্ঞাত আরও ৭০জনের নামোল্লেখসহ ৭০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে আরও একটি মামলা হয়েছে। এ মামলায় পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে একজনকে।জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ২ ৯অক্টোবর দায়ের করা একটি মামলায় ৪৯ জনের নামোল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৮০ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়।

পরে ২ নভেম্বর জেলা বিএনপির সহসভাপতি ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদসহ ৩১ জনের নামোল্লেখ করে আরেকটি মামলা হয়েছে। এই মামলায় অজ্ঞাত আসামি আছেন আরও ৩২জন। শান্তিগঞ্জে এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার গ্রেপ্তার হন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি রওশন খান সাগর।

শাল্লায় ২৮ অক্টোবর নয় জনের নামোল্লেখ করে আরও ১৫-২০জন অজ্ঞাত আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। এই উপজেলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন দুইজন। ধর্মপাশা উপজেলা গ্রেপ্তার হয়েছেন নয় জন। এই উপজেলায় ২৯ অক্টোবর দায়ের করা একটি মামলায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব খান গ্রেপ্তার হন।

এই মামলায় ৪৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। দোয়ারাবাজার উপজেলায় ২৯ অক্টোবর ১৪ জনের নামোল্লেখ করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা হয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মো. নূরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ বিএনপি নেতা-কর্মীদের মাঠে নামতে দিচ্ছে না। একের পর এক গায়েবি মামলা দিয়ে গণগ্রেপ্তারে নেমেছে। তবুও আমরা কর্মসূচি পালন করছি। মামলা, গ্রেপ্তার, নির্যাতন করে আমাদের আন্দোলন থেকে সরানো যাবে না।

জেলা বিএনপির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমদ বলেন, এখনো তাঁর নামে কোনো মামলা হয়নি। তবুও পুলিশ একাধিকবার তাঁর বাড়িতে গেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) রাজন কুমার দাস বলেন, এসব অভিযোগের কোনো প্রমাণ নেই। প্রমাণ থাকলে তারা দিক। পুলিশ তার স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

November 2023
S S M T W T F
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  

সর্বশেষ খবর

………………………..