মা-ছেলের লাশ উদ্ধার: তদন্তে দুই বিষয় সামনে রেখে এগোচ্ছে পুলিশ

প্রকাশিত: ৬:৩৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১, ২০১৮

মা-ছেলের লাশ উদ্ধার: তদন্তে দুই বিষয় সামনে রেখে এগোচ্ছে পুলিশ

Manual8 Ad Code

নিজস্ব প্রতিনিধি :: সিলেট নগরীর খারপাড়া আবাসিক এলাকার একটি বাড়ি থেকে মা ও ছেলের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার কারণ সম্পর্কে পুলিশ এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্তে দুইটি বিষয় সামনে রেখে তারা এগোচ্ছে।

Manual6 Ad Code

পুলিশ জানায়, নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের মিতালি ১৫/এ নম্বরের তিনতলা বাড়ির নিচ তলায় দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন রোকেয়া বেগম নামে এক নারী। রবিবার বাড়ির ভেতরে থাকা রোকেয়া বেগমের পাঁচ বছরের মেয়ে রাইসার কান্না ও পচা গন্ধ পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পরে দুপুরে পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে রোকেয়া বেগম ও তার ছেলে রবিউল ইসলাম রোকনে লাশ উদ্ধার করে। রোকেয়া বেগমের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার চকম খলায়।

পুলিশ আরও জানায়, তাদের ধারণা, কয়েকদিন আগে মা ও ছেলেকে পরিকল্পিতিভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার কারণ সম্পর্কে এখনও তারা (পুলিশ কর্মকর্তারা) নিশ্চিত নন। তবে তাদের ধারণা, নারীঘটিত বিবাদ বা মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এ দুই বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত চলচ্ছে।

Manual1 Ad Code

স্থানীয়রা জানান, প্রায় প্রতিদিনই কয়েকজন যুবক মোটরসাইকেলে করে এসে রোকেয়া বেগমের বাসায় যেতো।

খারপাড়া এলাকার শারমিন স্টোরের মালিক নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘রোকেয়া বেগমের ছেলে রোকন মিরাবাজার এলাকার শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। সে খুব ভালো ছেলে। তবে প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যার পর সে আমার দোকান থেকে বেনসন সিগারেট নিয়ে যেতো। আমি তাকে কখনও সিগারেট খেতে দেখিনি। দোকান থেকে সিগারেট নিয়ে সে সরাসরি বাসায় চলে যেতো।’

তিনি আরও বলেন, ‘শনিবার (৩১ মার্চ) রাত ১০টার দিকে সে দোকান থেকে বেনসন সিগারেট নিয়ে যায়। আর আজ রবিবার (১ এপ্রিল) খবর পেয়েছি, রোকন ও তার মাকে কারা বাসার ভেতরে খুন করে রেখে গেছে।’

রোকেয়া বেগমের বাসার মালিক সালমান হোসেন বলেন, ‘মাসে ১৩ হাজার টাকায় আমার বাসার নিচলতলার বাম পাশের অংশটি ভাড়া দিই। বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় রোকেয়া নামের ওই নারী জানান, তিনি পার্লার চালান। তার পার্লার নগরীর পাঠানটুলা এলাকায় রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাসার দরজা ভেতর থেকে লক করা ছিল। পুলিশ আসার পর বিকল্প একটি চাবি দিয়ে ওই লক খোলা হয়।’

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনতলা ভবনের নিচতলায় চার কক্ষের একটি বাসায় থাকতেন রোকেয়া। বাসার বাম দিকের কক্ষে থাকতো রোকন এবং ডান দিকের শেষের প্রান্তের কক্ষে থাকতেন রোকেয়া বেগম। রোকেয়া বেগমের কক্ষে পুরুষের যাতায়াত ছিল, এমন কিছু আলামত পেয়েছে পুলিশ। বিছানার পাশের একটি টেবিলে বেনসন সিগারেটের দু’টি প্যাকেটও পাওয়া গেছে।’

Manual5 Ad Code

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে একাধিক ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ছেলে ও তার মাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পুলিশ রোকেয়া বেগমের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পেয়েছে।’

Manual1 Ad Code

রোকেয়া বেগমের একমাত্র মেয়ে রাইসাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘রাইসাকেও শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। ওই সময় রাইসা হয়তো অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল। এতে হত্যাকারীরা সে মারা গেছে মনে করে চলে যায়।’

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ ঘোষ বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে একাধিক ব্যক্তি জড়িত বলেই আমাদের ধারণা। খুনিরা খুব সম্ভবত্ব নিহতদের পরিচিত। অনেক সময় নিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। মহিলাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর মৃত্যু নিশ্চিত করার জন্য তার শরীরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়।’

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

সর্বশেষ খবর

………………………..