সিলেট | |
প্রকাশিত: ৭:২৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬
বিশেষ প্রতিবেদক: আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে তিনি বনে যান ‘তুখোড়’ ছাত্রলীগ নেতা, আর ক্ষমতার পালাবদল হলেই পাল্টে যায় তার রূপ, হয়ে ওঠেন ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী। সুবিধাবাদী রাজনীতির এই চরম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সিলেট সদর উপজেলার ৪নং খাদিমপাড়া ইউনিয়নের হাসান আহমদ। যখন যে দল ক্ষমতায়, সেই দলের লেবাস গায়ে জড়িয়ে তামাবিল মহাসড়কের চোরাচালান ও অবৈধ সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণই যার মূল পেশা। রাজনৈতিক এই ডিগবাজির কারণে স্থানীয় ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধান ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক সময়ের দুর্ধর্ষ ছিনতাইকারী ও মাদকাসক্ত হিসেবে পরিচিত হাসান মূলত সিলেট নগরীর ছাত্রদলের একজন প্রভাবশালী নেতার অনুসারী ছিলেন। ২০১৭ সালে সিলেট জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি আমিনুল কবির চৌধুরী সুহেল ও মহানগর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক ইমুর সাথে সরকার পতনের মিছিলে প্রথম সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি। সেসময় ‘শেখ হাসিনার গদিতে আগুন জ্বালো’ স্লোগান দেওয়া সেই হাসানই ২০২২ সালে এক বিতর্কিত ছাত্রনেতার ছত্রছায়ায় হঠাৎ করে ছাত্রলীগে অনুপ্রবেশ করেন। নিজেকে জাহির করতে শুরু করেন ছাত্রলীগের বিশাল নেতা হিসেবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসানের রাজনীতিতে এই অনুপ্রবেশের মূল লক্ষ্য ছিল তামাবিল মহাসড়কের চোরাচালান ও চাঁদাবাজির একক নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সিলেট জেলা ছাত্রলীগের এক নেতার চোরাচালান কারবারে চাঁদাবাজির প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতেন তিনি। সেসময় তিনি হয়ে ওঠেন তামাবিল রোডের চোরাচালান রাজ্যের ‘অঘোষিত মুকুটহীন সম্রাট’।
তবে গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিজের অবৈধ ব্যবসা ও আধিপত্য ধরে রাখতে আবারও ভোল পাল্টান হাসান। রাতারাতি ফিরে যান পুরনো পরিচয়ে, বনে যান ছাত্রদলের কর্মী। অতীতের ছাত্রদলের পরিচয়ের প্রভাব খাটিয়ে বর্তমানেও তিনি তার অবৈধ ব্যবসা দেদারসে চালিয়ে যাচ্ছেন।
হাসানের পরিবারের রাজনৈতিক ও অপরাধমূলক পটভূমিও বেশ বিতর্কিত। তার ভাই হাবিবুর রহমান ডালিম একসময়কার প্রভাবশালী বিএনপি নেতা ও জামান গ্রুপের সদস্য। ২০০৮ সালে চাঁদাবাজির সময় বিদেশি অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ডালিম ২০১৮ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলার মামলারও এজাহারভুক্ত আসামি। ভাইয়ের এই পেশিশক্তিকেও হাসান নিজের প্রভাব বিস্তারে কাজে লাগান বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে গোপন সূত্রের খবর, সম্প্রতি সিলেট জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে জানতে পেরে আবারও ভোল পাল্টানোর চেষ্টা করছেন এই বহুরূপী নেতা। জেলার কমিটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নিতে গোপনে জোর লবিং চালাচ্ছেন তিনি।
হাসান আসলে ছাত্রদলের নাকি ছাত্রলীগের? এ নিয়ে খাদিমপাড়ায় এখন তুমুল আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে তার এই রাজনৈতিক ডিগবাজি ও অনুপ্রবেশের কারণে স্থানীয় ছাত্রলীগের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাঝে ভেতরে ভেতরে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে।
তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করেন, হাসানের মতো সুবিধাবাদী ও ‘হাইব্রিড’ নেতাদের কারণে ছাত্রসংগঠনের সম্মান ক্ষুণ্ন হচ্ছে। ব্যক্তিস্বার্থে দলকে ব্যবহার করা এসব বিতর্কিত ব্যক্তিদের অবিলম্বে বয়কট করা না হলে তৃণমূলের রাজনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd