সিলেট | |
প্রকাশিত: ৮:৩১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২২, ২০২৬
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি :: সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ (রহ.) থানাধীন কেওয়া আটগাঁও এলাকায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ রুনা বেগমকে শারীরিক নির্যাতন ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আসামিরা গ্রেপ্তার হননি। এ নিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারে ক্ষোভ, হতাশা ও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, মামলার আসামিরা হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত ২০ এপ্রিল ভুক্তভোগীর ভাই ইমরান আহমেদ শাহপরাণ (রহ.) থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। পরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়। মামলায় দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারার পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ১১(গ)/৩০ ধারা উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় অভিযুক্তরা হলেন- আবুল কালাম (৪৩), জয়তুরি বেগম (৬০), আমিনা বেগম (৪৫), শরীফ (৪০), মিজান (২৯) ও শাহীন (৪৪)। মামলার এজাহারে তাদের ঠিকানা সিলেট মহানগরীর খাদিমপাড়া ইউনিয়নের কেওয়া, আটগাঁও ও পীরের বাজার এলাকার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জৈন্তাপুর উপজেলার পশ্চিম ঠাকুরের মাটি গ্রামের মৃত সিরাজ উদ্দিনের মেয়ে রুনা বেগমের সঙ্গে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে খাদিমপাড়া ইউনিয়নের কেওয়া গ্রামের আবুল কালামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বামী বিদেশে চলে গেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার কাছে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় রুনাকে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে তাকে হারপিক খাওয়ানোর মাধ্যমে হত্যাচেষ্টার অভিযোগও করা হয়েছে। পরে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বামী দেশে ফিরে আবারও ৩ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সর্বশেষ ১৭ এপ্রিল রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আসামিরা রুনার ঘরে গিয়ে যৌতুকের টাকা দাবি করেন। এতে তিনি রাজি না হলে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা এবং মারধরের অভিযোগ করা হয়েছে।
পরদিন ১৮ এপ্রিল স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হয়। পরে পুলিশ ও স্বজনরা ঘটনাস্থলে গিয়ে রুনাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। উদ্ধারকাজে বাধা ও হামলার ঘটনায় বাদীপক্ষের আনোয়ার হোসেন (৩৫) আহত হন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে মামলার অন্যতম আসামি আবুল কালাম বিদেশে চলে যেতে পারেন- এমন আশঙ্কায় তার বিদেশ গমনাগমন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন), স্পেশাল ব্রাঞ্চ, বাংলাদেশ পুলিশ, মালিবাগ, ঢাকায় আবেদন করেছে শাহপরাণ (রহ.) থানা পুলিশ।
মামলার বাদী ইমরান আহমেদ বলেন, তার বোনকে দীর্ঘদিন ধরে যৌতুকের জন্য নির্যাতন করা হয়েছে এবং একাধিকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। বর্তমানে রুনা অসুস্থ অবস্থায় বাবার বাড়িতে রয়েছেন। মামলা তুলে নিতে অভিযুক্তরা প্রাণনাশসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ইমরান আহমেদ আরও বলেন, “মামলা হওয়ার পর দীর্ঘদিন পার হয়ে গেলেও আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। তারা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছেন। এতে আমরা হতাশ এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।”
তিনি জানান, আসামিরা হাইকোর্ট থেকে চার সপ্তাহের জামিন নিয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে থাকলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে শাহপরাণ (রহ.) থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ বলেন, “আসামিপক্ষ হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছে। জামিনের মেয়াদ শেষ হলে আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।”
মামলার দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় বাদীপক্ষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে চলাফেরা নিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd