সিলেট ২৭শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই মহর্রম, ১৪৪৮ হিজরি
প্রকাশিত: ৭:২৯ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক :: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় প্রেমিকের হাতধরে এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী পালিয়ে গেছেন। পালিয়ে গিয়ে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে করেছেন বিয়ে।
এ ঘটনায় সমালোচনার ঝড় বইছে পুরো গোয়াইনঘাট উপজেলায়। প্রবাসীর স্ত্রীর পরকীয়া কান্ড সম্পর্কে সরেজমিন পরিদর্শন কালে স্থানীয় ইউপি সদস্য এখলাছুর রহমান, সদস্য আলাউদ্দিন সহ স্থানীয়রা জানান, গোয়াইনঘাট উপজেলার ৬ নং ফতেহপুর ইউনিয়নের নয়াগ্রাম গ্রামের সেলিম উদ্দিনের ছেলে রুহুল আমিন ২০২২ সালে পারিবারিক ভাবে জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর এলাকার হেমু নায়াগ্রামের খায়রুল্লাহর মেয়ে তাসফিয়া জান্নাত তিশাকে বিয়ে করেন। নবদম্পতির সংসার বছর খানেক সময় খুব ভালভাবেই চলছিল। এরই মধ্যে পিতা-মাতার যৌথ পরিবার থেকে তাদের সংসার আলাদা করেন রুহুল – তিশা দম্পতি। পরিবার আলাদা করেই উন্নত জীবন-যাপনের আশায় স্ত্রী তিশাকে দেশে রেখে ২০২৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবে পাড়িদেন রুহুল আমিন। প্রবাসে গিয়ে দিবারাত্রি পরিশ্রম করে ভালো টাকাই উপার্জন করেন তিনি।
এদিকে তার স্ত্রী তিশা প্রবাসী স্বামীর টাকা হাতে পেয়েই ধীরে ধীরে বিলাসী জীবন-যাপন শুরু করেন এবং পরকীয়া প্রেমে আসশক্ত হয়ে পড়েন। এভাবে কেটে যায় প্রায় দেড় বছর। এরই মধ্যে প্রবাসী রহুল আমিন লোকমুখে স্ত্রী তিশার পরকীয়ার বিষয়ে অবগত হতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত তিনি ছুটি নিয়ে দেশে ফিরতে বাধ্য হন। রুহুল কয়েক মাস দেশে অবস্থান করে পরকীয়া থেকে তিশাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসেন। ছুটি শেষে রুহুল আমিন পুনরায় সৌদিআরবে চলেযান। রুহুল আমিন সৌদিআরবে যাওয়ার কিছুদিন পরেই তিশা পুনরায় পরকীয়ায় আসশক্ত হয়ে পড়েন এবং ৩ মাসের মাথায় সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার শাসন হবি (মা-শাসন) গ্রামের আফরোজ আলীর ছেলে শাহআলমের সাথে নগদ টাকা ও স্বর্নলংকার সহ ৮ লক্ষ টাকা নিয়ে পালিয়ে যান। অপর দিকে প্রবাসী স্বামী রুহুল আমিনকে তালাক না দিয়েই ২০২৫ সালের ১৮ মে নোটারী পাবলিকের মাধ্যমে কোর্টে প্রেমিক শাহ আলমের সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এ ঘটনায় প্রবাসী স্বামী রুহুল আমিন মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়েন। টাকা,স্বর্নলংকার লুট ও স্ত্রীর পালিয়ে বিয়ে রুহুল আমিন কোন ভাবে মেনে নিতে পারছেনা।
অপর দিকে প্রেমিক শাহ আলমকে বিয়ে করেও ক্লান্ত হননি তাসফিয়া জান্নাত তিশা। তার প্রবাসী স্বামী রুহুল আমিনকে বেকায়দায় ফেলতে সিলেট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্যট ১০ নং আমলী আদালতে প্রবাসী স্বামী রুহুল আমিনকে প্রধান আসামি করে মোট চার জনের বিরুদ্ধে একটি সিআর মামলা দায়ের করেন। যাহার নং ৩৮৬/২০২৬।
সিলেট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্র্যট ১০ নং আমলী আদালতের নির্দেশক্রমে গোয়াইনঘাট থানার এসআই মোজাম্মেল হক মামলাটির তদন্তভার পেয়ে সরেজমিন পরিদর্শন পূর্বক স্থানীয় ও নিরেপক্ষ স্বাক্ষীর মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা না পেয়ে অভিযুক্ত আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে ২০২৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারী সিলেট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১০ নং আমলী আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করেন।
গোয়াইনঘাট থানার এসআই মোজাম্মেল হক কতৃক কোর্টে প্রেরীত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে না-রাজি দেন ওই প্রবাসীর স্ত্রী তাসফিয়া জান্নাত তিশা। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১০ নং আমলী আদালত বাদীর না-রাজির বিষয়টি আমলে নিয়ে স্বাক্ষীদের জবানবন্দি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, খসড়া মানচিত্র তৈরী ও আলামত জব্দ করে পুনরায় তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য গোয়াইনঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রনিকে দায়িত্ব প্রদান করেন। গোয়াইনঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রনি দায়িত্ব প্রাপ্ত হয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করেই কোর্টে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরন করেন।
এ বিষয়ে প্রবাসী স্ত্রী তাসফিয়া জান্নাত তিশার সাথে কথা বলতে চাইলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। সৌদি আরব প্রবাসী রুহুল আমিন জানান, তিশার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর আমাদের সংসার ভালোই ছিল। তার কথায় পিতামাতার যৌথ সংসার থেকে আলাদা হয়েছি। পেটের তাড়নায় প্রবাসে আসারপর তিশা ধীরে ধীরে পরকীয়া আশক্ত হয়ে পড়ে। আমার প্রবাস জীবনের সমস্ত উপার্জন স্বর্নলংকার সহ আমার প্রায় ৮ লক্ষ টাকা নিয়ে পালিয়ে গিয়ে শাহভআলমকে বিয়ে করেছে। আমার আর্থিক ও মানসিক এত ক্ষয়ক্ষতি করেও সে ক্লান্ত হয়নি। এখন আমি এবং আমার পরিবার ও আত্মীয় স্বজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্থানে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। আমি ন্যায় বিচার চাই।
এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রনি বলেন সিলেট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১০ নং আমলী আদালত বাদীর অভিযোগের বিষয়ে শুধুমাত্র বাদী এবং বাদীর নির্ধারিত স্বাক্ষীর জবানবন্দি নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন। নির্দেশ অনুযায়ী তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে। কোর্ট কতৃক স্বাক্ষীদের জবানবন্দি, ঘটনাস্থল পরিদর্শন, খসড়া মানচিত্র তৈরী ও আলামত জব্দ করে পুনরায় তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণের নির্দেশ থাকার পরও আপনি কেন অফিসে বসে একতরফা প্রতিবেদন দিলেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি কোন উত্তর দেননি।
Sharing is caring!


………………………..

Design and developed by best-bd