সিলেট | |
প্রকাশিত: ২:৩০ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :: দেখতে সাধারণ, চলাফেরায়ও তেমন কোনো সন্দেহ জাগার মতো কিছু ছিল না। কিন্তু এই সাধারণ পরিচয়ের আড়ালেই দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচারের একটি চক্র পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে ২৮ বছর বয়সী রেনু বেগমের বিরুদ্ধে।
সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ (রহ.) থানাধীন মীরেরচক এলাকায় স্বামী রুবেল মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে তিনি গড়ে তুলেছিলেন এই চক্র। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটির কাজ ছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ সংগ্রহ করা, তাদের সিলেটে এনে নির্দিষ্ট স্থানে রাখা এবং পরে সুযোগ বুঝে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রেনু ও তাঁর স্বামী সরাসরি সবার কাছে একই কৌশল ব্যবহার করতেন না। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নানা কৌশলে লোকজন সংগ্রহ করতেন তারা। এরপর এসব ব্যক্তিকে সিলেটের শাহপরাণ (রহ.) থানাধীন মীরেরচক এলাকায় নিজেদের বাড়িতে নিয়ে আসা হতো।
একবার সিলেটে আনার পর তাদের রাখা হতো ওই বাড়িতে। এরপর চলত বিদেশে পাঠানোর প্রস্তুতি। সুবিধাজনক সময় ও সুযোগ বুঝে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে তাদের অবৈধ পথে বিদেশে পাচারের ব্যবস্থা করা হতো বলে পুলিশের দাবি।
অর্থাৎ, পুরো প্রক্রিয়াটিতে রেনুদের ভূমিকা ছিল শুধু লোকজনকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ সংগ্রহ, তাদের নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন স্থানে রাখা এবং পরে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা—পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গেই তারা জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মীরেরচকের বাড়িটি ব্যবহার করা হতো পাচারের আগে মানুষজনকে রাখার জন্য। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আনা ব্যক্তিদের বিদেশে পাঠানোর আগ পর্যন্ত সেখানে রাখা হতো।
২ সেপ্টেম্বর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালায় শাহপরাণ (রহ.) থানা পুলিশ। তখন সেখানে থাকা রেনু বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তাঁর স্বামী রুবেল মিয়াসহ চক্রের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যান।
পুলিশের হাতে রেনু গ্রেপ্তার হওয়ার পরই চক্রটির কার্যক্রমের নানা তথ্য সামনে আসে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রেনু ও তাঁর স্বামীকে ঘিরে চক্রটির কার্যক্রম দীর্ঘদিনের বলে পুলিশের ভাষ্য। ফলে তদন্তকারীদের সামনে এখন শুধু রেনুর ভূমিকা নয়, এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত অন্যদের পরিচয় এবং দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ সংগ্রহের পদ্ধতিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কারা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ সংগ্রহ করত, কার মাধ্যমে তাদের সিলেটে আনা হতো, বিদেশে পাঠানোর পরবর্তী ধাপে কারা যুক্ত ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।
এ ঘটনায় ৩ সেপ্টেম্বর শাহপরাণ (রহ.) থানায় ‘মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬’-এর ৭, ৮ ও ১০ ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলার নম্বর ৬।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার রেনু বেগমকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
রেনুর গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে একটি চক্রের কর্মকাণ্ড সামনে এলেও তদন্তের বড় প্রশ্ন এখন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ সংগ্রহ করে মীরেরচকে এনে তাদের বিদেশে পাঠানোর এই নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত, আর এর পেছনে রয়েছেন কারা?
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd