চাঁদনীঘাটে আহমদিয়া পরিবারের দুই সদস্যের ওপর হামলার অভিযোগ

প্রকাশিত: ১১:২৪ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৪, ২০২৬

চাঁদনীঘাটে আহমদিয়া পরিবারের দুই সদস্যের ওপর হামলার অভিযোগ

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি :: মৌলভীবাজারের চাঁদনীঘাট বাজারে একটি আহমদিয়া মুসলিম পরিবারের দুই সদস্যের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বদরুল ইসলাম বদর ও তাঁর কয়েকজন সহযোগীর বিরুদ্ধে। সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আব্দুল সহিদ খাঁন মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং তাঁর ছেলে মোঃ আব্দুস সামাদ খান রুমান মারধরের শিকার হন বলে পরিবারের অভিযোগ।

পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, আব্দুল সহিদ খাঁন ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে চাঁদনীঘাট বাজারে গিয়েছিলেন। এ সময় বদরুল ও তাঁর সহযোগীরা তাঁদের পথরোধ করে কানাডায় থাকা আব্দুল সহিদের মেয়ে পাপিয়া খানমের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য জানতে চান।

তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালে কানাডা থেকে পাপিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনা, তাঁর স্বামী জুয়েল আহমদকে তালাক দেওয়ানো এবং বদরুলের সঙ্গে তাঁর বিয়ের ব্যবস্থা করার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। রুমান প্রতিবাদ করলে একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও মারধর শুরু হয়। ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে বদরুল কাঠের লাঠি দিয়ে আব্দুল সহিদের মাথায় আঘাত করেন বলে পরিবারের দাবি। এতে তিনি রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে পড়ে যান।

স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহত আব্দুল সহিদকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, “হঠাৎ বাজারে হৈচৈ শুনে এগিয়ে গিয়ে দেখি একজন বয়স্ক ব্যক্তি মাথায় আঘাত পেয়ে পড়ে আছেন। তাঁর মাথা দিয়ে রক্ত ঝরছিল। আমরা কয়েকজন মিলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠাই।”

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ নুরুল আমিন বলেন, “একজন নারীর ধর্মীয় পরিচয় বা তাঁর বিয়ে নিয়ে পরিবারের ওপর এভাবে চাপ সৃষ্টি করা খুবই উদ্বেগজনক। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার।”

জানা গেছে, পাপিয়া খানম আহমদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য, আর তাঁর স্বামী জুয়েল আহমদ সুন্নি মুসলিম পরিবারের। ২০১৭ সালে তাঁদের বিয়ের পর পাপিয়ার ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ পেলে বিয়ে ভেঙে দেওয়া এবং তাঁকে আহমদিয়া বিশ্বাস ত্যাগ করে সুন্নি মত গ্রহণের জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তী সময়ে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে পাপিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা হুমকি, সামাজিক অপমান ও হয়রানির শিকার হন। একপর্যায়ে পাপিয়া ও তাঁর স্বামী নিরাপত্তার কারণে বাংলাদেশ ছেড়ে কানাডায় চলে যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বদরুল ইসলাম বদর অতীতে মৌলভীবাজার জেলা যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক

পটপরিবর্তনের পর তিনি স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হন এবং পাপিয়ার পরিবারকে চাপ দেওয়া অব্যাহত রাখেন।

অভিযোগের বিষয়ে বদরুল ইসলাম বদরের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মৌলভীবাজার সদর মডেল থানার পক্ষ থেকেও এ ঘটনায় কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর স্থানীয় আহমদিয়া মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং পরিবারটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

Sharing is caring!

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

বিজ্ঞাপন

আর্কাইভ

March 2026
S S M T W T F
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031  

সর্বশেষ খবর

………………………..