চটপটিওয়ালাদের পরিত্যাক্ত আবর্জনায় আগের সৌন্দর্য হারাচ্ছে কাজিরবাজার ব্রিজ

প্রকাশিত: ৯:৪৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৪, ২০১৯

চটপটিওয়ালাদের পরিত্যাক্ত আবর্জনায় আগের সৌন্দর্য হারাচ্ছে কাজিরবাজার ব্রিজ

Manual2 Ad Code

ক্রাইম প্রতিবেদক :: উদ্বোধনের পর থেকেই সিলেটের কাজিরবাজার ব্রিজটি নগরবাসীর অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র হিসাবে পরিচিতি পেয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে। স্কুল কলেজ শ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আড্ডা বিকেলে শুরু হয়ে সন্ধ্যা গড়িয়ে চলত রাত ১০/১১টা পর্যন্ত। আসতেন প্রায় সব বয়সের কর্মজীবি পুরুষ এবং মহিলারাও।

দৃষ্টিনন্দন এই স্থাপনায় বসে সুরমার শীতল হাওয়ায় শরীর জুড়ানোর পাশাপাশি নদী আর ব্রিজ ধরে সেলফিবাজিতেও মগ্ন হতেন অনেকে। এখনও তা হয়, তবে আগের চেয়ে অনেক কম।

জৌলুস হারাচ্ছে কাজিরবাজার ব্রিজ। শুরুর সেই আলোঝলোমল পরিবেশ এখন আর নেই। ময়লাও জমেছে প্রচুর। কয়েকটা সড়কবাতি জ্বললেও অধিকাংশই অকেজো। সন্ধ্যার পর থেকে ব্রিজটি ঘিরে নেমে আসে ঘুটঘুটে অন্ধকার। ছোটোখাটো দূর্ঘটনা ঘটছে প্রায়ই। হচ্ছে চুরি ছিনতাইও। অার হবিগঞ্জের চটপটি বিক্রতা হাবীবের দাপটে বসছে প্রতিদিন বেশ কয়েকটি চটপটির দোকান এসব দোকানের নেতৃত্ব দিচ্ছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল।

Manual1 Ad Code

সহসা এ অবস্থার অবসান হওয়ার তেমন সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছেনা। অন্তত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের কথায় তেমন আভাসই পাওয়া গেছে। কথাবার্তায় মনে হলো, চটপটিওয়ালাদের রাজত্বি অবসান হলে বাতিগুলো আবারও জ্বলতে পারে।

কারণ, সড়কবাতিগুলো অকেজো। সোনালী আলোয় মোহজাগানিয়া পরিবেশ বলতে গেলে এখন আর নেই। ব্রিজের উত্তর এবং দক্ষিণ প্রান্তে রাস্তার উভয় পাশের প্রায় অর্ধশতাধিক বাতি জ্বলছেনা বহুদিন।

দক্ষিণ প্রান্তেই বেশি। টেকনিক্যাল মোড় থেকে রেলক্রসিং পর্যন্ত জায়গাটি রীতিমতো ভূতুড়ে অন্ধকার। প্রায়ই এই এলাকায় চুরি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। রিকশায় রিকশায় ঠেসাঠেসির ঘটনায় মাঝে মাঝে ছিটকে পড়ছেন যাত্রীরা। বড় কোন দূর্ঘটনা না ঘটলেও ছোটখাটো দূর্ঘটায় আহত হওয়ার সংবাদ প্রায়ই পাওয়া যায়।

Manual3 Ad Code

তাছাড়া সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদেরও মনে হয় উদসীনতায় পেয়ে বসেছে। একসময় মধ্যরাতে তাদের কাজ করতে দেখা গেলেও ইদানিং তা আর হচ্ছেনা। চটপটিওয়ালাদের পরিত্যাক্ত নানা আবর্জনায় ব্রিজটি এখন অনেকটা ভাগাড়ে রূপ নিতে শুরু করেছে।

ব্রিজের অন্ধকার দুর করতে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এখানে চটপটিওয়ালারা বসে পরিবেশ নষ্ট করছে। আড্ডাবাজির ছলে নষ্ট হচ্ছে ছেলেমেয়েরাও। আবার বাতিগুলো লাগানো হবে। তবে তার আগে এগুলো যাতে না হয়, তেমন একটা ব্যবস্থা করা হবে।

Manual3 Ad Code

আর ময়লা আবর্জনা পরিস্কার না হওয়ার বিষয়টি মানতে রাজি নয় সিসিক’র পরিচ্ছন্নতা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. হানিফ। তিনি জানান, প্রতিদিনই নাকি ব্রিজটি পরিস্কার করা হয়। শেষ রাতের দিকে তার কর্মীরা কাজ করছেন।

Manual8 Ad Code

তবে সরজমিনে ২/৩ দিন আগের ময়লাও যথারীতি পড়ে থাকতে দেখা যায়। এ বিষেয় তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, খোঁজ নিবো। দেখবো।

চটপটিওয়ালাদের ব্যাপারে প্রচন্ড অসন্তুষ্ট তিনিও। বললেন, ওরাতো আমাদের কথাই শুনেনা। ময়লা ঝুড়িতে সংরক্ষন করতে বলা হলেও তারা তা করছেনা।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..